...কবির দৃষ্টিতে শূন্যতা পূর্ণতার ‘প্রতিবেশী’। অর্থাৎ শূন্যতা ও পূর্ণতা পরস্পরের সম্পূর্ণ বিপরীত নয়; তারা পাশাপাশি বসবাস করে। এই উপলব্ধি কবির কবিতাকে নিছক আবেগের জায়গা থেকে দার্শনিকতার দিকে নিয়ে যায়। হারানোর মধ্যেও প্রাপ্তি আছে, একাকিত্বের মধ্যেও আত্মআবিষ্কার আছে, শূন্যতার মধ্যেও অন্য এক পূর্ণতার সম্ভাবনা আছে—এই বোধটি কবির কবিতায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
-
-
সাজানো-গোছানো সংসার/ ভীষণ পরিপাটি, অথচ—/ চোখের-জল কতটুকু গড়ায়/ জানে শুধু শিথানের বালিশ!
-
হয়তো আমি/ কোনও নক্ষত্রের কক্ষপথ থেকে/ খসে পড়া এক নির্বাসিত স্ফুলিঙ্গ;/ অথবা/ আলোর ইতিহাসে নাম না-থাকা এক বাদুড়,/ যে কেবল অন্ধকারের ভাষা পড়তে জানে।
-
একজন মননশীল লেখক বাস্তবের মানুষটার চুল-চামড়া-দাঁতের কালো দাগসহ তাঁর লেখায় খুব বেশি হলে ছায়াটুকু নিতে পারেন, অবশ্যই কোনো স্থিরচিত্র নয়। আর কী কী দিতে পারেন? দেবেন তো তাঁর পবিত্র আত্মা থেকে! মনোবিজ্ঞানীর চোখ, কুকুরের মতো ঘ্রাণশক্তি আর দরদি আত্মা দিয়ে সময়চেতনার টানটান তার দিয়ে বাঁধতে পারেন ছোটগল্প নামের দোতারাটা।
-
জানি হাঁটারও একাগ্রতা আছে। তারপর ভাবছি যতগুলো মুখ দৃষ্টির জালে ওঠে, ততগুলো কবিতায় না জাগালে ক্ষতি নেই! চোখের পাশে দাঁড়ানো আর নিজের ভেতর নিজেকে তাড়ানো কখনো একই আবর্তে আসে না;—যদি না স্পর্শ থেকে তৃপ্তি আসে...