এখন আর আমরা অপরিহার্য শব্দ আর অর্থের মধ্যে ঘুরপাক না খেয়ে শব্দের-অতীত ‘চেতনা’য় আশ্রয় খুঁজি। অর্থাৎ বস্তু বা শব্দের অর্থদ্যোতনার চেয়ে শব্দাতীত অনুষঙ্গের প্রতি পাঠকের অভিনিবেশ অধিকতর মাত্রায় লক্ষণীয়।
-
-
কুয়াশাভোরে— / পৃথিবী যেন স্বপ্নে / খামখেয়াল।
-
এরকম কিছু পঙক্তি আলোর রোশনাই হয়ে বইটিকে দ্যুতি দিয়েছে। নাজমুল হক নাজুর ভাষানির্মাণ জটিল নয়। সরল-সংযত এক ভাষাপৃথিবীতে বসে কবিতাগুলো লিখেছেন কবি। চিত্রকল্পে ভাবালুতার প্রয়োগ চোখে পড়বে। উৎপ্রেক্ষা-রূপক ও উপমারা মিলে ধ্রুপদি এক আমেজ যেন এভাবে পাঠককে উপহার দিতে চেয়েছেন। গতিপথের এই সহজযাত্রা মনের দরজায় কড়া নেড়ে যায়।
-
সকালে ঘুম ভেঙে ভিখু দেখে অন্য এক জগৎ।... নতুন বেশ ও ভূষণে মাথার চুল আঁচড়ে ও সিঁথি সাজিয়ে সিঁদুর মেখে নতুন এক পাঁচী হয়ে উঠেছে সে। গ্রামবাংলার কোনো ভাদ্রবধূর মুখ কখনো দেখেনি ভিখু। ওর মনে হতে থাকে, ওকি সেই পাঁচী, যাকে সে স্বপ্নের ঘোরে একটা এক হন্দর শস্যের থলের মতো অনন্তকাল ধরে পিঠে বয়ে বেড়িয়ে চলেছে?
-
সে এক কঠিন ভাষা;/ যেখানে ছাই হল বিরামচিহ্ন/ আর/ শিখা পুনর্লিখনেরই আরেক নাম।