নরোম ফ্যাকাশে গালের ওপর রোদের ছটা পিছলে যাচ্ছে, আর সবুজ রংয়ের চোখের তারায় কী যেন খেলা করছিল! আমি স্থানু হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম কিছুক্ষণ। মাথা কাজ করছে না। ধমনী হিম হয়ে আসছিল তাকে দেখে। মেয়েটি এই গ্রহের জীব নয়! সুদূর অচেনা থেকে ঈশ্বর তাকে পাঠিয়েছেন মানুষের লীলা দেখতে!
-
-
দুই উরুর মধ্যবর্তী দূরত্ব পাখির চোখ করে বনভূমিকে অবলোকন ও ধারণ করছে। যেন-বা বনভূমি নিশ্চিত নয়, আগন্তুক প্রকৃত অর্থে কে অথবা কী তার পরিচয়!
-
মহাবিশ্বের পরিণতি ও ভূত-ভবিষৎ নিয়ে গুরুতর কিংবা বোকাসোকা প্রশ্নের জবাব বালকটি এভাবে জিভ বের করে দিতে জানে। আমার মনে পড়ছিল গণিতে আবারো ডাহা ফেল বালক আইনস্টাইনের কান পাকড়ে জানতে চাইছি.—মহাবিশ্বের সূত্র সে মিলাতে পেরেছে কি-না! তার কাছে একে কী মনে হয় দেখে। মহাবিশ্ব আসলেই দেখতে কেমন! বালক তার দুষ্টুমিভরা চোখ বড়ো করে তুলেছিল, আর জিভ বের করে বুঝিয়ে দিয়েছিল,—মহাবিশ্ব আসলেই…
-
এখন দুইহাজার পঁচিশ চলে। রাহমান তাঁর কবিতাটি ইরাকে উৎসর্গ করবেন বলে মনস্থির করেছেন। ঘুরছেন ঢাকা শহর।... কবি দেখলেন,—রাজু ভাস্কর্যে ইরা ঝুলছে। ধর্ষিতা ব্যালেরিনা আসাদের রক্তমাখা শার্টের মতো হাওয়ায় পতপত করে উড়ছে যেন! সব অবিকল ঊনসত্তর! প্রতিটি দরজা কাউন্টার কনুইবিহীন! তবু তা ঊনসত্তর নয়। না তাকে দুইহাজার বাইশ বলা যায়! ইরা সেদিন মুক্তির আনন্দে শরীর ভাসিয়ে দিয়েছিল হাওয়ায়।
-
মনে-মনে ঠিক করে ফেলি, এই ছবিটা দিয়ে কাজ চালিয়ে নিতে হবে। শরবত গুলাকে আপাতত কাবুলিওয়ালার মেয়ে বলে চালিয়ে দেবো। অদ্ভুত এই মুখচ্ছবিতে তার কৌতূহল হয়তো কিছুটা হলেও কমবে। অনেকগুলো ছবি থেকে ভালো দেখে একটি প্রিন্ট দিয়ে ঘুমাতে যাই।