জলহীন আকাশ থেকে ঝরে-পড়া কোনও পাখির শেষ স্মৃতির মতো, ভোরে জানালায় পড়ে ছিল একটি সাদা পালক। সারাদিন সেটি হাতে নিয়ে বসে রইলাম। কোনও শব্দ শোনা গেল না।
-
-
...কবির দৃষ্টিতে শূন্যতা পূর্ণতার ‘প্রতিবেশী’। অর্থাৎ শূন্যতা ও পূর্ণতা পরস্পরের সম্পূর্ণ বিপরীত নয়; তারা পাশাপাশি বসবাস করে। এই উপলব্ধি কবির কবিতাকে নিছক আবেগের জায়গা থেকে দার্শনিকতার দিকে নিয়ে যায়। হারানোর মধ্যেও প্রাপ্তি আছে, একাকিত্বের মধ্যেও আত্মআবিষ্কার আছে, শূন্যতার মধ্যেও অন্য এক পূর্ণতার সম্ভাবনা আছে—এই বোধটি কবির কবিতায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
-
সাজানো-গোছানো সংসার/ ভীষণ পরিপাটি, অথচ—/ চোখের-জল কতটুকু গড়ায়/ জানে শুধু শিথানের বালিশ!
-
মধুরবান্ধা গানকে কেবল অপেশাদার বা আঞ্চলিক গান হিসেবে দেখলে ভুল হবে। নৃবিজ্ঞান ও লোকদর্শনের বিচারে এটা ভাটিবাংলার সাধারণ মানুষের আত্মপরিচয়, আধ্যাত্মিক আশ্রয় এবং সামাজিক জীবনধারার স্থায়িত্ব রক্ষার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। মধুরবান্ধা গানের দর্শন উচ্চমার্গীয় শুষ্ক উপনিষদিক দর্শন নয়;—এটা হলো ‘সহজিয়া দর্শন’।
-
হয়তো আমি/ কোনও নক্ষত্রের কক্ষপথ থেকে/ খসে পড়া এক নির্বাসিত স্ফুলিঙ্গ;/ অথবা/ আলোর ইতিহাসে নাম না-থাকা এক বাদুড়,/ যে কেবল অন্ধকারের ভাষা পড়তে জানে।