ওসমানী ভাই বলেন,—বুঝলেন জাভেদ, পৃথিবীটা অদ্ভুত! এই-যে এত হিংসা, হানাহানি, লোভ,—মানুষে মানুষে এই-যে এত বিভক্তি,—জীবন তবু সুন্দর। আর, এই সুন্দরের মূল কারণ হচ্ছে ‘মায়া’। মায়াই জীবনটাকে বেঁধে রেখেছে। যে-লোক এই মায়াকে উপলব্ধি করতে জানে না, সেই লোকটা জীবনের সবচেয়ে বড়ো রহস্য থেকে বঞ্চিত। জীবনকে উপভোগ করা জানতে হয়, বুঝলেন। সকলে তা পারে না।
-
-
সুখকর লেগেছে দৃশ্যটি দেখে,—কিছু অস্ট্রেলিয়ান বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা গায়ে জড়িয়ে ‘আমার সোনার বাংলা’ গানের সঙ্গে তাল দিচ্ছে। কবে এমন দিন দেখেছে বাংলাদেশ! একমাত্র খেলা হয়তো পারে সীমানাকে অচল করে ভালোবেসে কাউকে হৃদমাঝারে আপন করে নিতে।
-
...তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সামনে ১২০ মিনিটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে মাথা নত করেনি একবারও। দুবার পিছিয়ে পড়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় ফেরত এসেছে। ওরা যেন প্রতিবার বলছিল, ‘আমরা এখনও বেঁচে আছি, টিকে আছি।’ কেপ ভার্দে যেন মাথা নোয়াতে আসেনি। ফুটবলে ভাগ্য বলে একটা কথা আছে, দলটির বেলায় সেই কথাটা যেন সত্যি হলো। খেলা নয়, ভাগ্যের কাছে হেরে গেছে দলটি!
-
ক্রীড়া গবেষণার ভিত সবল না-হলে ক্রীড়াসাহিত্য একটা দেশে কখনো মজবুত হয় না। আমাদের এখানে ফুটবল, ক্রিকেট থেকে আরম্ভ করে অন্য খেলায় যেসব ঘটনা ও চরিত্রদের এ-পর্যন্ত পাচ্ছি, এসব নিয়ে মনে রাখার মতো রচনায় তাই ঘাটতি অনেক। খেলাকে ঘিরে আবর্তিত সমাজ-মনস্তত্ত্ব অনুসন্ধানের তাগিদ গড়ে ওঠেনি। রসেবশে সরস রচনার খামতি যে-কারণে আফসোসের তালিকা দীর্ঘ করে যায়।
-
রোনালদোর অভিধানে এরকম মেসিতে মসিময় ‘আবেগ’ দর্শক কখনো দেখেছে বলে আমার অন্তত অজানা। ‘আবেগ’কে সম্ভবত ভিতরে গুম করে মাঠে নামে সিআর সেভেন। নিজের স্ট্রাগলকে পারতপক্ষে সামনে আনে না। মুখের রেখা দেখে বোঝার উপায় থাকে না এই লোকটা মাঠে খেলতে নেমে চোখের আসু কবে বা কোনোদিন মুছেছিল কি-না!