কবি যদি সমাজের চালচিত্র পরিবেশক হন, তাহলে পথ দেখিয়ে দেওয়াটাও তাঁর আরেকটা কাজ। কোন পথে মানুষের পরিত্রাণ ঘটবে! কোন দিকে মানুষ যাবে! সময়ের জাঁতাকলে বেঁচে থাকার উপায় কী? এসব জিজ্ঞাসা নিশ্চয় কবিকে ভাবিত করে। সেই তাড়নায় কবিতা নির্দেশের চেহারা নিতেই পারে। প্রায় সব কবিই নির্দেশ দিয়ে থাকেন, কেউ প্রত্যক্ষ কেউ ইশারায়।
-
-
এখন আর আমরা অপরিহার্য শব্দ আর অর্থের মধ্যে ঘুরপাক না খেয়ে শব্দের-অতীত ‘চেতনা’য় আশ্রয় খুঁজি। অর্থাৎ বস্তু বা শব্দের অর্থদ্যোতনার চেয়ে শব্দাতীত অনুষঙ্গের প্রতি পাঠকের অভিনিবেশ অধিকতর মাত্রায় লক্ষণীয়।
-
কুয়াশাভোরে— / পৃথিবী যেন স্বপ্নে / খামখেয়াল।
-
এই ধামাইল গানের নাচে যে-শৈল্পিক দুরন্তপনা ও তেজোদীপ্ত ভাব রয়েছে, আমি তা অন্য কোনো নৃত্যগীত নির্ভর গানে এতটা মূর্ত ও জীবন্ত দেখিনি! ঘুমভাঙা চোখ মুহূর্তে চনমনে নেশায় পড়ে যায়! মনে হয় কিছু কিছু গান যেন নাচকে প্রাধান্য দেওয়ার খেয়াল থেকে পদকর্তারা তৈরি করেছেন। যেখানে, তাঁদের গুরুর নামধাম অজ্ঞাত। লোকনৃত্যের অমূল্য এই রতনকে তাই সময় থাকতে সংরক্ষণ করা জরুরি।
-
এরকম কিছু পঙক্তি আলোর রোশনাই হয়ে বইটিকে দ্যুতি দিয়েছে। নাজমুল হক নাজুর ভাষানির্মাণ জটিল নয়। সরল-সংযত এক ভাষাপৃথিবীতে বসে কবিতাগুলো লিখেছেন কবি। চিত্রকল্পে ভাবালুতার প্রয়োগ চোখে পড়বে। উৎপ্রেক্ষা-রূপক ও উপমারা মিলে ধ্রুপদি এক আমেজ যেন এভাবে পাঠককে উপহার দিতে চেয়েছেন। গতিপথের এই সহজযাত্রা মনের দরজায় কড়া নেড়ে যায়।