• পোস্ট শোকেস - হাওরপুরাণ

    চেনা গান, অচেনা গীতিকার-৫ : সজল কান্তি সরকার

    তার কথায় বাধা দেই আমি : ‘কেন? কবি না আপনি, এইটা কে বলল? কবি হইতে গেলে কী লাগে? কোনো বংশ? নাকি কবির ঘরে কবি জন্মে? আপনার কী ধারণা? কবি হইতে গেলে বেশি পড়াশোনা লাগে?’ তিনি মাথা নেড়ে আমার প্রশ্নের মোক্ষম জবাবটাই দিলেন! কবি হইতে গেলে এসব কিছু লাগে না; তা তিনি বোঝেন, আর আমাকেও বোঝালেন। আমি তার কথায় জোর দিতেই বলছি তখন : ‘কবি তো সেই হতে পারে, যে কবিতা লিখতে পারে; যার লেখার জ্ঞান আছে। যেমন, আপনি গান লিখছেন, আপনি গীতিকার!’

  • পোস্ট শোকেস - হাওরপুরাণ

    সরস্বতীকথা : সজল কান্তি সরকার

    বাগ্দেবীতে রূপান্তরিত হয়। সরস্বতী শব্দের অর্থ বাগদেবী, বাক্য-ভারতী, বাণী ও প্রাচীন নদীবিশেষ। তিনি জ্ঞান, সংগীত, শিল্পকলা, বুদ্ধি ও বিদ্যার দেবী। সরস্বতী শব্দটি ‘সার’ এবং ‘স্ব’ দুটি শব্দে গঠিত। আবার যা ‘সুরস বতি’ সংস্কৃত শব্দ থেকে এসেছে। যার অর্থ জলের আধার। ঋগ্বেদে উল্লেখ আছে : ‘অম্বিতমে নদীতমে দেবীতমে সরস্বতী।’

  • পোস্ট শোকেস - হাওরপুরাণ

    চেনা গান, অচেনা গীতিকার-৪ : সজল কান্তি সরকার

    ধামাইল গীতাশ্রয়ী গান। আগের গানে ভণিতা নাই। ধামাইল গানের কেউ একক জনক-টনক নাই। গীতনি মেয়েরাই ধামাইল গানের জনক-জননী। রাধারমণের গান মেয়েরা গেয়ে ধামাইলে রূপ দিছে বা জনপ্রিয় করছে। রাধারমণ ধামাইল হিসেবে গান লিখেননি। তিনি রাধা-কৃষ্ণবিচ্ছেদে গান লিখছেন। অনেক বাউল গানও এখন ধামাইল ঢংয়ে গাওয়া হয়।

  • পোস্ট শোকেস - হাওরপুরাণ

    চেনা গান, অচেনা গীতিকার-৩ — সজল কান্তি সরকার

    তাই লোকগীতগুলো রচনাশৈলীল দিক থেকে দুটি অনুশাসনের গাঁথুনিতে বেশি প্রকাশ পায় : ১. মুখ্যাদ্যিয়া; ২. মহলা। পর্বের উপাচার, সময়কাল, আশপাশ ও অনুষঙ্গ বিবেচনায় আসরে তাৎক্ষণিক নারীদের মুখে-মুখে রচিত গীতকেই মুখ্যাদ্যিয়া গীত বলে। এ ধরনের গীত রচনায় একে অন্যের মুখ থেকে কেড়ে নিয়ে পদ তৈরি করে গীতকে সমৃদ্ধ করতে পারে। গীতে যেহেতু গীতিকারের বাহাদুরি নাই, সেহেতু সকলেই গীতের স্রষ্টা। তাই মিলেমিশে গীত রচনা কারও অপারগতা নয়, বরং সফলতা ও সমৃদ্ধির অহংকার।

  • পোস্ট শোকেস - হাওরপুরাণ

    চেনা গান, অচেনা গীতিকার-২ — সজল কান্তি সরকার

    ললিতা নামে কত গান আমরা মা-খুড়ির মুখে শুনি। কিন্তু কে সেই ললিতা কে জানে! এমনও হইতে পারে, গাঁও-গেরাম যে-মহিলারা গোপনে গান লেখে তারাই ললিতা! … অবাক হওয়ার কিছু নাই। গান লিখলে সাধনা লাগে, লেখাপড়া লাগে। তাই আগে গাঁয়ের সাধারণ মহিলারা গান লেখলেও লজ্জায় প্রকাশ করছেন না। শুনছি তারা নানাজনের নামে গান চালাইয়া দিছে। কি আর করবে বলো? গান তো গাইতে হইবো। নিত্য-নতুন এত গান পাইতো কই? না লিখে উপায় আছে!