মাঝে মাঝে বানভাসি হয় আমার শিশুমন — ভাসে আমার খাড়ুবিল প্রান্তর... তবুও আমরা কাল কাল শতাব্দীর হিসাবনিকাশ ভুলচুক শেষ করে দূর জোয়াই পাহাড়ে শকটের আগুন দেখে বুঝে নিই এই পৃথিবীর সব মানুষের হৃদয় — স্নিগ্ধ নয় বরং ভীতসন্ত্রস্ত... মানুষের গুণ আকাশের মতো নির্মল অনন্ত নক্ষত্র...
-
-
সুতরাং বলা যায়, ভাষার যোগ-বিয়োগ কিংবা ভাষার নড়েচড়ে বসাই মূলত ‘সাহিত্য’। অর্থাৎ ভাষাই সাহিত্যের অনুঘটক। অথচ কখনো কখনো এই ভাষাই সম্পূর্ণ লেখকসত্তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে। যা লিখছি তার সাথে হয়তো স্বতঃস্ফূর্ত কোনো সংযোগ নেই অথবা পুরো ঘটনাটাই আকস্মিক।
-
এসো, কিছুটা বসি গিয়ে বারান্দায় অন্ধকারের কাছে।/ যদি দেখি জোনাকিজ্বলা সময়ের খাদে ত্যক্ত হয়ে উঠেছে/ হাড়মাস—তবে না-হয় চলে যাব কোনও গিরিপথে।
-
পেইনটা এখানে-যে,—নিজের গঠন ও অবয়বে হোটেলটি যেসব পূর্বস্মৃতি বা পূর্বজন্মের অনুভূতি সরবরাহ করছে, সেখানে কোনো বাছবিচারের জায়গা নেই। ভালোমন্দ সবটাই হোটেলে ঘূর্ণির মতো ঘটে চলে। এমন এক ফাঁদ এই হোটেল, যেখানে প্রবেশের পর বেরুনোর পথ খুঁজে পায় না কেউ! হোটেলটি হয়ে ওঠে ভূতুড়ে ও রহসময়! জীবন সেখানে স্পন্দিত, কিন্তু তা কি জীবন, নাকি জীবনের মিম?—প্রশ্নের উত্তরটা ঝাপসাই থাকে গানে!
-
এভাবে ব্ৰহ্মাণ্ড-বিজ্ঞানকে কবিতায় আনলেন মাত্র কয়েকটি শব্দে। মানুষের চলাচলের তুলনায়। আমাদের জন্ম স্থিতি লয় মাত্র কয়েক বছরের। মহাবিশ্বের উপকরণের জন্ম স্থিতি লয় লক্ষ কোটি বছরের। সময়ের ব্যবধান থাকলেও জন্ম পরে যাত্রা যেন এক। সেই অকল্পনীয় চিন্তাচেতনায় কলম চালিয়েছেন জীবনানন্দ। সময়ের থেকে বহু বহু এগিয়ে থাকা নির্জনতম বলে আখ্যায়িত এক কবি।