মধুরবান্ধা গানকে কেবল অপেশাদার বা আঞ্চলিক গান হিসেবে দেখলে ভুল হবে। নৃবিজ্ঞান ও লোকদর্শনের বিচারে এটা ভাটিবাংলার সাধারণ মানুষের আত্মপরিচয়, আধ্যাত্মিক আশ্রয় এবং সামাজিক জীবনধারার স্থায়িত্ব রক্ষার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। মধুরবান্ধা গানের দর্শন উচ্চমার্গীয় শুষ্ক উপনিষদিক দর্শন নয়;—এটা হলো ‘সহজিয়া দর্শন’।
-
-
হয়তো আমি/ কোনও নক্ষত্রের কক্ষপথ থেকে/ খসে পড়া এক নির্বাসিত স্ফুলিঙ্গ;/ অথবা/ আলোর ইতিহাসে নাম না-থাকা এক বাদুড়,/ যে কেবল অন্ধকারের ভাষা পড়তে জানে।
-
পুব পশ্চিম কোনো ব্যাপার? বলা যায় না, ওঁদের কেউ বাংলাদেশে তৈরি বানিয়ান পরেছিলেন কিনা। জানলে বাসেত খানকে বলতাম। তবে আমরা সবাই আবার মেড ইন ইন্ডিয়া পরা লোক! আর সব পরিচয় মুছে আদতে ভারতীয়। আর বিদেশের মাটিতে একজন ভারতীয়কে দেখলে আমার ঠিক যে আনন্দ, ওঁদেরও তো সেই আনন্দ!
-
পাখি গায় না কাউকে শোনানোর জন্য; গায়, কারণ গানই তার স্বভাব। মানুষের কানে কখনও সেই গান আনন্দের, কখনও বেদনার, কখনও আবার এক অজ্ঞাত শূন্যতার প্রতিধ্বনি হয়ে ধরা দেয়। এই অনিশ্চিত অনুভবের গভীরতাই মানুষের অবচেতনকে নীরবে স্পর্শ করে, তাকে নিজের অন্তর্জগতের মুখোমুখি দাঁড় করায়।
-
একজন মননশীল লেখক বাস্তবের মানুষটার চুল-চামড়া-দাঁতের কালো দাগসহ তাঁর লেখায় খুব বেশি হলে ছায়াটুকু নিতে পারেন, অবশ্যই কোনো স্থিরচিত্র নয়। আর কী কী দিতে পারেন? দেবেন তো তাঁর পবিত্র আত্মা থেকে! মনোবিজ্ঞানীর চোখ, কুকুরের মতো ঘ্রাণশক্তি আর দরদি আত্মা দিয়ে সময়চেতনার টানটান তার দিয়ে বাঁধতে পারেন ছোটগল্প নামের দোতারাটা।