হ্যারল্ড রশীদের ছবি স্পিরিচুয়াল ক্যাথারসিসে গমন করতে অভ্যস্ত। দুই-একটি বাদ দিলে সবগুলো ছবি যে-কারণে পরস্পরের প্রতিধ্বনি। একটা লোকের মনোজগৎকে প্রতিভাসিত করছে তারা। আঁকার গুণে যা আবার কেবল তার নিজের থাকেনি। দর্শককে ওই জগতে ঢুকিয়ে নিচ্ছেন হ্যারল্ড। তাঁর আঁকা জগৎ-ফাঁদে দর্শক বন্দি বটে! আমাদের শিরদাঁড়ায় একটা স্পাজম টের পাইয়ে দিচ্ছে এই লোক!
-
-
মহাভারতের শঙ্খধ্বনি নীরব হল,/ যুদ্ধ শেষ হলো না মানুষের মধ্যে।/ আমরা আয়নায় মুখ দেখি—/ কোথাও-না-কোথাও দুর্যোধন থাকে।
-
বৈঠাহীন আক্কেল আলী মাঝগোড়ায় বসে অসহায়। কর্ম নেই। যুদ্ধের ময়দানে অস্ত্র ছাড়া সেনাপতি। তাই মাঝেমাঝে এর-তার বৈঠা চাইছে, কিন্তু কেউ দিচ্ছে না। এখানে কর্মই ধর্ম। তাই কেউ বৈঠা ছাড়তে রাজি নয়। সবাই বলছে ‘যে-আক্কলে বৈইডা আনছচ্ না, হেই আক্কলে বৈয়া থাক।’
-
...জেন এমন এক বিশ্বদৃষ্টি, যেখানে কোনোকিছু তার নিজেকে কেন্দ্র করে তুলছে না। কোনোকিছু নিজের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতেও অধীর নয়। চূড়ান্ত ক্ষমতা হয়ে চেপে বসার বাতিকও তার নেই। এই জেন হলো ঈশ্বরবিহীন, উদ্দেশ্যবিহীন ও ক্ষমতাবিহীন, তবে এটা কিন্তু নৈরাশ্যবাদী নয় কোনোভাবে। এই জেন একধরনের খোলা, নির্ভার, নীরব উপস্থিতির পথ দেখায় আমাদের।
-
ক্রীড়া গবেষণার ভিত সবল না-হলে ক্রীড়াসাহিত্য একটা দেশে কখনো মজবুত হয় না। আমাদের এখানে ফুটবল, ক্রিকেট থেকে আরম্ভ করে অন্য খেলায় যেসব ঘটনা ও চরিত্রদের এ-পর্যন্ত পাচ্ছি, এসব নিয়ে মনে রাখার মতো রচনায় তাই ঘাটতি অনেক। খেলাকে ঘিরে আবর্তিত সমাজ-মনস্তত্ত্ব অনুসন্ধানের তাগিদ গড়ে ওঠেনি। রসেবশে সরস রচনার খামতি যে-কারণে আফসোসের তালিকা দীর্ঘ করে যায়।