আধুনিক যুগে কাজ ধীরে ধীরে জীবনের কেন্দ্র দখল করে নিয়েছে। ধর্মীয় শৃঙ্খলা, পুঁজিবাদের উত্থান ও শিল্পযুগের যান্ত্রিক সময় মিলিয়ে মানুষকে এমন এক কর্মজীবনে ঠেলে দিয়েছে, যেখানে অবসর আর স্বাধীনতায় রঙিন নয়; এক বরং অপরাধ বলে ভাবে মানুষ। সময় যেন সঞ্চয়ের বস্তু! শ্রম কেবল মুক্তির প্রতিশ্রুতি! আর জীবন অবিরাম কাজ করে চলার প্রবাহ! এই প্রবাহ মানুষকে ধ্যান থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। বস্তু টিকে থাকে না। অভিজ্ঞতা স্থির হয় না। সময়ের গভীরতা কাজেই তৈরি হয় না। অবসর এখন আর সত্যিকারের অবসর নয়; এটি শুধু কাজের মাঝে সাময়িক বিশ্রাম, যেন পুনরায় কাজে ফেরত যাওয়া যায়।
-
-
তার কথায় বাধা দেই আমি : ‘কেন? কবি না আপনি, এইটা কে বলল? কবি হইতে গেলে কী লাগে? কোনো বংশ? নাকি কবির ঘরে কবি জন্মে? আপনার কী ধারণা? কবি হইতে গেলে বেশি পড়াশোনা লাগে?’ তিনি মাথা নেড়ে আমার প্রশ্নের মোক্ষম জবাবটাই দিলেন! কবি হইতে গেলে এসব কিছু লাগে না; তা তিনি বোঝেন, আর আমাকেও বোঝালেন। আমি তার কথায় জোর দিতেই বলছি তখন : ‘কবি তো সেই হতে পারে, যে কবিতা লিখতে পারে; যার লেখার জ্ঞান আছে। যেমন, আপনি গান লিখছেন, আপনি গীতিকার!’
-
নজিরগুলো এ-কারণে পেশ করা,—কবিতা বিরচণের আঙ্গিক রূপে হাইকুকে জাপানি কেতা থেকে বেরিয়ে অন্যভাবে কাজে লাগানো সম্ভব। এরকম ‘হাইকু’ যদি লিখতে পারেন কিছু,—আমার মনে হয় অভিজ্ঞতা খারাপ মনে হবে না নিজের কাছে। যাপনকে নির্গলিত করা, দহনকে টেনে বের করে আনার স্পেস সেখানে হাইকু আপনাকে দিতে কৃপণতা করবে না।
-
কালের বিবর্তনে ‘দাস্তান-ই-দিলরুবাই’ ব্যবহারে আগ্রহীরা ভিন্ন সময়রেখায় দেখা দেওয়া চরিত্রগুলোকে বড়শিতে গেঁথেছেন। বেগম সামরু ঐতিহাসিক চরিত্র। মহ লাকা বাই (মনে হলো) কাল্পনিক। সালমান রুশদি চেহারা-সুরতে বাস্তব মানু হলেও, খোমেনির নূরানি চেহারা চোখে ভাসলে রুশদিকে মনে হয় জাদুবাস্তব! সে যাকগে, উর্দু সাহিত্যে রেফারেন্স হিসেবে প্রথম দুজনের নাম প্রায়ই উঠে আসে। এর মূল কারণ তাঁদের নারী হিসেব বেড়ে ওঠা ও নাটকীয় জীবনধরায় নিহিত।
-
খোমায় মাঞ্জা মাইরা আমরা হালায় ঘুরি— / বাইরে দেখতে ফিটফাট/ মাগার্ ভিত্রে ঠনঠনা—/ ভিত্রে ঠনঠনা আমরা/ ভিত্রে ঠনঠনা।