পোস্ট শোকেস - সাহিত্যবাসর

মানিকবাবুর ভিখু ও পাঁচী : কামাল রাহমান

Reading time 12 minute
5
(7)
Manik Bandopadhyay; Artist: Unknown; Source & Credit: Collected; Anandabazar

যে-ধারাবাহিক অন্ধকার মানিক বাবুর ভিখু ও পাঁচী মাতৃগর্ভ হতে সংগ্রহ করে দেহের ভেতর লুকিয়ে পৃথিবীতে এনেছিল, ঐ অন্ধকার ওদের সন্তানের মাংসল আবেষ্টনীর ভেতর গোপন রেখে যাবে ওরা। ওটা প্রাগৈতিহাসিক। ওখানে দ্বিমত প্রকাশের অবকাশ কারো নাও থাকতে পারে। পৃথিবীর আলো আজ পর্যন্ত নাগাল পায়নি ওটার। তাও মেনে নেয়া যায়। কিন্তু কোনো দিনও পাবে না—এরূপ সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত আপস করতে একুশ শতকের ভিক্টর ব্যানার্জির মনে দ্বিধার জন্ম নিয়েছিল।

সময়ের তুখোড় চিত্রনির্মাতা ভিক্টর ব্যানার্জি। দেশসুদ্ধ মানুষ ওকে আদর করে ডাকে ভিখু টু। ওর সন্দিগ্ধ চোখ সার্চলাইটের মতো আলো ফেলে জনসমক্ষে তুলে আনে ইতিহাসের অন্ধকারতম গলিঘুঁজিটিও। জার্মানির বন শহরের আন্তর্জাতিক চিত্র প্রদর্শনীর আলোচিত ছবি ‘প্রাগৈতিহাসিক’। মানিক বাবুর গল্পের চিত্রণ নয় ওটা। তাঁর সৃষ্টির উপর কাজ করার মতো গম্যি এখনো হয়নি বলে মনে করে ভিক্টর। যেখানে মানিক বাবু ভিখুকে ছেড়ে দিয়েছিলেন সেখান থেকে শুরু করেছে ভিখু টু।

ঊনিশশ সাঁইত্রিশের অগ্নিযুগের এলোমেলো দিনের টুকরো সব ছবি। অনেক কিছুই ঝাঁপসা ও ধীর লয়ের। একদিকে রাজানুগত ভৃত্যদের ‘লং লিভ দ্য কিং … গড সেভ দ্য কিং’ অন্যদিকে মুক্তিকামী জেদি মানুষের প্রস্তরীভূত সংকল্প : অগ্নিগোলার বিনিময়ে অগ্নিগোলা, এর ভেতর দিয়ে জেগে ওঠে রাঢ়বাংলার প্রত্যন্ত এক গ্রাম। আকাশে তখন দেখা দেয় পাণ্ডুর চাঁদের ছায়া। নবমীর চাঁদের আলোয় কতটুকুই-বা আর মেঘ দেখা যায়। এখন মনে হয়-যে সামনে ঝুঁকে ক্রমাগত পথ চলতে থাকা ভিখুও যেন মাটির বুকে ছুটে চলা এক টুকরো ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ মেঘ। যেখানে এসে থামে ওরা সেখানটাকে ওদের কাছে মনে হয় একটা সমুদ্র। সামনে টলটলে স্বচ্ছ কাকচক্ষু জলের প্রসারিত কল্লোল ও দৃষ্টিভ্রম জাগানো ভয়াল এক বিস্তার। চাঁদের আলো কিছুটা উজ্জ্বল এখানে। প্রকৃতি নির্ভার। চলতে চলতে হঠাৎ থেমে পড়ায় ভিখুর চোখ দুটো কিছুটা আলো ঠিকরে দেয় সামনের ক্লান্তি জাগানো ভূখণ্ডে।

পিঠ থেকে পাঁচীকে নামানোর মতো শক্তিও আর অবশিষ্ট নেই ভিখুর শরীরে কিংবা কে জানে-যে, পাঁচী ওর পিঠের উপরই ঘুমিয়ে পড়েছে কিনা। এক হন্দর শস্যের একটা থলের মতো ওকে পিঠ থেকে নদীর বালুচরে গড়িয়ে ফেলে ভিখু। পুলক অনুভব করে পাঁচী। হেসে ওঠে সে। পাশে শুয়ে হাঁপাতে থাকে ভিখু।

নবমীর চাঁদ এখন লুকিয়েছে কোথাও ওরা জানে না। ঘন অন্ধকারের ভেতর হারিয়ে যায় আরো অন্ধকার কালো দুটো মানুষ। অসীম এই অন্ধকারের ভেতর শুয়ে থেকে অথবা ঘুমিয়ে ভিখু স্বপ্ন দেখে ভিখুকেই। অন্ধকারের ভেতর প্রেতের ছায়ার মতো অনাদিকাল থেকে পাঁচীকে পিঠে বয়ে চলেছে সে। মাঝে মাঝে ওর মনে হয় ও পাঁচী নয়, চৌকো এক অন্ধকার তোরঙ্গ, যার ভেতর ভিখু অচিরেই লুকিয়ে রাখবে আরো গাঢ় ও গভীর এক অন্ধকার রহস্য।

অনেক দেরিতে ঘুম ভাঙে ওর। অবাক চোখে দেখে, সে শুয়ে রয়েছে বিস্তীর্ণ এক নদীর নির্জন বালুচরে। চারদিকে সুনসান নীরবতা। নদীর প্রসারিত রূপ দেখে ভিখু বোঝে এটা ঐ প্রমত্তা। কারণ এ-যে মানিক বাবুর সেই প্রিয় পদ্মা। ধারেকাছে এর যতগুলো বাঁক আছে ওগুলোর সবই তার চেনা। কিন্তু এবার ভুল হয়েছে ভিখুর। যেমন ভেবেছিল সে, সকালে ছিপতিপুরের জঙ্গলের ভেতর সারাদিনের জন্য পালিয়ে থেকে রাতে সদরে পাড়ি দেবে, তার একেবারে বিপরীত দিকে এসে পড়েছে ওরা। নদীর তীরে একটা জঙ্গল আছে বটে কিন্তু ওপাশে সদর নয়। অবশ্য ওতে কিছু যায় আসে না ওর। ওখানে কেউ অপেক্ষা করে নেই ওর জন্য। এখানে বরং সঙ্গে পাঁচী আছে, যাকে এখন একটা বাকশোই মনে হয় ওর কাছে।

গঙ্গার এদিকটা একেবারে জনমানবশূন্য। ভিখু ও পাঁচী, দুজনেরই ভালো লেগে যায়। প্রাতকৃত্যের জন্য উঠে দাঁড়াতে যেয়ে ভিখু বুঝতে পারে ভীষণ ক্লান্ত সে। জঙ্গলের দিকে কিছুটা এগিয়ে আবার ফিরে আসে ভিখু। বসিরের টাকাগুলো ও নিজের সামান্য ভিক্ষের সঞ্চয় আর পাঁচীর পুঁজি, সব হাতিয়ে তীরের দিকে দ্রুত হেঁটে যায় সে। কিছুটা ভড়কে যেয়ে শুধায় পাঁচী, ‘কনে যাও?’

ঘুরে দাঁড়ায় ভিখু।

‘তোরে থুয়ে যামু কনে?’

‘পালাবিনে?’

‘পালিয়েই তো এইচি।’

‘আমারে থুয়ে আবার পালাবিনে?’ একটু থেমে আবার বলে, ‘আমি তো তোর বোঝা।’

‘হইল। এই বোঝা মোর বাকি জনুমের।’

আশঙ্কা ও বিস্ময় মেশানো এক অভিনব দৃষ্টিতে ভিখুর দিকে তাকিয়ে থাকে পাঁচী। মানুষের এরকম একটা মুখ জীবনে এই প্রথম দেখতে পেয়েছে সে। মুখে আর কথা সরে না ওর। তাকিয়ে থাকে অপলক। ইচ্ছে হয় যেন অনন্তকাল ওভাবেই তাকিয়ে থাকে সে।

রোদ কিছুটা তেতে ওঠে। স্নান সেরে নিতে চায় ওরা। ভিখুকে আড়ালে যেতে বলে পাঁচী। নাছোড়বান্দার মতো বেঁকে বসেছে ভিখু। নড়ে না। কে জানে ঐ নির্জন প্রকৃতি কী পরিবর্তন এনে দেয় ওদের ভেতর! ওদের সামান্য সম্বল, সবচেয়ে ভালো কাপড়গুলো গঙ্গাজলে খুব ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে বালুচরে শুকাতে দেয় ওরা। অন্যান্য কাপড়গুলোও পরিষ্কার করে ধুয়ে নেয়। পাঁচীর দিকে এবার ভালো হাতটা বাড়ায় ভিখু। পানির মধ্যে এক হাতে ওকে কাবু করা কি এতই সহজ! ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় এক সময় হাল ছেড়ে দেয় পাঁচী। প্রকৃতির অপ্রতিরোধ্য আকর্ষণের কাছে সমর্পণ করে সে নিজেকে।

Vikhu and Patchi: Conceptual Artwork-I, in collaboration with Gemini; @thirdlanespace.com

শৈশবের স্নানের দৃশ্য সব আবছায়া মনে পড়ে ভিখুর। সেইসব দিনে আবার যেন ফিরে গেছে আজ সে। নোংরা চুলের জটা পানিতে ভিজে নারকেল ছোবড়ার মতো জড়িয়ে ধরে ওর মাথা। অনেক কসরত করেও ওটা আয়ত্বে আনতে পারে না পাঁচী। নদীর ঐ অংশে শুধু বালি। তীরে উঠে কিছুটা এঁটেল মাটি খুঁজে আনে ভিখু। প্রস্তরখণ্ডের মতো একটা মাটির ঢেলা কুড়িয়ে আনে পাঁচী। ওটাকে পানিতে ভিজিয়ে সাবান বানায় ওরা। যত্ন করে পরস্পরকে মাখিয়ে দেয়। কালো কুচিলা মাছের মতো পিছলাতে থাকে দুজনে। দীর্ঘ স্নানের পর সূর্য নমস্কার করে ওরা। জীবনে এই প্রথম ওকাজটা করে। বালুচরে শুকোনো কাপড় দুটো পরে সেঁধিয়ে যায় জঙ্গলের ভেতর। পেছন ফিরে দেখে ভিখু, তখনো জলে ভেসে রয়েছে ওর ফতুয়া ও অন্যান্য নোংরা কাপড়গুলো। শরীরের খোলস যেন ওসব। অবশিষ্ট জীবনে আর কখনো ঐ ক্লেদাক্ত খোলসের ভেতর প্রবেশ করবে না ওরা।

গত রাতের ক্লান্তির পর ঐ পরিপূর্ণ পরিচ্ছন্নতার তৃপ্তি সবার আগে যে-জৈব উপলব্ধির তাড়না সৃষ্টি করে ওদের ভেতর তা হচ্ছে ক্ষুধার। ফল-পাঁকুড় খেয়ে সারাদিন কাটিয়ে দেয় ওরা। বসিরের একশ টাকা একটা গাছের নিচে পুঁতে এভাবে চিহ্ন সব মুছে ফেলে সে, যেন নিজেরও দ্বিতীয়বার খুঁজে পেতে কষ্ট হয়। পাঁচীকে জঙ্গলে রেখে বাকি টাকাগুলো নিয়ে কাছের গঞ্জের পথে পা বাড়ায়। বাজারে যেয়ে সন্তর্পণে কিছু কাপড়, খাবার ও একটা টিনের তোরঙ্গ কিনে ভালোয় ভালোয় ফিরে আসে ভিখু। ফেরার পথে সিঁদুর ও কিছু গয়নাপাতি কিনে নেয় পাঁচীর জন্য। বদ্যির দোকান থেকে এক কৌটো মলম নিতেও ভুলে না সে।

জঙ্গলে ফিরে অবাক হয় ভিখু। ডালপালা ভেঙে রীতিমতো একটা ঘর বানিয়ে ফেলেছে পাঁচী। খুঁটির ওপর বনজ লতা দিয়ে আড়াআড়ি ডালপালা বেঁধে ও গোছা গোছা কাশপাতা চাপিয়েছে ছাদের উপরে। শুকনো মরা পাতা পুরু করে নিচে বিছিয়ে শয্যা তৈরি করেছে।

দশমীর চাঁদ যেন আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে আজ। কবে জুতো পরেছিল এ-জীবনে তা ভুলে গেছে ভিখু। চাঁদের আলোয় ওর নতুন জুতো জোড়াও কলকলিয়ে হাসে। নুলো যে-হাতটাকে ভিক্ষের বিজ্ঞাপন বানিয়ে উদোম রাখত, ওটাকেও ঢেকে দেয় ফুলহাতা একটা শার্টে। ধুতির মাড় না কেঁচেই শরীরে জড়িয়ে নেয়। নতুন সব পরিচ্ছদ সুড়সুড়ি দেয় ওকে। পাঁচীকেও সে মুড়িয়ে দেয় নতুন কাপড়ে। ওর হাতে শাঁখা পরাতে যেয়ে বিড়ম্বনায় পড়ে ভিখু। এর আগে তো কখনো ঐ হাত দুটোয় চুড়ির ঘঁষা লাগেনি। হাত তো নয় যেন মাঁদারের খসখসে দুটো ডাল। কাঁটার মতো উঁচিয়ে আছে সব খোঁসপাঁচড়া। নমনীয়তা বলে কিছু নেই। ধস্তাধস্তি করে অবশেষে পাঁচীকে ঢোকানো সম্ভব হয় ওগুলোর ভেতর। ওখানে গড়াগড়ি খায় ওর হাড়সর্বস্ব কবজি দুটো। কালো কাইতনে বাঁধা পাঁচটা মাদুলির একটা মাদুলিমালাও যত্ন করে ওর গলায় পরিয়ে দেয় ভিখু। আবারো সমস্যা দেখা দেয় ওকে কানের দুল পরাতে যেয়ে। কানে-যে ফুটোই নেই ওর! অগত্যা ও-দুটোকে আঁচলে বেঁধে রাখে পাঁচী। হৈমন্তিকা দশমীর সোনার থালা চাঁদ আর আকাশের তারার আলোয় পাঁচীর সিঁথিতে সিঁদুর মেখে দেয় ভিখু। মুক্তো হয়ে জ্বলে ওঠে ওর চোখ দুটো। গড় হয়ে প্রণাম করে সে ভিখুকে। দুজনের কাছেই এ-আচরণটা প্রথম ও অভিনব!

গঞ্জ থেকে আনা খাবার খেয়ে চাঁদের আলোয় একজোড়া বাঘ ও বাঘিনীর মতো উবু হয়ে গঙ্গার স্বচ্ছ জল আকণ্ঠ পান করে ওরা। পরিপূর্ণ তৃপ্তিতে ও প্রাণভরে গঙ্গাজলে পেটভরে বালুতীরে উঠে আসে ওরা। গাওয়ার মতো কোনো গানই জানে না ভিখু কিংবা পাঁচী। কিন্তু ওদের মনে হয়, চাঁদের আলোয় সুরের বন্যায় ভেসে রয়েছে ওরা। একের উচ্চারিত প্রতিটা শব্দ অন্যের কাছে মনে হয় যেন ভুবনভোলানো সংগীত।

সহসা পাঁচী জিজ্ঞেস করে, ‘কাইল নওমির চান্দে পলাইছিলি না?’

‘হ।’

‘আইজ দশমীর রাইতে মা আইছে আমাগো মাথার উপর।’

‘হ।’

‘আশীর্বাদ কইরতে।’

‘তোর পোলা অইব।’

‘আমি চাই না। আইজ বিজয়া দশমী। মায়ের চরণে ঠাঁই পাইলেই বাঁচি। বহুত পাপগো আমার!’

‘আমারো!’

পাঁচীর নিজের হাতে গড়া বাসর শয্যায় শুতে যায় ওরা। রাতের গভীরে চাঁদ ডুবে গেলে ভিখু লুকিয়ে রাখে পাঁচীর রহস্যগভীর তোরঙ্গে মানিকবাবুর ঐ ধারাবাহিক অন্ধকার। জীবনে এই প্রথম সুখী মানুষের মতো একটা রাত কাটায় ওরা। সকালে ঘুম ভেঙে ভিখু দেখে অন্য এক জগৎ। কখন উঠেছে পাঁচী ও স্নান সেরে নতুন কাপড়ে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে তা বলতেও পারে না সে। নতুন বেশ ও ভূষণে মাথার চুল আঁচড়ে ও সিঁথি সাজিয়ে সিঁদুর মেখে নতুন এক পাঁচী হয়ে উঠেছে সে। গ্রামবাংলার কোনো ভাদ্রবধূর মুখ কখনো দেখেনি ভিখু। ওর মনে হতে থাকে, ওকি সেই পাঁচী, যাকে সে স্বপ্নের ঘোরে একটা এক হন্দর শস্যের থলের মতো অনন্তকাল ধরে পিঠে বয়ে বেড়িয়ে চলেছে?

এখানে কোথায় শুয়ে আছে সে? সকালে ঘুম ভেঙেছে কোথায় আজ! গত সকালটা মনে আনার চেষ্টা করে। কিছুতেই ওর মনে পড়ে না এখন। আরো আগের সকাল? কোথাও-যে মিল খুঁজে পায় না ভিখু। জীবনের এই আশ্চর্য উন্মোচনে এক দীর্ঘ সময় ধরে বিস্ময়াভিভূত হয়ে থাকে সে। পাঁচী মনে মনে বলে, ওর ভেতর কী দেখে ভিখু? কে জানে! ধাঁধায় পড়ে পাঁচী।

Vikhu and Patchi: Conceptual Artwork-II, in collaboration with Gemini; @thirdlanespace.com

‘কী অমন দেকচ গো ঠাকুর?’

ঠাকুর! একটা বেতের মতো চমকে লাফিয়ে ওঠে ভিখু, ‘কী বুললি?’

‘ক্যান, ঠাকুর?’

ডাকাত, বদমাশ, এক নুলো ভিখারিকে কেউ ঠাকুর ডাকতে পারে তা কিছুতেই মাথায় আনতে পারে না ভিখু। আশ্চর্য এক জগৎ ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় ওর সামনে। ওর কোনো ধারণাই ছিল না এসবের। ভালো হাতটা দিয়ে ওকে পাঁজাকোলা করে দৌড়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে গঙ্গায়। ওটাই ওর ভালোবাসার তীব্রতম বহিঃপ্রকাশ। পরিশীলিত কিছু-যে জানা নেই ওর। কতক্ষণ জলকেলিতে মেতেছিল ওরা তা কেউই বুঝতে পারেনি। ডাঙায় উঠে আসে ওরা। পাঁচীর সকালের শাড়ি শুকিয়ে গেছে। ভেজাটা পাল্টে আবার ওটা পরে সে। গঙ্গাজলে ছায়া দেখে সিঁথিতে সিঁদুর মাখে আবার। ভিখুও আরেক প্রস্থ নতুন কাপড় পরে। জলপান করতে বসে আবারো অবাক হবার পালা। কোথা থেকে খুঁজে কলাপাতা জোগাড় করেছে পাঁচী। ভেজানো চিঁড়ে ও বাতাসা ছড়িয়ে দিয়েছে সে ওখানে। চিঁড়েগুলো নিশ্চয় শাড়ির আঁচলে বেঁধে ভিজিয়েছে পাঁচী। ওদের তো কোনো পাত্র নেই। সবুজ পাতার উপর কতগুলো শিউলি ফুলের মতো দেবতার প্রসাদ মনে হয়। চিঁড়েগুলো সারাজীবন দেখে যেতে ইচ্ছে হয় ভিখুর। কিন্তু খিদে? সে-তো দেবতারও আছে। তাই সে ঐ প্রসাদের দিকে হাত বাড়ায়। পাঁচীকেও নিতে বলে ওখান থেকে। কিছুতেই খেতে চায় না পাঁচী।

‘আইজ একাদশীর দিন। আমি উপাস দিমু গো ঠাকুর।’

‘এই পাঁচী, তুই কী আমারে ঠাকুর ঠাকুরই ডাকপি সব সুময়?’

‘হ্যাঁ গো। তুমি মোর বাকি জনমের ঠাকুর।’

‘তাইলে তুইও আমার বাকি জনমের পাঁচু।’

এভাবেই নতুন জীবনের শুরু হয় ওদের। চমৎকার কিছু ক্যামেরার কাজ করেছে এখানে ভিক্টর। রাঢ়বাংলার রুক্ষ্ম প্রান্তর একটানা ড্র্যাগ করে পরস্পর বিপরীত অথচ ঐ বৈপরীত্যই যেন সংগতিপূর্ণ এমন টুকরো টুকরো দৃশ্য চমৎকার মোন্টাজ করে দর্শকদেরও ধাঁধায় ফেলে দেয় সে। ব্যাকগ্রাউন্ডে রবিশঙ্করের আশ্চর্য বাদন শ্রোতাকে নিয়ে যায় অন্য এক জগতে।

ওদের নবজন্মের তৃতীয় দিনে অবাক করা আরো কিছু ঘটে। ভিখুর মাথা নতুন ব্লেডে পরিষ্কার করে কামিয়ে দেয় পাঁচী। তারপর দাড়ি-গোঁফও। জলের উপর নিজের ছায়ার দিকে অপলক চোখে তাকিয়ে থাকে ভিখু। ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে দেখে সে। নিজেকে চিনে নিতে অনেকটা সময় লাগে ওর। পাঁচীকেও চেনা যায় না আর। নতুন চিরুনিতে চুল আঁচড়ে ও পরিষ্কার পোশাক পরে পাঁচী যেন কোনোভাবে পাঁচীই নয় আর। পরিচ্ছন্ন থাকায় ও ওষুধ লাগানোয় পায়ের ব্যামোটাও অনেকটা সেরে উঠেছে। চলাফেরায় এসেছে কিশোরীর স্বাচ্ছন্দ্য ও চপলতা।

দুপুরের খাবার খেয়ে পান খাওয়ার আয়োজন করে ওরা। অনভ্যাসে বেশি চুন খেয়ে ভিখুর জিভ পুড়ে যায় আর পাঁচীর গাল জ্বলতে থাকে। পাঁচীর ঠোঁট দুটো এতটাই লাল হয়ে ওঠে, সাঁই করে ভিখুর মাথাটা ঘুরে যায়। এভাবে কদিন যেত কে জানে? বিকেলের ম্লান আলো আবার একটা বাঁক এনে দেয় ওদের জীবনে।

নদীতে ভেসে আসা কালো বস্তুটাকে দূর থেকে দেখে বুঝতে পারেনি ওরা। অনেকক্ষণ পর ওটা কাছে এলে বোঝে, ভেসে আসা একটা মাঝিহীন নৌকো ওটা। হয়তো দড়ি ছিঁড়ে কিংবা শত্রুতা করে কেউ নৌকোটা ভাসিয়ে দিয়েছে। সেসময় তেমন কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা ছিল না ওটা। দ্রুত কটা ভাবনা বিদ্যুতের মতো ভিখুর মাথায় খেলে যায়। কিন্তু নৌকোটা তীর থেকে যত দূরে তা একহাতে সাঁতরে পেরোনো সম্ভব কিনা ভাবতে যেয়ে সব কিছু গুলিয়ে যায় ওর। ভিখুর চোখের দিকে তাকিয়ে পাঁচী বোঝে ওর উদ্দেশ্যটা কি। প্রাণপণে ওকে বাঁধা দেয় সে। কিন্তু শেষবারের মতো নিজের উপর ঝুঁকি নেয় ভিখু।

ভালো হাতটা দিয়ে অনেক পানি ছিটিয়ে ধীরে ধীরে নৌকোটার দিকে এগিয়ে যায় সে। ঠাণ্ডা জলে অচিরে গতি শ্লথ হয়ে আসে ওর। পেছনের পা দুটো পানির ভেতর তুলকালাম কাণ্ড বাঁধিয়ে চলে। নৌকোটা থেকে ভিখুর দূরত্ব কতটা, তীর থেকে বুঝতে পারে না পাঁচী। একসময় ওর মনে হয় ভিখু হয়তো তলিয়েই যাচ্ছে। সংজ্ঞা হারানো দশা হয় ওর। মূর্ছা যেতে যেতে সে দেখে, নৌকোটার পার্শ্ব ছুঁয়ে একটা হাত আড়াআড়ি আঁকড়ে ধরে আছে। ধড়ে যেন প্রাণ ফিরে আসে ওর। একটু পরে দেখতে পায় আর একটা পা নৌকোটাকে ধরে ফেলেছে। তারপর পুরো মানুষটা নৌকোর খোলের ভেতর অদৃশ্য হয়ে যায়। বেশ অনেকটা সময় পরেও যখন সে উঠে বসে না তখন এক ধাঁধায় পড়ে যায় পাঁচী। ভিখুকে সে নৌকোয় গড়িয়ে পড়তে দেখেছিল না পানিতে? চিৎকার করে ডাকতে যেয়েও থেমে যায়। উঠে বসেছে ভিখু। পাটাতনের একটা কাঠ দিয়ে নৌকোটাকে তীরের দিকে চালিয়ে আনার চেষ্টায় দাঁড় বাইতে শুরু করেছে প্রাণপণে।

নদীর তীর আর নৌকোর দূরত্ব কমিয়ে আনতে যেয়ে প্রায় আধ মাইল ভাটিতে চলে যেতে হয় ভিখুর। শেষ রক্ষে বোধ হয় আর হয় না। ওর অবিরাম চিৎকার ও ইশারার নিষেধ না মেনে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে পাঁচী। সাঁতরে নৌকাটা ছুঁতেই এক হাতে টেনে তোলে ওকে ভিখু। তারপর সদ্য জাল ছাড়ানো বিশাল দুটো মাছের মতো নৌকোর খোলের ভেতর তড়পাতে থাকে ওরা। অবশেষে যখন কূলে ভিড়ে, গঙ্গার উভয় তীরে ততক্ষণে জম্পেশ রাত নেমেছে। কিছুটা টেনেহিঁচড়ে নৌকোটাকে চরে আটকে ডেরায় ফিরে আসে ওরা।

পুরানো একটা শাড়ি লম্বালম্বি ছিঁড়ে দড়ি পাকায় শক্ত করে। গাছের ডাল ভেঙে খুঁটি বানিয়ে রাখে। ভোর না হতেই নৌকোটা বেঁধে পানিতে ডুবিয়ে দেয় ওরা। খুঁটিটাও পোঁতে পানির অনেক নিচে। তীরে ওটার একটা চিহ্ন রেখে ওদের নতুন সংসারে ফিরে আসে ওরা।

নৌকোটার খোঁজ নিতে কেউ আসে কিনা শুধু এ-জন্য আরো দুটো দিন ওরা বসে থাকে নদীর দিকে সতর্ক দৃষ্টি রেখে। চৌর্যবৃত্তি কিংবা ভিক্ষাবৃত্তির যে-জীবন ছেড়ে এসেছে তার দায় অথবা ছায়া কোনোভাবে আর নতুন জীবনে দেখতে চায় না ওরা। নিজেদের জীবনের উপর যতটা ঝুঁকি ও পরিশ্রম করে নৌকোটা উদ্ধার করেছে তার বিনিময়ে এমনিতেই ওটার মালিকানা পেতে পারে ওরা। তারপরও সিদ্ধান্ত নেয় নদী পেরিয়েই ওটাকে ভাসিয়ে দেবে আবার।

অতীত জীবনে শুক্লপক্ষকে অপয়া হিসেবে জেনে এসেছে ভিখু। অন্ধকারেই খুঁজে পেয়েছিল জীবনের সব সফলতা। জ্যোৎস্নাও-যে এত মধুর হতে পারে তা কল্পনাও করতে পারেনি সে। আজকের পূর্ণিমায় নিস্তরঙ্গ পদ্মার বুকে ভেসে বেড়ানো এই মানুষ দুটোকে মর্ত্যের কোনো প্রাণী মনে হয় না। খুব ছোট থাকতে, এখন আর ওর মনে নেই কার কাছ থেকে স্বর্গের বর্ণনা শুনেছিল। এখন মনে হয় ওটা বোধ হয় এরকমই।

নদীটা পেরিয়ে আসতে সারারাত অক্লান্তভাবে নৌকো বেয়ে চলে ওরা দুজনে। পাটাতনের দুটো কাঠ গাছের শক্ত ডাল দিয়ে পিটিয়ে ও সঙ্গে আরো দুটো সোজা ডাল জোড়া দিয়ে দুটো বৈঠা বানিয়েছে ভিখু। গলুইয়ে বসে একটাকে হালের মতো ধরে থাকে পাঁচী ও অন্যটা দিয়ে এক হাতে বৈঠা টেনে চলে ভিখু। প্রতিকূল এই ধরণীতে ওদের এ-যাত্রাটা যেন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে থাকে। আদি ও অশেষ অন্ধকার থেকে আলোর সন্ধানে ছুটে চলার এই ধারাবাহিকতা মনে হয় কস্মিনকালেও শেষ হবে না।

Vikhu and Patchi: Conceptual Artwork-III, in collaboration with Gemini; @thirdlanespace.com

ভিখু ও পাঁচীদের ঐ সময়টাতে পদ্মার বুকে অসংখ্য চর ছিল। মানুষের আনাগোনা তখন ছিল না ওগুলোয়। অনেক কটা খাঁড়ি ও বাঁক পেরিয়ে অবশেষে একটা জঙ্গুলে জায়গায় নেমে পড়ে ওরা। মানুষের জীবনে কোনো যাত্রাই যেহেতু অন্তহীন নয় তাই ওদের যাত্রাটারও শেষ হয়।

ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় কাতর ও ক্লান্ত মানুষ দুটো এ-ধরিত্রীর কোমল ও কঠিন মাটিতে অসংলগ্ন পা ফেলে ধীরে ধীরে এগোতে থাকে। ওদের ধারণা, নদীটা অতিক্রম করে এসেছে। কিছু দূর এগোনোর পর হঠাৎ একজন মানুষ সামনে দেখতে পেয়ে চমকে ওঠে ওরা। প্রথমে একটু ভয় পেয়ে যায় ভিখু। ওদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ার কোনো কারণ না থাকায় কাছে এসে লোকটা জিজ্ঞেস করে কোথা থেকে এসেছে ওরা? এটার কি জবাব দেবে ভিখু? ওর ঘাড়ের পেছনে বিস্তৃত পদ্মার দিকে শূন্য দৃষ্টি মেলে ধরে সে। তারপর যখন সে আবার জিজ্ঞেস করে কার কাছে, কোথায় যাবে তখন ওর দৃষ্টি আরো খানিকটা প্রসারিত হয়। ঠিকই তো, এসব তো কখনো ভেবে দেখেনি সে। লোকটা স্বগতোক্তির মতো উচ্চারণ করে,—ও নদীভাঙা? ভিখুর চোখ দুটো চকচক করে ওঠে তখন। ওটা-যে জলে নয় তা বুঝতে পারে না ঐ লোকটা। সেইসঙ্গে কে জানে কেন পাঁচীও ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে। এবার লোকটা নিজে নিজেই নিশ্চিত হয় যে ওরা নদীভাঙা মানুষই।

কিছুটা খেঁকিয়ে ওঠে সে, ‘তা বাপু, সব নদীভাঙারাই যদি এখানটায় উঠে আসে তাহলে নদীটাও একদিন এখানে উঠে আসবে! দেখতে তো দেখি জোয়ান মাগ-মদ্দা। হাতে একখান ফুটো সুটকেস শুধু। শ্বশুর বাড়িতে জামাই এইসেচো নাকি দাদা? নদী-ভাঙারা সব মাথায়, কোলে কাঁখে ঝুলিয়ে ভাঙা কুলোটা পর্যন্ত নিয়ে আসে, আর তেনারা সব বিসর্জন দিয়ে এসেছেন! নাকি ভাঙনের সময় ফুর্তিতে ছিলেন বাবুরা?’ একনাগাড়ে কথা কটা বলে হেসে ওঠে লোকটা, যেন খুব একটা শাঁসিয়ে নেয়া গেল ওদের। তারপর বলে সে, ‘চলে এসো আমার পিছু পিছু।’

ভিখু ও পাঁচী যেন সাক্ষাৎ দেবতার সন্ধান পেয়ে যায়। জন্মাবধি ঈশ্বর-অবিশ্বাসী পাঁচী মনে মনে ঈশ্বরের স্মরণ করে, ‘সহায় হও, ভগবান।’

অনেকক্ষণ হাঁটার পর যেখানে নিয়ে আসে ঐ লোকটা তা গঙ্গার ওপার নয়। এখনো ভিখুরা জানে না নদীটা অতিক্রম করে আসতে পারেনি ওরা। এটা হচ্ছে ছোট বকুলপুর।

হ্যাঁ, মানিকবাবুর সেই ছোট বকুলপুরই। আন্না নামে যে-মেয়েটা মানিক বাবু পরে তোয়ের করেছিলেন ওটা ভিখুরই। আর যে-বাচ্চা ছেলেটার নোংরা কাঁথা স্বেচ্ছাসেবকটার হাত ও রাইফেল নোংরা করে দিয়েছিল, সে হচ্ছে ভিক্টর ব্যানার্জি। আমাদের ভিখু টু। মানিক বাবুর ভিখুর নাতি।

আপনাদের মনে বিশ্বাস হচ্ছে না। ‘আন্না’ কেন ভিখুর মেয়ের নাম হবে? টিকে থাকার জন্য তেতাল্লিশের দুর্ভিক্ষের সময় ভিখুকে একবার খ্রিস্টান হতে হয়েছিল। তখনই আন্নার জন্ম। সিস্টার ওর নাম রেখেছিল ‘আন্না’। তলস্তয়ের আন্না ক্যারেনিনার আন্না। নয়তো কী তখন কেনো হিন্দু মেয়ের নাম সখে ‘আন্না’ রাখে কেউ? কেন, মানিক বাবুর অকুতোভয় আন্না চরিত্রটাকে দেখে মনে হয় না,—ও ভিখুরই মেয়ে? বিশ্বাস না হয় ভিক্টরের ছবিতে দেখবেন। বিস্তারিত আছে।

ভিক্টর তাহলে আবার ব্যানার্জি কেন? সেও তো আরেক গল্প। বাবা কেন চাকর? স্বামী কেন আসামী? এসবের মতো?

না, তা নয়। ছেচল্লিশের দাঙ্গার সময় প্রাণ বাঁচাতে আরেকবার মুসলমান হতে হয়েছিল ভিখুকে। তখনই আন্নার বাচ্চাটার জন্ম। ওর নাম রাখা হয়েছিল বখতিয়ার। পরে ভিক্টর নিজেই ওটা পাল্টে ভিক্টর ব্যানার্জি নাম নেয়। গাঁজাখুরি মনে হচ্ছে? তেতাল্লিশে আন্নার জন্ম আর ছেচল্লিশে ভিক্টরের!

আমি জানি এ-গল্প বিশ্বাস না করার কোনো-না-কোনো কারণ খুঁজে বের করবেনই আপনারা। রূপকথায় বিশ্বাস করবেন, জাদুবাস্তবতায় বিশ্বাস করবেন, আমার কথায় বিশ্বাস করবেন কেন? সময়ের ব্যপারটা কি খুব বেশি কিছু? একুশ শতকে তো সবই সম্ভব। আমি তো মনে করি ভিক্টরের ছবি আপনাদেরকে সময়ের হিসেব ভুলিয়ে দেবে। আমি নিশ্চিত-যে আপনারা তন্ময় হয়ে তা শুধু দেখে যেতে থাকবেন। শুধু সময় কেন, সম্পর্কের হিসাব ছাড়াও এগিয়ে যাবেন।

সাঁইত্রিশে ভিখুর বয়স কত ছিল জানেন? একুশ। তাহলে এখন কত হতে পারে? অথচ ছবিতে দেখবেন ভিখুর শুধু গোঁফজোড়াই সাদা। মুখের ভাঁজগুলো কখনোই বলবে না ওর এতটা বয়স। আর, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের সঙ্গে স্বগতোক্তিটা শুনবেন?

‘আহারে মানিকবাবু! তুমিই না বলেছিলে মানুষ সে বাঁচিবেই। অথচ তুমি মানুষ মরে ভূত হয়েছে। সেই ভূত মরে ভূতের পো হয়েছে। কিন্তু আমি ভিখু এখনো বেঁচে আছি। আমার দৌহিত্র আমাকে নিয়ে ছবি বানায়। তার সব খরচও আমার। আমার এখন সম্পদ কত জানো?

ভিক্টরের ছবির পর্দাজুড়ে ভিখুর গোঁফ চাড় দেয়ার দৃশ্য ঝুলে থাকে যেন অসীম শূন্যতার ভেতর একখণ্ড উজ্জ্বল প্রস্তর। ধীরে ধীরে ছবিটা ফেড হয়ে আসে। এখানেই কিন্তু ছবি শেষ নয়। ইন্টারমিশান।

ওটার দ্বিতীয় পর্ব আপনাকেই দেখতে হবে। কারণ ওটা সায়েন্স ফিকশান। ওতে আমার আগ্রহও তেমন নেই। ওখানে ভিখু দেখাতে চেয়েছে,—আলোতেও মানুষের জন্ম হতে পারে। টেস্ট টিউবে, ক্লোন করে, প্রভৃতি। অর্থাৎ অন্ধকারের ধারাবাহিকতাও কোনো-না-কোনো দিন ছিন্ন হবেই। ওই-যে প্রথমেই বলেছিলাম : ‘কিন্তু কোনোদিনও পাবে না’;—এটা মেনে নেয়া কঠিন একটা চ্যালেঞ্জ!
. . .

লেখক পরিচয় : কামাল রাহমান : এখানে অথবা ওপরের ছবিতে চাপুন

. . .

কামাল রাহমান : অবদায়ক : থার্ড লেন স্পেস

কামাল রাহমান-এর অন্যান্য রচনা ও প্রাসঙ্গিক পাঠের জন্য এখানে চাপুন

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 7

No votes so far! Be the first to rate this post.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *