কবিতা সিরিজ : ভাঙা সময়ের কবিতা-৪
রচনা : ফজলুররহমান বাবুল

৪১
নদীটা একদিন কথা বলত জলের ভাষায়,
আজ বুকে তার ফাটল আর বালি-লেখা।
নৌকাগুলো থেমে আছে স্মৃতিতীরে—
জল নয়, এখন সময়ই তো শুকিয়ে যায়।
৪২
ঋতুগুলো আর ঠিকমতো ফিরে আসে না,
বসন্ত ভুল করে শীতের ঘরে ঢুকে পড়ে।
আমরা ক্যালেন্ডার দেখি, তবু বুঝি না—
আবহাওয়াও এখন স্মৃতিভ্রষ্ট এক শরীর।
৪৩
কুয়াশা নামলে শহর নিজেকে ভুলে যায়,
রাস্তা আর নিজের নামটাও মনে রাখে না।
আমরা হাঁটি ধীরে ধীরে অচেনা ভোরে—
সব দৃশ্যই মনে হয় অসমাপ্ত কোনও স্বপ্ন।
৪৪
সমুদ্র একদিন তীরে এসে দাঁড়িয়েছিল,
তারপর ফিরে গেছে নিজের গভীরে।
শঙ্খের ভিতর এখনও বাজে দূরের ডাক—
ঢেউ নয়, কেবল স্মৃতি আছড়ে পড়ে বালিতে।
৪৫
পুরনো ছাপাখানায় আজও কালি ভেজা,
অক্ষরগুলো জেগে ওঠে রাতের ভিতর।
আমরা ক্রমশ হলুদ পৃষ্ঠা উল্টাই—
প্রয়াত কবিরা হঠাৎ কাশি তোলেন।

৪৬
অভিধানের ভিতর ফাঁকা পৃষ্ঠা,
শব্দেরা পালিয়ে গেছে অন্য ভাষায়।
আমরা উচ্চারণ করতে যাই—
নিজের কণ্ঠস্বরই অচেনা লাগে।
৪৭
হস্তিনাপুর আজ আর কোথাও নেই,
তবু অন্ধকারে পাশা খেলার শব্দ শোনা যায়।
আমরা শূন্য সভাঘরের সামনে দাঁড়াই—
দ্রৌপদীর দীর্ঘশ্বাস ঝুলে থাকে বাতাসে।
৪৮
লঙ্কা পুড়ে গেছে কত যুগ আগে,
তবু আগুনের গন্ধ আছে রাজদরবারে।
রাবণের সোনালি সিঁড়ি ভাঙে ধীরে—
ছাইয়ের ভিতর জ্বলে অহংকার।
৪৯
অশোককে দেখি কলিঙ্গের ধারে,
পায়ের নিচে কত মৃতদেহ পড়ে আছে।
সম্রাটেরা যুদ্ধ জিতে ফেরে—
আঁধারে তলোয়ার কেবলই কাঁদে।
৫০
মহাভারতের শঙ্খধ্বনি নীরব হলো,
যুদ্ধ শেষ হলো না মানুষের মধ্যে।
আমরা আয়নায় মুখ দেখি—
কোথাও-না-কোথাও দুর্যোধন থাকে।
. . .
লেখক পরিচয় : ফজলুররহমান বাবুল : উপরের ছবি অথবা এখানে চাপুন
. . .

অবদায়ক ফজলুররহমান বাবুল : থার্ড লেন স্পেস
ফজলুররহমান বাবুল-এর অন্যান্য রচনা ও প্রাসঙ্গিক পাঠের জন্য এখানে চাপুন
. . .



