পোস্ট শোকেস - সাহিত্যবাসর

ক্ষণিকাগুচ্ছ-৩ : ‘চাঁদের শবযাত্রায় সমুদ্রের দরজা খুলে’ : মেকদাদ মেঘ

Reading time 3 minute
5
(10)

ক্ষণিকাগুচ্ছ-৩
চাঁদের শবযাত্রায় সমুদ্রের দরজা খুলে
রচনা : মেকদাদ মেঘ

Moonlight Sonata by Makdad Megh; Credit and Copyright: Artist; @thirdlanespace.com

১০১
‎কুয়াশা ভোরে—
‎সূর্যের চিঠি যেন,
‎ডাকপিয়ন।

‎১০২
‎ঝরা বকুল—
‎মাটির বুকে যেন
‎তারার চিঠি।

‎১০৩
‎চাঁদের আলো,
‎ঘুমন্ত দিঘি যেন
‎রুপার আয়না।

‎১০৪
‎বৃষ্টির ফোঁটা—
‎আকাশ বুঝি মুক্তো
‎ছড়ায় পথে।

‎১০৫
‎নির্জন বন,
‎গাছগুলো যেন সব
‎ধ্যানী সন্ন্যাসী।

‎১০৬
‎শুকনো পাতা—
যেন চুপিচুপি
‎চিঠি ফেলে যায়।

‎১০৭
‎সন্ধ্যার তারা,
‎অন্ধকারের কপালে
‎জ্বলন্ত টিপ।

‎১০৮
‎নদীর ঢেউ—
কে যেন নীল রেশমে
‎স্বপ্ন আঁচড়ায়।

‎১০৯
‎‎শিশিরবিন্দু,
‎ঘাসের ডগায় যেন
ভোরের অশ্রু।

‎১১০
হেমন্ত মাঠ—
সোনালি ধানগুলো
‎সূর্যের কণা!

‎১১১
‎শিশিরদানা—
‎ঘাসের ঠোঁটে যেন
‎চাঁদের দুল।

‎১১২
জ্যোৎস্নার নদী,
যেন রুপোর চাদর
‎বিছিয়ে রাখা।

‎১১৩
‎ঝরা পাতারা—
‎সময়ের পাখি যেন
‎ডানা মেলে উড়ে।

‎১১৪
‎বকুলগন্ধ,
‎অদৃশ্য কোনো বীণা
‎বাজে যেন রাতে।

‎১১৫
‎কুয়াশাভোরে—
‎পৃথিবী যেন স্বপ্নে
‎খামখেয়াল।

Sigh in anticipation by Makdad Megh; Credit and Copyright: Artist; @thirdlanespace.com

১১৬
‎সন্ধ্যার তারা,
‎আকাশের কপালে
‎জ্বলন্ত তিল।

‎১১৭
‎বৃষ্টির ফোঁটা—
মেঘের মুক্তোগুলো
‎হারিয়ে ফেলে।

‎১১৮
‎নিঃশব্দ জলে,
‎আয়নার মতোন
‎প্রতিচ্ছবি ভাসে।

‎১১৯
‎ধানের শিষে
রোদ যেন বিপুল
সোনালি পাখি।

‎১২০
‎শূন্য পথটি—
‎অপেক্ষার দীর্ঘশ্বাসে
‎সুদীর্ঘ নদী।

‎১২১
‎পলাশবন,
‎আগুনের প্রজাপতি
‎উড়ছে যেন।

‎১২২
‎রাত্রির বুকে—
‎নক্ষত্রগুলো যেন
‎স্পষ্ট স্বাক্ষর।

‎১২৩
‎ভাঙা জানালা
‎বিকেল যেন পাখি—
রোদপালক।

‎১২৪
‎শিউলি-ভোর,
‎আকাশ আঙিনায়
‎ঝরা নক্ষত্র।

‎১২৫
‎কুয়াশা ভোরে
‎নদী যেন স্বপ্নচারী—
‎হাঁটে নিঃশব্দে।

‎১২৬
‎‎বৃষ্টির শব্দে,
মেঘ যেন আঁধারে
‎ধান বুনে যায়।

‎১২৭
জোনাকিদল—
‎রাতের কালো শাড়িতে
‎প্রদীপ জ্বালে।

‎১২৮
‎চাঁদের আলো,
‎পুকুর যেন রুপালি
‎আয়নাধ্যান।

১২৯
‎শুকনো পাতা—
‎কাল যেন গোপনে
‎লিখেছে চিঠি।

‎১৩০
‎বাতাসে ছোঁয়া,
কে যেন অদৃশ্য হাতে
‎বাঁশি বাজায়।

Starry Rose in silence by Makdad Megh; Credit and Copyright: Artist; @thirdlanespace.com

১৩১
হেমন্তমাঠ,
‎ধান যেন সূর্যের
‎ঘুমন্ত শিশু।

‎১৩২
‎দূরে পাহাড়,
মেঘের সাদা ভেড়া
‎চরে তার গায়ে।

‎১৩৩
‎নিস্তব্ধ দুপুর—
রোদ যেন বিড়াল,
‎বারান্দায় শোয়।

‎১৩৪
‎শিশিরবিন্দু,
‎ঘাসে যেন ভোরেরই
‎নাকফুল।

‎১৩৫
‎পদ্মপাতাতে
‎জল যেন কাচের
‎উড়ন্ত পাখি।

১৩৬
‎ঝরা বকুল,
‎পৃথিবী যেন গুনে
‎সুগন্ধি মালা।

‎১৩৭
‎তারার রাত—
‎আকাশ যেন খুলে
‎স্মৃতির দুয়ার।

‎১৩৮
‎নক্ষত্রফুল
‎রাতের চুমু খেয়ে
‎লাফায় ঠোঁটে।

‎১৩৯
‎কামের ফুল
‎ফুটলে নিমিষেই
‎রঙ পাল্টায়।

‎১৪০
‎সূর্য সর্বদা
‎গ্রহদের পাঠায়
‎আয়ুর চিঠি!

‎১৪১
‎নীল কুয়াশা
‎নদী যেন হরিণ—
‎তপ্ত নিঃশ্বাস।

‎১৪২
‎ঝরা শিউলি,
‎উঠোনে ছড়িয়েছে
‎তারা-কঙ্কাল।

‎১৪৩
‎চাঁদের কলস
‎উপচে পড়ে জোৎস্না—
‎রুপালি সমুদ্রে।

‎১৪৪
‎বৃষ্টির ফোঁটা,
‎আকাশ যেন বীণা—
‎সুরের কণায়।

‎১৪৫
জোনাকি রাতে
‎কালো চাদরে করে
‎সবুজ সেলাই।

‎১৪৬
‎শুকনো পাতা,
‎সময়ের হলুদ নৌকা—
‎ভাসে বাতাসে।

‎১৪৭
‎ধানক্ষেতে রোদ
যেন সোনার মাছ—
‎সাঁতরে বেড়ায়।

‎১৪৮
‎বনের মধ্যে
‎সূর্য আগুনপাখি
‎উড়েছে দূরে।

‎১৪৯
‎শিশিরবিন্দু,
‎ঘাসের ঠোঁটে যেন
‎মুক্তোর ঘুম।

‎১৫০
‎দূর পাহাড়ে
মেঘ যেন সাদা ভেড়া—
‎চরে নীরবে।
. . .

Conceptual Artwork, in collaboration with Gemini; @thirdlanespace.com

… থার্ড লেন স্পেস-এ পূর্ববর্তী পর্ব পাঠ করতে নিচের লিংক চাপুন …

ক্ষণিকাগুচ্ছ-২ : ‘চাঁদের শবযাত্রায় সমুদ্রের দরজা খুলে’ : মেকদাদ মেঘ

ক্ষণিকাগুচ্ছ-১ : ‘চাঁদের শবযাত্রায় সমুদ্রের দরজা খুলে’ : মেকদাদ মেঘ

. . .

লেখক পরিচয় মেকদাদ মেঘ : এখানে অথবা ওপরে ছবিতে চাপুন

. . .

অবদায়ক : মেকদাদ মেঘ : থার্ড লেন স্পেস.কম

মেকদাদ মেঘ-এর অন্যান্য রচনা পাঠের জন্য এখানে চাপুন

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 10

No votes so far! Be the first to rate this post.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *