
অতীত স্মৃতিবিধুর আমি, জানি না লুপ্ত-রোদ্দুরের খোঁজ।
তুমি বনগমনাভিলাষী, এসেছ সন্ধ্যায় আমাকে নিতে।
নাইলন শাড়ি দিয়ে ঢেকে নিতে এসেছ আমার ছায়া।
সমূহ কুসুমগন্ধী-পথ আজ মনে হয় তুমিই জানো।
আজ আমি কি পথজিজ্ঞাসু গৃহে কিংবা বনগমনে?
আলস্য এবং স্মৃতিঘেরা নদীও জানে পথ দরকারি
আর কিছু পথ গিয়েছে ডুবে উর্দিপরা তত্ত্বের ফাঁকে।
আমরা তো জন্মপথিক, যতই থাকি না কেন ঘোরে
সন্ধ্যায় দীপ জ্বেলে। দীর্ঘ দীপ্র-সব যোগীভাবে
দিগ্বলয় থাকে; ছেড়েও যেতে পারি না তাকে।
ঠুনকো সংসারে যদি ঘুমাই কিংবা মায়া ফেলে যাই—
পিছুপিছু ধাওয়া করে তবু কিছুকিছু গ্রহণ-দায়।
ক্রমে গ্রহণবার্তা কিছু পাই বিজ্ঞাপনে, কিছু কবিতায়।
আমরা ঘেন্না করি ঘা, তবু ঘা-প্রাপ্ত, তবু ঘেয়ো—
ঘেয়ো কুত্তাঘেরা, ঘেরা ঘৃতাগ্নিতে, ঘেরা ঘূর্ণিতে।
আজ আমাকে এসেছ নিতে ধুলোটে। জানো তো—
গ্রহণবার্তা কিছু আছে গল্প-উপন্যাসে, বঙ্গে-বৃন্দাবনে।
দেখো, রাত গ্রহণ করে দিন; দিনও তেমনি রাতকে…
কত অনুপুঙ্খঘেরা পরিপৃক্তি; কত অনুপম রীতি!
দূরের রূপমুদ্রায় স্মৃতিসমূহ ফেলে এসেছিলাম একদিন—
আজ যা নয় প্রাসঙ্গিক তা-ই প্রোজ্জ্বল হয়ে আসে
অনার্যকে তুলে দিতে নিজেরই অপরিশোধ্য মায়াতীরে।
প্রায়শ প্রশ্ন করি নিজেকে—‘কী বুঝেছ তুমি মায়ার অন্ধিসন্ধি?’
আর, পশ্চাতে অচেনা বাঁশি বেজে ওঠে চেনা ঘা নিয়ে।
এমনিতেই প্রিয় কেউ ডাকলে আমি গভীরতর জ্যোৎস্নায়
ভাসাতে-ভাসতে নড়েচড়ে উঠে দেখি দীর্ঘ-নিসর্গ
দেখি উঁচু-পাহাড়, দীর্ঘ-মালভূমি, নদী, পাখি, ফুল এবং
আরও কত-কী! সন্ধ্যায় নিতে এসেছ এই আমাকে।
স্মৃতিবিধুর আমি। পরিচ্ছদ কীভাবে ছড়াব আজ!
বন্যার যেমন পটভূমি থাকে, তেমনই স্মৃতি এবং ছায়ারও।
আজ ঘুমিয়েছি সারাদিন ফুরফুরে স্মৃতি এবং ছায়ায়।
সন্ধ্যায় এসেছ তুমি যে দিগ্বলয় থেকে, আমি কি তার
সমূহ অনুবিধি মানি? আমি কি ১৭তম শুভ নক্ষত্রসারি?
আমি কি অনুরাধা-ফুটে থাকি রাতভর কোনও আকাশে?
অজস্র অস্থির মুহূর্ত অতীতের হাতে রেখে এসেছি
আমরা দুজনে। আজ যেসব মুহূর্তরা অনর্থে মুদ্রিত…
আজ যদি সেইসব মুহূর্তের বেদিকায় খেলে আসি
ধূলিখেলা—তাতে কার কী? হবে কি কোনও ক্ষতি?
জানি কোনও কোনও স্মৃতির হাতেও থাকে হৃতসুন্দর—
থাকে হৃতগৌরব, হৃতরেখা; হৃদয়গহনে যা হঠাৎ
ভেসে উঠতে পারে মূলসুদ্ধ আবার বিঁধে যেতে হৃদে।
সময় পুড়ে গেলেও স্বরচিত সুরে পূর্ণ মদিরতা নিয়ে স্মৃতি
ছুটে আসে মাল্য পরাতে, ইচ্ছে হলে দিনদুপুরে নয় রাতবিরেতে।
কোনও কোনও সন্ধ্যায় আমরা স্মৃতি দিয়ে খুব সহজেই তো
বানাতে পারি সন্দেশ, সমুসা, শিঙাড়া কিংবা মোগলাই-পরোটা।
তুমি এসেছ সন্ধ্যায় আর অযোনিসম্ভূত স্মৃতিবিধুর আমি।
স্মৃতির ভিতরে থাকে বহুবর্ণিল গুহা, নদী আর সমুদ্র।
বৃদ্ধস্মৃতিগুলো ফুটতে থাকুক অলকানন্দানদীতীরে।
স্মৃতি ফোটে মসৃণ কি বন্ধুর পথসমূহে তা নয় বিবেচ্য…
নোটবুকে যে-কোনও রঙ দিয়ে সহজেই এঁকে নিতে পারি
পূর্ণ জাগরণে। মদিরতায়, মোহে যেসব স্মৃতিরা চকিতে
পোড়া গল্প নিয়ে কাছে আসে—তাদের বিরুদ্ধে আমি
কখনও ঠেসে দিই না অকিঞ্চিৎ কুয়াশা-ঝড়; বরং
সাদরে তুলে নিই লাল নীল হলুদ সবুজ জালে।
জানই তো এই বিশ্বায়নে জাল বোনা কতটা সহজ।
কোনও কোনও স্মৃতি বহির্মুখী—জাল ছিঁড়ে চলে যায়,
আর কোনও কোনও স্মৃতি (বিস্তৃতবর্ণালির) ছত্রাক হয়ে
অজান্তে লেগে থাকে—অ্যান্টিমাইকোটিক সারায় না যা।
কোনও কোনও স্মৃতি বজ্জাত, বৃক্ষের মতো বেড়ে ওঠে।
নির্জন-দুপুরে আমি যখন পথ হাঁটি একা-একা
তখন লাল-নীল ত্রস্ত-স্মৃতি আসে পিছুপিছু আর
কিছু স্মৃতির প্রতিমা তুমি, হঠাৎ এসেছ সন্ধ্যায়…
এসো, কিছুটা বসি গিয়ে বারান্দায় অন্ধকারের কাছে।
যদি দেখি জোনাকিজ্বলা সময়ের খাদে ত্যক্ত হয়ে উঠেছে
হাড়মাস—তবে না-হয় চলে যাব কোনও গিরিপথে।
মৌনী-অন্ধকারের হাতেও কিছুকিছু ম্যাজিক থাকে।
সবকিছু অন্ধকার জেনে এমনি কত সন্ধ্যার চাদরে
মুখ ঢেকে ঘুমিয়েছি আর পৃথিবীর ভিতরে এঁকেছি নদী…
এসো আজ, পুরনো ঢঙে অন্ধকারের বারান্দায় বসে
দেখি কতটা গভীর হয়ে উঠেছে সর্বংসহা সময়ের সাজ।
. . .

. . .
লেখক পরিচয় : ফজলুররহমান বাবুল : উপরের ছবি অথবা এখানে চাপুন
. . .

অবদায়ক ফজলুররহমান বাবুল : থার্ড লেন স্পেস.কম
ফজলুররহমান বাবুল-এর অন্যান্য রচনা ও প্রাসঙ্গিক পাঠের জন্য এখানে চাপুন



