
কৈ মাছের প্রাণ
বিষণ্নতা দূরে চলে যাও ক্যাঙ্গারুর মতো
বুকপকেটে নিয়ে আমার দুঃখেরই চোরাবালি
একাকীত্ব ঘুমিয়ে পড়ুক শীতনিদ্রায় সতত
জীবন দুরন্ত হোক দ্রুত, আর নয় জোড়াতালি
বিপন্নতা দূরবর্তী হও মুছে হৃদয়ের ক্ষত
বিপর্যস্ত জীবনের ঘড়ি হয়ে যাক ঠিকঠাক
বন্দুকের ভয়ে পাখিজন্ম যাদের হয়েছে গত
উজাড় উড়াল সেই মনে সতত ডানায় থাক।
বিচ্ছিন্নতা নির্বাসনে যাক মৃত উল্কার মতোন
বিষাদের আলখাল্লা যেন রাখা হয় জাদুঘরে
পাখির শিসের মতো প্রেমশিসে জাগুক জীবন
মিলন মৌলিক জেনে থাকে যেন প্রেমের চাদরে,
সোনারঙ দিনগুলি হাসে যেন জীবন মুদ্রায়
বিচ্ছেদে যন্ত্রণা বেশি গলাকাটা কৈ মাছ লাফায়!
. . .
কলঙ্কের দাগ যদি লাগে
কে তবে কলঙ্ক মুছে কলঙ্কের দাগ লেগে গেলে
নিজের কলঙ্ক দায় দিতে গিয়ে চাঁদের শরীরে
সঞ্চারিত চাঁদে দেয় মানুষ কলঙ্ক ধীরে ধীরে
সকল কলঙ্ক ভাসে ভালোবাসা কাছে ফিরে পেলে।
যৌবন মধুর গানে ভেসে আসে ভ্রমরার সুর
কল্লোলিত জীবনের অগণিত সামুদ্রিক ঢেউ
তীরে লাগে বারবার, তীরভাঙা ঢেউ গুণে কেউ
যে-নদী সমুদ্রগামী তার যাত্রা দূর বহুদূর।
এখানে রোদের ঘ্রাণ জীবনের নদী বহমান
আনন্দের সাথে সাথে কম্পমান থাকে অগ্নি-হিম
সুখের আভাস মিলে দুঃখগাছে বেদনা ডালিম
এখানে পখিও উড়ে পাখায় পাতার মতো গান
কি আর করবো বলো কলঙ্কের দাগ যদি লাগে
যে বেশি চালাকি করে তার গলে ফাঁসি লাগে আগে।
. . .

মাটির পুতুল
পরে থাকে পাতার মতোন জীবনের কিছু ভুল
আগুনের পাশে এসে দূরবর্তী আকাশ দাঁড়ায়
ভুল করে হলেও তুলে নেই ভালোবাসার ফুল
যাপিত জীবন থেকে প্রশ্নচিহ্ন দাঁড়ি ও কমায়,
নিস্তব্ধতার ভিতরে রয়েছে যে-শব্দের বাগান
সেখানেও চিরপুষ্প নক্ষত্র ফুটেছে চিরকাল
চরাচরে জেগে থাকা এইসব শব্দের জমিন
শিশুর গালের মতো চিরচেনা সবুজ সকাল।
নিস্তরঙ্গ জলেরও গোপন তরঙ্গ আছে হায়
তোমার ঘুমন্ত দেহের মতোন অতি নিরালায়
ক্রমাগত দূরে গেলে তুমি ওই বিদায় বেলায়
তোমার যাবার সুর শুনি হাওয়ায় হাওয়ায়
নৈঃশব্দ্যের ভেতরেও একরাশ শব্দ থেকে যায়
একদলা মাটি দিয়ে কেউ কেউ পুতুল বানায়
. . .
হরপ্পার প্রত্নপাঠ
বলো তবে কুহকিনী পৃথিবীর প্রিয়জু পূর্ণিমা
একাকীত্ব দুুঃখবোধ কেন এসে করাঘাত করে
আহত হৃদয় কাঁদে আশার গোলাপ কেন ঝরে
বলো তবে মায়াবিনী প্লাটিনাম প্রেমের দ্রাঘিমা,
মানুষের যাত্রাপথে যতিচিহ্ন থাকে, নীলুপমা
কতদূর অবিরাম চলে গেলে আমরা পথিক
কতটুকু দুঃখে পুড়ে স্বর্ণ হয় মূলত প্রেমিক
যতিহীন ভালোবাসা দুঃখগাছ নীল দাড়িকমা।
প্রথম সভ্যতা-বীজ পৃথিবীর হরপ্পা নগরী
মানুষের মনোযোগ বাড়িয়েছে নাগরিক বোধে
যেন দীর্ঘ স্নান শেষে চুল খোলা পূর্ণিমার পরী
হরপ্পা সভ্যতা গড়ে হেসেছিলো জগতের রোদে।
অনেকে আজও করে হরপ্পার দীপ্ত প্রত্নপাঠ
ভালোবাসা প্রাণে এলে খুলে দ্রুত প্রেমের কপাট।
. . .

. . .

লেখক পরিচয় : এখানে অথবা ওপরে ছবিতে চাপুন
. . .


