ক্ষণিকাগুচ্ছ-৩
চাঁদের শবযাত্রায় সমুদ্রের দরজা খুলে
রচনা : মেকদাদ মেঘ

১০১
কুয়াশা ভোরে—
সূর্যের চিঠি যেন,
ডাকপিয়ন।
১০২
ঝরা বকুল—
মাটির বুকে যেন
তারার চিঠি।
১০৩
চাঁদের আলো,
ঘুমন্ত দিঘি যেন
রুপার আয়না।
১০৪
বৃষ্টির ফোঁটা—
আকাশ বুঝি মুক্তো
ছড়ায় পথে।
১০৫
নির্জন বন,
গাছগুলো যেন সব
ধ্যানী সন্ন্যাসী।
১০৬
শুকনো পাতা—
যেন চুপিচুপি
চিঠি ফেলে যায়।
১০৭
সন্ধ্যার তারা,
অন্ধকারের কপালে
জ্বলন্ত টিপ।
১০৮
নদীর ঢেউ—
কে যেন নীল রেশমে
স্বপ্ন আঁচড়ায়।
১০৯
শিশিরবিন্দু,
ঘাসের ডগায় যেন
ভোরের অশ্রু।
১১০
হেমন্ত মাঠ—
সোনালি ধানগুলো
সূর্যের কণা!
১১১
শিশিরদানা—
ঘাসের ঠোঁটে যেন
চাঁদের দুল।
১১২
জ্যোৎস্নার নদী,
যেন রুপোর চাদর
বিছিয়ে রাখা।
১১৩
ঝরা পাতারা—
সময়ের পাখি যেন
ডানা মেলে উড়ে।
১১৪
বকুলগন্ধ,
অদৃশ্য কোনো বীণা
বাজে যেন রাতে।
১১৫
কুয়াশাভোরে—
পৃথিবী যেন স্বপ্নে
খামখেয়াল।

১১৬
সন্ধ্যার তারা,
আকাশের কপালে
জ্বলন্ত তিল।
১১৭
বৃষ্টির ফোঁটা—
মেঘের মুক্তোগুলো
হারিয়ে ফেলে।
১১৮
নিঃশব্দ জলে,
আয়নার মতোন
প্রতিচ্ছবি ভাসে।
১১৯
ধানের শিষে
রোদ যেন বিপুল
সোনালি পাখি।
১২০
শূন্য পথটি—
অপেক্ষার দীর্ঘশ্বাসে
সুদীর্ঘ নদী।
১২১
পলাশবন,
আগুনের প্রজাপতি
উড়ছে যেন।
১২২
রাত্রির বুকে—
নক্ষত্রগুলো যেন
স্পষ্ট স্বাক্ষর।
১২৩
ভাঙা জানালা
বিকেল যেন পাখি—
রোদপালক।
১২৪
শিউলি-ভোর,
আকাশ আঙিনায়
ঝরা নক্ষত্র।
১২৫
কুয়াশা ভোরে
নদী যেন স্বপ্নচারী—
হাঁটে নিঃশব্দে।
১২৬
বৃষ্টির শব্দে,
মেঘ যেন আঁধারে
ধান বুনে যায়।
১২৭
জোনাকিদল—
রাতের কালো শাড়িতে
প্রদীপ জ্বালে।
১২৮
চাঁদের আলো,
পুকুর যেন রুপালি
আয়নাধ্যান।
১২৯
শুকনো পাতা—
কাল যেন গোপনে
লিখেছে চিঠি।
১৩০
বাতাসে ছোঁয়া,
কে যেন অদৃশ্য হাতে
বাঁশি বাজায়।

১৩১
হেমন্তমাঠ,
ধান যেন সূর্যের
ঘুমন্ত শিশু।
১৩২
দূরে পাহাড়,
মেঘের সাদা ভেড়া
চরে তার গায়ে।
১৩৩
নিস্তব্ধ দুপুর—
রোদ যেন বিড়াল,
বারান্দায় শোয়।
১৩৪
শিশিরবিন্দু,
ঘাসে যেন ভোরেরই
নাকফুল।
১৩৫
পদ্মপাতাতে
জল যেন কাচের
উড়ন্ত পাখি।
১৩৬
ঝরা বকুল,
পৃথিবী যেন গুনে
সুগন্ধি মালা।
১৩৭
তারার রাত—
আকাশ যেন খুলে
স্মৃতির দুয়ার।
১৩৮
নক্ষত্রফুল
রাতের চুমু খেয়ে
লাফায় ঠোঁটে।
১৩৯
কামের ফুল
ফুটলে নিমিষেই
রঙ পাল্টায়।
১৪০
সূর্য সর্বদা
গ্রহদের পাঠায়
আয়ুর চিঠি!
১৪১
নীল কুয়াশা
নদী যেন হরিণ—
তপ্ত নিঃশ্বাস।
১৪২
ঝরা শিউলি,
উঠোনে ছড়িয়েছে
তারা-কঙ্কাল।
১৪৩
চাঁদের কলস
উপচে পড়ে জোৎস্না—
রুপালি সমুদ্রে।
১৪৪
বৃষ্টির ফোঁটা,
আকাশ যেন বীণা—
সুরের কণায়।
১৪৫
জোনাকি রাতে
কালো চাদরে করে
সবুজ সেলাই।
১৪৬
শুকনো পাতা,
সময়ের হলুদ নৌকা—
ভাসে বাতাসে।
১৪৭
ধানক্ষেতে রোদ
যেন সোনার মাছ—
সাঁতরে বেড়ায়।
১৪৮
বনের মধ্যে
সূর্য আগুনপাখি
উড়েছে দূরে।
১৪৯
শিশিরবিন্দু,
ঘাসের ঠোঁটে যেন
মুক্তোর ঘুম।
১৫০
দূর পাহাড়ে
মেঘ যেন সাদা ভেড়া—
চরে নীরবে।
. . .

… থার্ড লেন স্পেস-এ পূর্ববর্তী পর্ব পাঠ করতে নিচের লিংক চাপুন …
ক্ষণিকাগুচ্ছ-২ : ‘চাঁদের শবযাত্রায় সমুদ্রের দরজা খুলে’ : মেকদাদ মেঘ
ক্ষণিকাগুচ্ছ-১ : ‘চাঁদের শবযাত্রায় সমুদ্রের দরজা খুলে’ : মেকদাদ মেঘ
. . .
লেখক পরিচয় মেকদাদ মেঘ : এখানে অথবা ওপরে ছবিতে চাপুন
. . .

অবদায়ক : মেকদাদ মেঘ : থার্ড লেন স্পেস.কম



