মধুরবান্ধা গানকে কেবল অপেশাদার বা আঞ্চলিক গান হিসেবে দেখলে ভুল হবে। নৃবিজ্ঞান ও লোকদর্শনের বিচারে এটা ভাটিবাংলার সাধারণ মানুষের আত্মপরিচয়, আধ্যাত্মিক আশ্রয় এবং সামাজিক জীবনধারার স্থায়িত্ব রক্ষার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। মধুরবান্ধা গানের দর্শন উচ্চমার্গীয় শুষ্ক উপনিষদিক দর্শন নয়;—এটা হলো ‘সহজিয়া দর্শন’।
-
-
এই ধামাইল গানের নাচে যে-শৈল্পিক দুরন্তপনা ও তেজোদীপ্ত ভাব রয়েছে, আমি তা অন্য কোনো নৃত্যগীত নির্ভর গানে এতটা মূর্ত ও জীবন্ত দেখিনি! ঘুমভাঙা চোখ মুহূর্তে চনমনে নেশায় পড়ে যায়! মনে হয় কিছু কিছু গান যেন নাচকে প্রাধান্য দেওয়ার খেয়াল থেকে পদকর্তারা তৈরি করেছেন। যেখানে, তাঁদের গুরুর নামধাম অজ্ঞাত। লোকনৃত্যের অমূল্য এই রতনকে তাই সময় থাকতে সংরক্ষণ করা জরুরি।