আখতারুজ্জামান ইলিয়াস তাঁর এক প্রবন্ধে লিখেছিলেন, তিনি চাকমা ভাষায় উপন্যাস পড়তে চান। এখন তাঁর সেই কথার ২০/২২ বছর পরে আমি জিগাই কোনো চাকমা ঔপন্যাসিককে,—আপনি কি নিজের ভাষায় লিখতে পারছেন?
-
-
সুতরাং বলা যায়, ভাষার যোগ-বিয়োগ কিংবা ভাষার নড়েচড়ে বসাই মূলত ‘সাহিত্য’। অর্থাৎ ভাষাই সাহিত্যের অনুঘটক। অথচ কখনো কখনো এই ভাষাই সম্পূর্ণ লেখকসত্তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে। যা লিখছি তার সাথে হয়তো স্বতঃস্ফূর্ত কোনো সংযোগ নেই অথবা পুরো ঘটনাটাই আকস্মিক।
-
মাসকালচার, পপকালচার নামে যে-অতিকায় বৃক্ষের নিচে মানুষ সামাজিক থেকেছে এতদিন,—এখন তা উবে যাওয়ার পরিণাম কেমন হবে? মানুষ কি গোত্র বুঝে পরস্পরকে সংযোগ করবে? নাকি বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো নিজেকে নিয়ে পড়ে থাকবে একা? কেমন হতে যাচ্ছে মানুষের ভবিষ্যৎ সামাজিক জীবন? ফ্রানজ কাফকা যে-রূপান্তর ও বিবিক্তিকে তুলে ধরেছিলেন, আসন্ন রূপান্তর কি সেরকম কিছু? ঠিক কেমন হতে যাচ্ছে তার চেহারা?
-
...ইতিহাস, রাজনীতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে মোহভঙ্গ নেতিবাচক কোনো ঘটনা নয়। নতুন করে ভেবে দেখা, প্রশ্ন তোলা ও নিজস্ব অবস্থান পুনর্নির্মাণের সুযোগ তৈরি হয় এর ফলে। আমাদের এই মোহগ্রস্ত হওয়া ও মোহভঙ্গের বেদনা এভাবে কতদিন চলবে তা আমার জানা নেই। নতুন চরিত্র ও ভাবধারা এবং আবারো নতুন কোনো মোহের আবির্ভাব ঘটতে থাকবে অন্তহীন;—এই বিষয়ে অন্তত আমার মনে কোনো সংশয় নেই!
-
অদ্বৈতবাদ এখানে বাকিদের থেকে এগিয়ে থাকছে এ-কারণে-যে, এটি সারাংশটি আগেভাগে বলে দিয়েছে। সোজা কথায়, তুমি নিজেকে যেভাবে দেখো বা অনুভব করো-না-কেন বাছা, মনে রেখো তুমি হচ্ছো সেই সারাংশের অংশ, যাকে বাদ দিলে তুমি বলে কিছু নেই। কিছু নেই মানে তুমি তখন সারাংশ বা ব্রহ্ম স্বয়ং।