গ্রামীণ জীবনে পহেলা বৈশাখ শুধুমাত্র উৎসবের আনন্দ নিয়ে আসে না, বরং জীবনের প্রাপ্তি /অর্জনের খেরোখাতা খুলে দেয়। মহাজনের সম্পদ নির্মাণে খাজাঞ্চিবাবুর শ্রম-ঘামের মূল্যায়ন আছে কি! এমন ব্যতিক্রম সমীকরণ নিয়ে কবি নির্মলেন্দু গুণের বৈশাখের কবিতা—'খাজাঞ্চিবাবুর নববর্ষ'।
-
-
একধরনের কালচারাল ডোমিনেন্স এভাবে তৈরি হয় বুদ্ধ মূর্তিকে ঘিরে। তাঁর অবয়বকে আফ্রিকান রীতি মেনে তৈরি করা মানহানিকর বলে বিবেচনার যুগ শুরু হয়। এই বুদ্ধ এখন মঙ্গোলিয়াড মুখাবয়ব ধারণ করে হয়ে উঠলেন গোলাকার ও হৃষ্টপুষ্ট। গান্ধার রীতি মেনে বুদ্ধ মূর্তি গড়ার ধারাকে এভাবে নতুন ন্যারেটিভের নিচে খতম করে দেওয়া হলো কার্যত। যেটিকে পরে আর কোনোভাবে পাদপ্রদীপে আসতে দেওয়া হয়নি।
-
'নদী, তুমি কোন কথা কও?'—এই প্রশ্নের উত্তর নিশ্চয় নদী দেয়। প্রশ্ন হলো, আমরা কি আবার কখনও জীবনানন্দের মতো থেমে দাঁড়িয়ে শুনব? নাকি শেষপর্যন্ত সেই সভ্যতার অংশ হয়েই থাকব, যারা নদীর ভাষা না-বুঝে তাকে 'নীরব' ঘোষণা করেছিল?
-
ধারণ করতে অবশ্য ভুলে যাই তার এমতো স্বভাব,—কুকুরের বিশ্বস্ততাও কুক্-এর সমগ্রোত্রীয়। নিজ খাবারের ভাগ সে যেমন অন্যকে দিতে পছন্দ করে না, তেমনি বিশ্বস্ততা বস্তুটিকে এমনভাবে ধারণ করে চলে, যেটি কারো প্ররোচনায় ছিন্ন হওয়ার নয়। তার মমতা ও হিংস্রতার মতোই তা একমেবাদ্বিতীয়ম!
-
আব্বার কাছে বয়সের ভারে ক্লান্ত এক লোক ব্যাগভরতি চা-পাতা নিয়ে আসতেন। কে তিনি, কোথায় থাকেন, কেন চা-পাতায় ব্যাগ বোঝাই করে হানা দিতে থাকেন বাসায়... এসব প্রশ্ন মনে জাগেনি কখনো। ব্যবসার কাজে লোকজন আব্বার কাছে আসছেন, যাচ্ছেন। বিশিষ্ট না হলে কার ঠেকা পড়েছে তাকে জানার! ভুলটি তখন করেছি। বুঝিনি, যাকে হেলায় খেয়াল করছি না, তাকে একদিন স্মরণ না করে উপায় থাকবে…