পোস্ট শোকেস - সাম্প্রতিক

উজ্জ্বল ‘এই’ নিঃসঙ্গ পরিব্রাজক!

Reading time 6 minute
5
(10)
Self Portrait: iPad Drawing;
Artist: David Hockney (1937-2026);
Source & Credit: www.nga.gov/artworks

ইংরেজ স্থিরচিত্রী কিথ আর্নাটের ব্যতিক্রমী কাজের সঙ্গে পরিচয়ের ঘটনা বেশি হলে সাত-আট বছর আগে ঘটেছিল। পেছনে ফেলে আসা ষাট দশকের শেষ দিকটায় Self Burial-এ দৃশ্যায়িত স্থিরচিত্র দিয়ে শিল্পরসিকদের চমকে দিয়েছিলেন তিনি। এমন এক সময়রেখায় বসে স্থিরচিত্রটি উপহার দিলেন, যে-সময়রেখার গর্ভ ছিঁড়ে বেরিয়ে আসা পপ আর্ট ও ইন্সটেলশন আর্ট ততদিনে নয়া বাঁক নিচ্ছে। ডেভিড হকনির নামখানা সেখানে অ্যান্ডি ওয়ারহল বা ডোয়েনি মাইকেলের মতো অমোঘ মানতে হবে। বাঁকবদলের এই ছাপ কিথ আর্নাটের কাজে আভাসিত ছিল বৈকি।

Self Burial-এর স্থিরচিত্রে নিজেকে কবরস্থ করার ধারণা তুলে ধরতে অদ্ভুত কাণ্ড জন্ম দিয়েছিলেন কিথ আর্নাট! ব্রিটেন দেশের নাতিউচ্চ এক টিলা বেছে নেন তিনি। সাড়ে তিন হাত মাপের কবর খোঁড়া হয় সেখানে। নিজেকে মডেল বানিয়ে জলজ্যান্ত একটা মানুষের কবরে সেঁধিয়ে যাওয়ার ছবি ধাপে-ধাপে ধরতে থাকেন ক্যামরায়। আখেরি গন্তব্যে একটা মানুষের ক্রমশ মিলিয়ে যাওয়ার স্থিরচিত্রটি ধারণ ও সম্প্রচারের জন্য টেলিভিশন ক্যামেরা হাজির ছিল সেদিন।

স্থিরিচিত্রে ইন্সটলেশন আর্টের এহেন অভিনব প্রয়োগ ও এর সারগর্ভ দার্শনিকতা তাঁকে দ্রুত আলোচনায় নিয়ে আসে। পরে আরো বিচিত্র ঘরানায় কাজ করেছেন এই স্থিরচিত্রী। চিত্রকলা ও স্থিরচিত্রের অদৃশ্য সংযোগ সেখানে বজায় থেকেছে আগাগোড়া। শিল্পসৃজনের এরকম অভিনব পন্থা বেছে নেওয়ার নেপথ্যে ডেভিড হকনির মতো আঁকিয়ের প্রভাব নিজমুখে স্বীকার গিয়েছিলেন কিথ আর্নাট। তাঁর এই স্থিরচিত্রটি নিয়ে ‘প্রস্থানবিন্দুর পর’ শীর্ষক ফটোস্টোরি ধাঁচে একটা গদ্য লিখেছিলাম চার-পাঁচ বছর আগে। থার্ড লেন স্পেস-এ ‘ছবির অন্তরালে’ নামাঙ্কিত বিভাগে ওটা তুলেছি কিছুদিন আগে। আগ্রহী কেউ ইচ্ছে হলে পড়ে দেখতে পারেন।

সে যাকগে, মূল কথায় ফিরি। Self Burial-এর লেজ ধরে ডেভিড হকনির প্রতি আগ্রহ তীব্র হয়েছিল সেইসময়। এর আগে তাঁর নাম কানে এলেও আলাদা করে আগ্রহ জাগেনি কখনো। কিথ আর্নাট তা জাগিয়ে দিলেন এইবেলা। অনলাইনে ছড়ানো ডেভিড হকনির আঁকা ছবি-সাম্রাজ্যে চোখ রাখার পর তা আরো গাঢ় হয়। সমকালীন চিত্রকলায় কেন তাঁকে অন্যতম পথিকৃৎ মানা হয়, তা বুঝে নিতে অসুবিধে হয়নি কোনো।

সাত দশক ধরে ছবি আঁকায় সক্রিয় এই শিল্পী নতুন কী আঁকছেন জানার কৌতূহল থেকে পরে তাঁর নিজস্ব ওয়েবসাইটে মাঝেমধ্যে কড়া নেড়েছি। দশকওয়ারি সাজানো ছবিগুলো এই তো মাস দুয়েক আগেও সাইটে ঢুকে দেখেছি মনে পড়ছে। ছবি আঁকার সাংঘাতিক খাটুনির কথা যদি আমলে নেই, ডেভিড হকনিকে সেখানে পাবলো পিকাসোর মতো নিরলস মানতে হয়। রং-তুলিতে ইস্তফা না দিয়ে নতুনতর নিরীক্ষায় তৎপর থেকেছেন আজীবন।

পিকাসো তাঁর দীর্ঘ আয়ুকে শতভাগ ব্যবহার করে গেছেন। তাঁর অঙ্কনরীতি নির্দিষ্ট যুগে স্থির থাকেনি কখনো। সচেতনা এই মাত্রায় ছিল,—সময়ের প্রতিটা পালাবদলকে ধরার আবেশে অঙ্কনরীতি নতুন বাঁক নিয়েছে। আর্টলাভার বিস্মিত হয়ে দেখেছেন, পিকাসো স্বয়ং এক-একটা যুগ বা পিরিয়ডে বাস করছেন স্বেচ্ছায়! হকনির মধ্যে এই ব্যাপারখানা কাজ করেছে আগাগোড়া।

পিকাসোকে স্মরণীয় রাখতে ব্লু পিরিয়ডে আঁকা ছবিগুলো একলাই যথেষ্ট হওয়ার কথা। সেখানে স্থির থাকার পরিবর্তে বিখ্যাত কিউবিক পিরিয়ডে গমন করলেন পরে। ফিগারকে জ্যামিতিক এক ছাদে নবায়নের রোমাঞ্চ বুঝিয়ে দিচ্ছিল কেন তাঁকে ক্ষণজন্মা ভাবতে শিল্পরসিকরা বাধ্য। ডেভিড হকনি সম্ভবত এখানে এসে পিকাসোকে নিজের জন্য সবচেয়ে বড়ো অনুপ্রেরণা গণ্য করছিলেন। মিথ্যে নয় বটে, বহুল পরিমাণে পিকাসো সদৃশ এক শিল্পজীবন কাটিয়ে চোখ মুদেছেন সম্প্রতি! ওয়েবসাইটে দশক অনুসারে সাজানো ছবিগুলোর অঙ্কনরীতির বিবর্তনে এর প্রমাণ মিলছে বটে! পিকাসোর মতোই অঙ্কনরীতির বৈচিত্র্য, পরিপ্রেক্ষিতের ব্যবহার ও বিষয়-ভাবনায় দৃষ্টিনন্দন রূপের জগৎ তিনি আমাদের জন্য রেখে গেছেন। পিকাসোর আঁকা ছবিতে ধারাবাহিক যে-বিবর্তন আমরা আভাসিত দেখি, ডেভিড হকনিও সজ্ঞানে তা মেনে চলেছেন।

David Hockney’s Blie Guitar Series based on Wallace Stevens’s poem
‘The Man With the Blue Guitar’ and Pablo Picasso’s ‘The Old Guitarist’;
Source & Credit: hockney.com

ক্ষুধার্ত শিল্পদানব না হলে অঙ্কনরীতিতে নতুনত্ব আনা কঠিন হয়। ডেডিভ হকনির মধ্যে ক্ষুধাটি তীব্র থাকায় কখনো রিটায়ার করার ভাবনা তাঁকে পায়নি। সাত দশক ধরে টানা সক্রিয় ছিলেন আঁকায়। বিগত পনেরো-ষোল বছর মনে হতে পারে ছবি আঁকায় হাত গুটিয়ে নিয়েছিলেন। ধারণাটি ভুল। পুরোনো কাজগুলোকে নতুন আঙ্গিকে হাজির করার ভাবনায় তাঁকে পেয়ে বসেছিল।

দশকিপর্বে আঁকা ছবি, বিশেষত প্রিয় মাধ্যম ল্যান্ডস্কেপ পেইন্টিং থেকে বেছে নেওয়া ছবির ডিজিটাল ইন্সটলেশনে তাঁকে আমরা সক্রিয় দেখেছি। শুধু কি তাই, আইপ্যাডে ছবি আঁকার শিল্পকে পৃথক মহিমা দিয়েছেন ওই সময়টায়। ডেভিড হকনির ক্ষেত্রে এটা তাঁর গোড়ায় আঁকা লিথোগ্রাফ নির্ভর স্কেচ, ষাট-সত্তর দশকে অ্যাক্রলিককে মাধ্যম করে আঁকা পপআর্ট, আশি থেকে শূন্য দশকের সময়পর্বে ফটোকোলাজের অনুরূপ পৃথক যুগের অবতারণা করেছিল। আইপ্যাডকে ক্যানভাস করে ড্রইং পর্বে নিকোনো ধারা যেখানে নতুনত্বে মহিয়ান।

ডেভিড হকনির ওয়েবসাইটে দশক ধরে সাজানো ছবি দেখাটা এ-কারণে রোমাঞ্চক হয়ে ওঠে। পঞ্চাশ থেকে সত্তর দশকিপর্বে আঁকা ছবিতে পপ আর্টকে মূলত প্রাধান্য দিয়েছেন তিনি। মূল মাধ্যম রূপে অ্যাক্রলিককে (Acrylic) বেছে নিতে দেখছি তাঁকে। ছবিতে রংয়ের পোঁচ উজ্জ্বল, তবে অ্যাক্রলিকে তুলি টানার কারণে উজ্জ্বলতা জলরং ও তৈলচিত্রের মতো নয়;—একধরনের অস্বচ্ছতা সেখানে সচেনতভাবে রেখে দিচ্ছেন আঁকিয়ে। পপ আর্টের জন্য অ্যাক্রলিক ভালো মাধ্যম। তার মানে এই নয়, জলরং ও তৈলচিত্রে কোনো কাজ করেননি হকনি। সেগুলোও সমানে এঁকেছেন প্রচুর, তবে তা প্রাধান্য পায়নি সেখানে।

আশির দশক থেকে শূন্য দশকের সময়সীমায় আঁকা ছবিরা বেশ পৃথক। একাধিক মাধ্যমে তাঁর সক্রিয়তা ও সংমিশ্রণ চোখে পড়বে। অ্যাক্রলিক, জলরং, তৈলচিত্র… প্রতিটা মাধ্যমকে ব্যবহার করছেন মূলত নানা আকৃতির পোর্ট্রেট আঁকার আবেশে ডুবে থেকে। পরবর্তী দুই দশক তাঁর কাজে প্রযুক্তির ব্যবহার হয়ে উঠল ব্যাপক। ইন্সটলেশন আর্টের সম্প্রসারণ ঘটালেন নতুন করে। ছবি আঁকতে কম্পিউটার ও আইপ্যাডের ব্যবহার নতুন ভাষা খুঁজে পেল তাঁর কাজে।

প্রশ্ন হলো, ছবি আঁকার ক্ষেত্রে বিষয়-ভাবনার বৈচিত্র্য কতখানি গভীর পাচ্ছি ডেভিড হকনির কাজে? অন্য চিত্রশিল্পীদের থেকে তিনি এখানে মারাত্মক পর্যায়ের ভিন্ন বা ব্যতিক্রম, এরকম নয় মোটেও। স্টিল লাইফ, পোর্ট্রেট, ল্যান্ডস্কেপ থেকে শুরু করে প্রচলিত সকল ধারায় ছবি এঁকেছেন। আধুনিক নগরজীবনের চেনা অনুষঙ্গ, যেমন একাকীত্ব ও সংযোগহীনতার আভাস ক্যানভাসে অধিক পরিমাণে আভাসিত দেখছি। এর পাশাপাশি রংয়ের ব্যবহারে উজ্জ্বল ছবিগুলো নীরব এক মৌনতায় সমর্পিত যেন! বিষাদশিখর সংযোগহীনতার সমস্যাকে তুলে আনতে রংকে ক্যানভাসে এরকম উজ্জ্বল গাঢ়তা দিয়েছেন হয়তো!

শিল্পরসিকরা তাঁর ওপর পিকাসোর প্রভাব নিয়ে কথা বলেন। হকনি তা ডিনাই করেননি কখনো। পিকাসো কী কারণে তাঁকে গভীর প্রভাবিত করেছেন এই বিষয়ে নিজে বলেছেন নানাসময়। প্রথম তিন দশকে আঁকা ছবিগুলো পরপর দেখতে গিয়ে আমার অবশ্য মার্কিন চিত্রকর এডওয়ার্ড হপারকে মনে পড়েছে অধিক। ক্যানভাসে রংয়ের উজ্জ্বলতা, আলোছায়ার ব্যবহার, সাবজেক্ট আঁকার ক্ষেত্রে দূরত্ব ও বিন্যাস… ইত্যাদি ছাড়াও প্রতিটা ছবি থেকে উঠে আসা বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি হপারকে মনে করিয়ে যায় আপনা থেকে। ছবিগুলো যদিও হপারের অঙ্কনরীতি মনে আঁকা নয়। ডেভিড হকনির স্বাতন্ত্র্য সেখানে স্পষ্ট।

এডওয়ার্ড হপার মূলত জলরং ও তৈলচিত্রকে মাধ্যম করে ছবি এঁকেছেন। রং ও আলোছায়ার গাঢ়তা সেখানে বড়ো বিষয়। ছবির সাবজেক্ট তাঁর অঙ্কনরীতিতে এমনভাবে স্থান নিতো ক্যানভাসে, সব ছাপিয়ে সংযোগহীনতার বোধ তারা আভাসিত করে যায় দর্শকমনে। ডেভিড হকনি একই কাজ মূলত অ্যাক্রলিককে প্রাধান্য দিয়ে সেরেছেন। অতি স্পষ্ট উজ্জ্বল রং ব্যবহার করছেন, তবে উজ্জ্বলতা অ্যাক্রলিকের প্লাস্টিসিটির কারণে অস্বচ্ছ গাঢ়তাকে এড়াতে পারে না। এর ফলে কাঠামোয় সবকিছু বন্দি, মৌন ও সংযোগহীন থাকার অনুভূতিটা তীব্র করে।

A Bigger Splash and Portrait of an Artist (Pool with Two Figures);
Artist: David Hockny; Source & Credit: Collected; Google Image

ডেভিড হকনির জগৎ-বিখ্যাত ছবি, যেগুলো বিরাট অর্থমূল্যে বিক্রি হয়েছে বিভিন্ন সময়, তাঁর ওই ‘অ্যা বিগার স্প্ল্যাশ’ (A Bigger Splash, 1967), ‘পোর্ট্রেট অফ অ্যান আর্টিস্ট’ (Portrait of an Artist, 1972), ‘বিগার ট্রিজ নিয়ার ওয়ার্টার’ (Bigger Trees Near Warter, 2007), ‘দ্য অ্যারাইভাল অফ স্প্রিং ইন ওল্ডগেট’ (The Arrival of Spring in Woldgate, 2011) বা নব্বইয়ের শেষ দিকটায় আঁকা ‘অ্যা বিগার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন’ (A Bigger Grand Canyon, 1998) ছাড়াও আরো বহু ছবি পাচ্ছি, যেগুলো তাঁর কাজের স্বাতন্ত্র্য ও গভীরতাকে প্রতীয়মান করে যায়।

ল্যান্ডস্কেপ পেইন্টিংয়ে হকনির ঝোঁক ছিল বোঝা যায়। ইউরোপের সাজানো-গোছানো বা সোজা কথায় গার্ডেনিং করা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ক্যানভাসে ধরেছেন তিনি। অ্যাক্রলিকে যেমন এঁকেছেন, তৈলচিত্র ও জলরংয়েও এঁকেছেন অনেক। খেয়াল করলে দেখছি, স্বাভাবিক রীতি মেনে আঁকা নিসর্গে অতি উজ্জ্বল রংয়ের বন্যা গাঢ় হওয়ার কারণে তা ভ্যান গখের ধার ঘেঁষে যেতে-যেতে তাঁর থেকে পৃথক করেছে নিজেকে। একই নিসর্গ আসছে পরের কোনো ছবিতে, যেখানে জানালার কাঠামো বসিয়ে দিচ্ছেন ফ্রেমের মতো করে। ছবির অর্থ নিমিষে পালটে যাচ্ছে তখন! বুঝিয়ে দিচ্ছে, আধুনিক সময়ে ছবির মতো সাজানো এই নিসর্গ আসলে ফ্রেমবন্দি;—তা বুনো ও অবাধ্য নয়।

এমনকি কপি আর্ট, যেখানে ভ্যান গখের চেয়ারকে তিনি ফিরে এঁকেছেন, অঙ্কনরীতি ভ্যান গখের চেয়ারকে মনে করিয়ে দিচ্ছে ভালো করে, তথাপি রংয়ের পোঁচ চেয়ারকে ঘিরে মৌন সংযোগহীনতা প্রবল করায়। এর কারণ হয়তো এই-যে, রংয়ের উজ্জ্বলতাকে তিনি ইচ্ছে করে অস্বচ্ছ রাখছেন, যাকে ম্লান মনে হবে দেখে।

আরেকটি কথা না বললে নয়। ডেভিড হকনি গর্বিত সমকামী ছিলেন। ব্রিটেনে সমকাম বৈধ হওয়ার পর থেকে তাঁর অঙ্কনরীতিতে পুরুষ সমকামীর ভালোবাসা ও নগ্নতা বড়ো বিষয় হয়ে উঠেছিল। পঞ্চাশ থেকে ষাটের মধ্যপর্বেও এরকম কিছু ছবি তিনি এঁকেছেন অবশ্য। ক্যানভাসে তুলির খসখসে গাঢ় টানের কারণে যা নজর কাড়ে।

কুইয়ার (Queer) আর্ট একবিংশ শতকে একটা বড়ো শিল্পকৌশল। সমকাম নিয়ে সমাজের প্রোহিবিশন তীব্র থাকার দিনকালেও এরকম অসংখ্য ছবির দেখা মিলবে, যেখানে পুরুষসঙ্গকে শিল্পীরা ছবির বিষয়বস্তু করেছেন। মোগল সম্রাট বাবর যেমন সমকামী ছিলেন। কিশোরসঙ্গ করতেন। তো তাঁকে নিয়েও শিল্পীরা এঁকেছেন সেই যুগে। ডেভিড হকনি নিজে সমকামী হওয়ার কারণে এদিকটায় তাঁর ঝোঁক থাকারই কথা। তবে এখানেও মৌনগ্রস্ত এলিয়েশন বড়ো বিষয়! এবং তা রংয়ের উজ্জ্বল ধূসরতায় যথেষ্ট কর্কশ।

Early Spring: Oldgate (2010); Birth and copulation and death (2017);
The Chair (2015); The Group (2014); Artist: David Hockny;
Source & Credit: Collected; hockny.com

যাকগে, হকনির কাজ নিয়ে আমার আর কথা না বাড়ালেও চলবে। ধরা থেকে বিদায় নেওয়ার খবর আসার পর থেকে প্রচুর রিল চোখে পড়ছে। শিল্পরসিকরা তাঁর কাজকে নিবেদন করে সেগুলো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়েও দিচ্ছেন। ছড়ানোর কথাই বটে! বিংশ ও একবিংশ মিলে দুটি শতকে এমন এক আঁকিয়েকে আমরা পেয়েছি, যিনি নিসর্গ ভালোবাসছেন, নৈসর্গিক জীবন ধারণ করছেন ক্যানভাসে, এবং হয়তো-বা ফ্রেমবন্দি জীবন থেকে বেরিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছেন দর্শককে। রংয়ের উজ্জ্বলতায় যে-কারণে তীব্রই থেকেছেন ভ্যান গখের মতো।

ডেভিড হকনির এই রং কিন্তু অপ্রাকৃতিক লাগে দেখে! আমাদের দেখা রংয়ের মতো নয়। হতে পারে, ওটাই প্রকৃত রং আসলে! যা কেবল আঁকিয়েরা দেখতে পায়। হকনি স্মরণে থাকবেন, এবং তা এজন্যও,—তাঁর কাজের ধারা অন্যসব মহান শিল্পীর মতোই প্রাঞ্জল কিন্তু গভীরজটিল। একবার দেখার পর ফিরে দেখার তৃষ্ণা তীব্র থেকে যায়।
. . .

অবদায়ক : আহমদ মিনহাজ : থার্ড লেন স্পেস.কম

আহমদ মিনহাজ-এর অন্যান্য রচনা ও প্রাসঙ্গিক পাঠের জন্য এখানে চাপুন

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 10

No votes so far! Be the first to rate this post.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *