
ব্যারিকেড
[এই গান এই আর্তনাদ ‘নিখিলেশ’, তোকে ভেবে, তোর স্মরণে]
Barricade, চারিদিকে Barricade
নিষেধের তর্জনী জেগে পাহারায়।
Blockade, চারিদিকে Blockade
ছুটে জলপাই, সাঁজোয়া বহর
তর্জনী ঘোরে আঁধারে …
Halt… Left Right Left …
প্রেতের কুচকাওয়াজ।
Blackout, চারিদিকে Blackout
কাফনে ঢাকা লাশের মিছিল
মুখ নেই, ভূতুড়ে মুখোশ।
তর্জনী, চারিদিকে তর্জনী
চেনা ঘরে অচেনা মানুষ
চেনা ঠিকানায় অচিন মুখোশ
তর্জনী জেগে পাহারায়
হাঁকে হুঁইসেল আঁধারে …
Halt… Left Right Left …
Barricade, মরীচিকা শহরে Blockade
মুণ্ডুহীন ফুল সারি-সারি
অন্ধকারে মস্তকহীন সাদা ফুল
কালো রক্ত ঝরে নিকষ অমায়
কেউ জেগে নেই … বেঁচে নেই কিছু …
তর্জনী জেগে পাহারায়
হাঁকে সাইরেন … ‘বেরুনো বারণ!’
বেঁচে থাকা অন্ধকারে মুণ্ডুবিহীন।
Barricade, চারিদিকে Barricade
নিষেধের তর্জনী পাহারায়
হুঁইসেল … Halt… Left Right Left …
Barricade … Blockade …
Halt … Left Right Left …
. . .
সংযুক্তি

এই-যে বেঁচে আছি, করে খাচ্ছি দিনমান, নিরাপস ভান ধরে আপসের রাস্তায় হাঁটা প্রতি ক্ষণ… আর এই-যে অম্লানমুখে ‘ভালো আছি, বেশ আছি’ বলে প্রবোধ নিজেকে… সুনীলের মতো কোনো ‘নিখিলেশ’ নেই, যাকে বলা যায়,—‘আমি কীরকমভাবে বেঁচে আছি তুই এসে দেখে যা নিখিলেশ!’
বলা এখন নিজেকে নিজের! দাঁতে টুথপেস্ট ঘঁষতে-ঘঁষতে বলা, ‘ব্যারিকেড ও ব্লোকেডের শহরে অথবা এই দেশে, নয়তো চেনা হতে-হতে অচেনা ধরণীতে আরেকটি অবরুদ্ধ দিন শুরু হলো! আরো একটি অবরুদ্ধ রাত নামবে দিনের শেষে! তারপর…!’ তার আর ‘পর’ নেই… কেবল বেঁচে থাকা! ঘাড়ের ওপরে ‘ধড়’ নেই জেনেও ধড়খানা ‘আছে’ ধরে নিয়ে ব্লোকেড পেরুনো।
‘পেরুনোর’ কিছু আছে কি সত্যি? আছে কিছু পেরিয়ে যাওয়ার…! কারো মুখপানে তাকিয়ে শিশুর মতো বিস্ময়ে হেসে ওঠা! নিষ্পাপ হাসি ও নিষ্পাপ ডুকরে ওঠায় কতটা তফাত? ভেবে নেওয়া,—‘এখনো এই প্রেতের জীবনে কোথাও বুঝি শিস দিয়ে উঠছে দোয়েল!’
এখনো কি ‘নিখিলেশ’, তোকে বলা যায়, —‘ঘুমিয়ে পড়ার আগে দুজনে মিলে মাটি চেটে দেখি কত রক্ত কান্না গর্জন, আর কত নিষ্পাপ হাসি ও হাহাকার শুষে ধরণী এখনো সবুজ!’ কেন গান গেয়ে ওঠে কেউ দূরে! কেন এই মাটির গভীর থেকে গমক দিয়ে ওঠে কেউ … ‘Halt’!
কেন থামতে হবে ‘নিখিলেশ’? কেন ঘুরতে হবে ডান থেকে বাঁয়ে নিখুঁত পা ফেলে! যখন এই হাঁটু এই কোমর ধসে যেতে চায় মাটির ভিতরে? ‘পুরোহিত কঙ্কাল’ পাশা খেলবে, ব্যারিকেড ও ব্লোকেড থাকবে তখনো। আর তখনো ‘নিখিলেশ’… মুণ্ডুহীন আমি/তুই/আমরা টের পাবো ঈশ্বরের তর্জনী ঘুরছে ঘরে-বাইরে। ওটা ঘুরছে না-ঘোরার বিস্ময় নিয়ে। আর তখনো এই বেঁচে থাকা মনে হবে জলপাই পোশাকের Left Right Left… হ্যাঁ তখনো ‘নিখেলেশ’… তখনো…
ভুলেভালে ভরা জীবনের মতো ভুলে ঠাসা অক্ষম এই গানখানা তোকে উৎসর্গ করছি;—যে-তুই হয়তো ছিলি পৃথিবীতে বেঁচে থাকা শেষ পেরেকবিদ্ধ যিশুর মতো! যাকে বলা যায়,‘—আমি কীরকমভাবে বেঁচে আছি তুই এসে দেখে যা নিখিলেশ!’
—আহমদ মিনহাজ
. . .
. . .

. . .


