জলহীন আকাশ থেকে ঝরে-পড়া কোনও পাখির শেষ স্মৃতির মতো, ভোরে জানালায় পড়ে ছিল একটি সাদা পালক। সারাদিন সেটি হাতে নিয়ে বসে রইলাম। কোনও শব্দ শোনা গেল না।
-
-
পাখি গায় না কাউকে শোনানোর জন্য; গায়, কারণ গানই তার স্বভাব। মানুষের কানে কখনও সেই গান আনন্দের, কখনও বেদনার, কখনও আবার এক অজ্ঞাত শূন্যতার প্রতিধ্বনি হয়ে ধরা দেয়। এই অনিশ্চিত অনুভবের গভীরতাই মানুষের অবচেতনকে নীরবে স্পর্শ করে, তাকে নিজের অন্তর্জগতের মুখোমুখি দাঁড় করায়।
-
এসো, কিছুটা বসি গিয়ে বারান্দায় অন্ধকারের কাছে।/ যদি দেখি জোনাকিজ্বলা সময়ের খাদে ত্যক্ত হয়ে উঠেছে/ হাড়মাস—তবে না-হয় চলে যাব কোনও গিরিপথে।
-
কবিতা কোনও ধর্মগ্রন্থ নয়— / তবু তার পাতায় পাতায়/ ঘুরে বেড়ায় অগণিত প্রশ্নের ছায়া।/ সে জানে—/ মানুষ প্রথম কবে/ আকাশের দিকে তাকিয়ে/ নিজের নিঃসঙ্গতার জন্য/ একটি পরিচয় খুঁজেছিল।
-
এখন আর আমরা অপরিহার্য শব্দ আর অর্থের মধ্যে ঘুরপাক না খেয়ে শব্দের-অতীত ‘চেতনা’য় আশ্রয় খুঁজি। অর্থাৎ বস্তু বা শব্দের অর্থদ্যোতনার চেয়ে শব্দাতীত অনুষঙ্গের প্রতি পাঠকের অভিনিবেশ অধিকতর মাত্রায় লক্ষণীয়।