কবিতা সিরিজ : ভাঙা সময়ে কবিতা-১
রচনা : ফজলুররহমান বাবুল

১.
যে কথা কয় আনমনে—সে কি হাওয়া?
কেউ নেই, তবু কারও যাতায়াত—
অদৃশ্য পায়ের নিচে কেঁপে ওঠে নীরবতা।
হৃদয়সমুদ্রে কে ফিসফিস করে?
কোনও শব্দহীন অবয়ব?
২.
ঘুম ও জাগরণের ফাঁকে ফাঁকে
সময় নিজেই ভেঙে পড়ে—
কাঁটার বদলে ঝরে পড়ে মুহূর্তের গুঁড়া।
হাঁটতে হাঁটতে আমরা খুঁজি সেই ক্ষণ—
যার কোনও জন্মই হয়নি।
৩.
মাছেরা মাঝে মাঝে আকাশের দিকে তাকায়,
ডানাহীন স্বপ্নে ভাসে—
পাখিরা ভুলে যায় বাতাস, ডুবে চায় নোনাজলে।
আমরা শুধু দেখি—
দিগন্তের দিক বদলে গেছে চুপিসারে।
৪.
পেছনে ছায়ারা নাচে,
আলো পায় না চোখ,
গান ভাসে চারদিকে—
কান পৌঁছায় না তার কাছে।
স্পর্শ করতে গিয়ে দেখি—
হাতেরা ভরে যায় শূন্যের ধুলোয়।
৫.
শূন্যের দরজা খুলে দেখি
ফিরে আসার কোনও পথ নেই।
শূন্য শুধু আঁকড়ে ধরে,
আর, আমরা শুধু হাঁটি…
পায়ের নিচে পড়ে থাকে পথ।

৬.
যখন গাছেদের পাতা কাঁপে,
নিচ থেকে কেউ চিৎকার করে।
আমরা তাকাই—
কেউ নেই, শুধু কাঁপন ওঠে।
৭.
যেখানে মাছরা উড়তে পারে,
পাখিরা ডুব দেয়—
সেখানে পৃথিবীটাকে দেখি
নিজেদেরই অচেনা মুখে।
৮.
জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকি—
বাতাস আসে ভিতর দিক থেকে।
দৃশ্যগুলো উল্টো হয়ে তাকায়,
আমরা তাকাই ধার করা চোখে।
৯.
যখন সময় ঝরে পড়ে মাটিতে,
তখন আমরা কাঁদতে চাই—
কিন্তু আমাদের চোখ থেকে
অশ্রুর বদলে ঝরে পড়ে ছায়া।
১০.
পাখিরা গান গায় জলের নিচে—
মাছেরা চমকে ওঠে, তবু শোনে না।
আমরা হয়তো শুনি—
ভাষা হয়ে ওঠে না তার।
. . .

লেখক পরিচয় : উপরে ছবি অথবা এখানে চাপুন
. . .


