পোস্ট শোকেস - সাম্প্রতিক

মারজান সাত্রাপি : পারস্যে অগ্নির সুবাস

Reading time 5 minute
5
(15)
Book Cover: Persepolis by Marjane Satrapi; Image Source & Credit: Collected; Google Image

মারজান সাত্রাপি! ‘পার্সেপোলিস’-এর মারজান সাত্রাপি! প্রথম ছবি দিয়ে হৃদয়ে জায়গা নিয়েছিলেন আপনি। পরে আরো ছবি বানিয়েছেন ভিনদেশে বসে। ‘পার্সেপোলিস’ ছাড়া একটাও দেখা হয়নি জানেন তো! বিশ্বের নামকরা সব সংবাদমাধ্যমে অতিথি লেখক হিসেবে অনিয়মিত কলাম ও ব্লগ লিখতেন আপনি। সমাজমাধ্যম ও পডকাস্টেও দেখেছি আপনাকে। অনুসরণ করেছি তার কিছু;—আপনার চোখ দিয়ে পেছনে ফেলে আসা স্বদেশ কিংবা আপনাকে ঘিরে তৈরি নতুন পৃথিবীটা দেখার লোভে। এটুকুন… কেবল এটুকুন! আশ্চর্য দেখুন,—স্মৃতিকোষে তবু অমলিন থাকলেন আপনি! মস্তিষ্কের বাতিঘরে জোনাকির মতো আপনার নামখানা জ্বলতে-নিভতে দেখার ব্যামো আজো গেল না!

আপনার নাম যখনই মনের পর্দায় ভেসে উঠেছে, যতবার জোনাকির মতো জ্বলে উঠেছেন স্মৃতিকোষে,—একটি তেরো-চৌদ্দ বছরের মেয়েকে আমি দেখেছি বিশ্বাস করুন। বিপ্লব আর যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান ছেড়ে বাচ্চা মেয়েটি অস্ট্রিয়ার প্লেনে চাপছে। তার পরিবার কেবলি ওই বামপন্থী রাজনীতিতে আস্থা রাখার দোষে মোল্লাদের রোষানলে পড়েছিল। ওইটুকুন একটা মেয়ে, তাকে বেছে নিতে হলো পরিজনহীন ভিনদেশের জীবন! বেছে নেওয়ার মধ্যে স্বস্তির লেশ ছিল না। উদ্বেগ ছিল। ভয় ও শঙ্কা ছিল। আর ছিল, পরিজনদের ম্লান মুখে পরাজয় মেনে নেওয়ার বেদনা। সেই-যে প্লেনে চাপল মেয়েটি, পরে আর কখনোই স্থায়ীভাবে ফিরতে পারেনি নিজবাসভূমে। না তার স্বদেশ ফিরেছে সঠিক ঠিকানায়।

‘পার্সেপোলিস’, যতদূর মনে পড়ছে,—গ্রাফিক নভেল ছিল। সিরিজ আকারে ওটা লিখেছিলেন আপনি। বাচ্চা বয়সী এক মেয়ের দেশত্যাগের কাহিনি শোনালেন বিশ্বকে। মেয়েটি প্লেনে চেপে ভিনদেশে পাড়ি দিয়েছিল। কিছুদিন সেখানে কাটানোর পর দেশে ফেরত আসে পুনরায়। দেশ তখন বিশৃঙ্খলায় নিপতিত। বিপ্লবী সরকার নতুন কালাকানুন চাপাচ্ছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র কায়েম করার নামে। মেয়েদেরকে চেপে ধরার প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে। ওদিকে, ভূ-রাজনীতির ফাঁদে তাকে ঠেসে ধরেছে আমেরিকা ও ইসরায়েল। প্রতিবেশী ইরাকের সঙ্গে দশকওয়ারি লড়াইয়ে ফেঁসে যাওয়ার আয়োজন ততদিনে সম্পন্ন প্রায়। এরকম এক পরিবেশ মেয়েটি ফিরেছিল দেশে।

নিজেকে যারা মুক্তমনা ভাবতেন এতদিন, মার্কিন মদতপুষ্ট রাজবংশকে গদিছাড়া করতে খোমেনিতন্ত্রকে সমর্থন করছিলেন অকুণ্ঠ,—তারা বেবাক কোণঠাসা একে-একে। দোজখের মধ্যে বসবাস করাটা অসম্ভব বুঝে পরিবারের চাপে আপনি আবার পাড়ি দিলেন ইউরোপ। স্থায়ী অভিবাসীর জীবন বেছে নিতে বাধ্য হলেন আরো অনেকের মতো। বিশ্ব এখন জানে,—গ্রাফিক নভেলে অভিবাসনের গল্পটাই আপনি তুলে ধরেছিলেন মূলত।

সেই গল্প থেকে অ্যানিশেন মুভি তৈরি করলেন পরে। সিনেমা বানানোর কলাকৌশল শিখে নিয়েছেন ততদিনে। বিশ্ব চমকে উঠল পরিপক্ক শিল্পজ্ঞানে বোনা ছবির দৃশ্যগুলো দেখে। পৃথিবীর দূর প্রান্তে বসে বসে আমরাও সাক্ষী হলাম সেই সিনে-অভিজ্ঞতার। বিশ্বজুড়ে আপনার সুনাম ছড়িয়ে পড়েছিল। ইরানি সিনেমার স্মরণীয় নির্মাতাদের লম্বা তালিকায় ঢুকতে আর বাধা থাকল না। ফ্রান্সে কত নামডাক হলো আপনার! বিশ্বের কোথায় নয়!

এর সবটাই এখন স্মৃতি! যা স্মৃতি নয় তা হচ্ছে ইরান। দেশটিকে আপনি যে-অবস্থায় পতিত রেখে প্লেনে চাপলেন চার দশক আগে, ছবি তারপর বদলায়নি তেমন। ভূ-রাজনীতি ও আভ্যন্তরীণ সংঘাতে স্বদেশকে পুনরায় সংঘাতে পীড়িত দেখার অসন্তোষ নিয়ে চোখ মুদলেন চিরতরে। দীর্ঘদিনের দাম্পত্যসঙ্গীকে হারিয়ে বিষণ্নতায় ভুগছিলেন আপনি;—সংবাদটি ফলাও প্রচার পেয়েছে দেখলাম। জন্মভূমির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি মনোবেদনাকে আরো বিষাক্ত করে তুলেছিল বলে পরিবারের লোকজন নিশ্চিত করেছেন।

Persepolis Movie Scene by Marjane Satrapi; Image Source & Credit: Collected from Movie Clips

ফরাসি সরকারের দেওয়া জাতীয় সম্মান ‘লিজিয়ন অব অনার’ প্রত্যাখ্যানের খবর সামনে এনেছে অনেক গণমাধ্যম। ইরান ইস্যুতে ফরাসি সরকারের ভূমিকা আপনার পোষায়নি। জগদ্দল পাথর হয়ে চেপে বসা মোল্লাতন্ত্র মার্কিন-ইসরায়েল-আরব মিলে তৈরি জোটের চাপিয়ে দেওয়া অন্যায় আক্রমণ প্রতিহত করছে ভালো কথা, কিন্তু ইসলামি জীবনবিধান প্রতিষ্ঠা ও সাম্রাজ্যবাদ প্রতিহত করার অজুহাতে যে-বিভীষিকা দেশের অভ্যন্তরে ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় কায়েম করেছে, তো সেই বিষয়ে ফরাসি সরকারের নীতিগত অস্বচ্ছতা আপনার ক্ষোভের কারণ ছিল। দীর্ঘদিনের আবাসভূমি ফ্রান্সে বসে সরকারকে একহাত নিয়েছিলেন আপনি। আপনার প্রস্থানে তথাপি ফরাসি প্রেসিডেন্ট শোকার্ত। ইউরোপ থেকে হলিউডেজুড়ে শোক ঝরেছে অবিরল। অনেকের কাছে এগুলো বড়ো ঘটনা;—আমার কাছে তা গৌণ জানবেন।

আফটার ‘পার্সেপোলিস’,—আপনার এসব খ্যাতিফ্যাতি ও প্রভাববিস্তারী কাজে জড়ানো আমাকে আকর্ষণ করে না অতটা। আপনি ইরানদেশের মেধাবী গোলাপ। সৌরভ ছড়াবেন সে জানা কথা। আমার ঋণ অন্যখানে। আপনার চোখ দিয়ে দেখা ‘পার্সেপোলিস’ আমাকে ইরান ও পারস্যের মধ্যে সবসময় জাগ্রত পার্থ্যকটি ধরতে শিখিয়েছিল। চিরঋণী করে গেছেন সেখানেই! আপনার কাছে এই ঋণ বলে বোঝানোর নয়।

অনেক পরে বুঝেছিলাম, কেন বাপ-মায়ের রাখা মারজান ইব্রাহিমি থেকে মারজান সাত্রাপি হলেন আপনি। ইব্রাহিমি পদবীটার মধ্যে চাপানো ইতিহাসের বেদনা লুকানো ছিল-যে! মেনে নেওয়ার গ্লানি বহাল থেকেছে সংগোপন। ইরানে থাকলে পদবীটা হয়তো রেখে দিতেন। পারিবারিক ঐতিহ্য ও ভালোবাসার টানে কাঁধে করে বইতেন চাপানো এক ইতিহাসকে মেনে নেওয়ার বেদনা। তা আর হলো কই! ‘পার্সেপোলিস’-এর সচিত্র বয়ানে নিজেকে আঁকতে বসে বোধহয় বুঝতে পারলেন,—চাপানো কোনোকিছুর ভার বহন করা কতটা মর্মান্তিক! ওটাকে ছাটাই করতে না পারলে আত্মপরিচয়ে গর্বিতশির দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন হয়। মারজান ইব্রাহিমি থেকে মারজান সাত্রাপি নামে আপনি নিজেকে চেনালেন। ফেরত গেলেন প্রাচীন পারস্যের আকেমেনিদ যুগপর্বে। প্রাদেশিক গর্ভনরদের সাত্রাপি নামে সম্মানিত করার রেওয়াজ ফেরত আনলেন এভাবে। আত্মপরিচয় বুঝি ফিরে পেল সঠিক নিশানা!

গ্রাফিক নভেলিস্টের ছদ্মনামে নিজের নাম আড়াল করা এম্নিতেও জরুরি হয়ে ওঠে অনেকসময়। আত্মরক্ষার জন্য অনেকে তা করেন বলে শুনেছি। পাল্প ফিকশন ঘরানাটি সাধারণত দ্রোহি ও সহিংস বিবরণে ঠাসা থাকে। আপনি, মারজান সাত্রাপি, মনে হয় এদিকটা ভেবেছিলেন তখন। বিদেশে থাকা মানে এই নয় মোল্লাদের রাডার থেকে দূরে ছিলেন আপনি। তারা নিশ্চয় মেয়েটির ওপর নজর রাখছিল। পোশাকের শরিয়তি আবরণে পারস্যের গোলাপে সুবাসিত মেয়েদের স্বাধীনতা নিলামে তোলার বহর মেয়েটিকে ক্ষুব্ধ করেছিল। মোল্লাদের রোষানল এড়াতে সে তাই পাড়ি দেয় ভিনদেশে চিরতরে। সেইসঙ্গে টেনশনের পারদ বাড়িয়ে তুলতে মোল্লাদের ঘাড়েই দায় চাাপিয়ে যায় তাকে নজরবন্দি রাখার।

মোল্লারা আপনার নাম কখনো ভোলেনি মারজান সাত্রাপি। আমরাও ভুলিনি, যারা জীবনে কোনো একবার ‘পার্সিপোলিস’টা দেখেছি দমধরা নিঃশ্বাসে। আরেকটি কারণে আপনি জোনাকি হয়ে মগজে থেকে গেছেন। ‘বিলম্বিত স্মরণে’ সেটা না-বলে পারছি না। আরবদেশে তৈরি সিনেমা দেখতে বসলে একটা সময় নারী নির্মাতাদের খোঁজ করত মন। খরা ছিল সেখানটায়। তো সেই খরা হঠাৎ কমতে শুরু করল! বিগত দশ-পনেরো বছর ধরে নারী নির্মাতার মিছিল দেখছি আরববিশ্বে তৈরি সিনেমায়। বড়ো সুখের ঘটনা! মনোরম তো নিশ্চয়!

লেবানন, তিউনিসিয়া, প্যালেস্টাইন, মরক্কো, এমনকি সৌদি আরব থেকে একের-পর-এক নারী-নির্মাতার ছবি বানাতে আসা যুগান্তকারী ঘটনাই বটে! আপনার স্বদেশ ইরানও বাদ যায়নি। সেখানেও দেখা মিলছিল প্রতিভা ও প্রতিবাদে দীপ্ত নারী নির্মাতার। এঁনাদের সিংহভাগ অবশ্য আপনার মতোই ভিনদেশে নির্বাসিতা। সেখানে বসে স্বদেশকে তুলে ধরছেন সিনেপর্দায়।

Persepolis Movie Scene by Marjane Satrapi; Image Source & Credit: Collected from Movie Clips

নাদিন লাবাকি, কাউথার বেন হানিয়া, অ্যানমারি জাসির, হাইফা আল-মনসুর… আরবদেশের ছবিতে নারী নামের মিছিল দেখছি এখন। আপনার দেশটাও ভালোভাবে জায়গা করে নিয়েছে মিছিলে। স্বদেশী সামিরা মখমলবাফকে আগে থেকে চিনতাম মহসিন মখমলবাফের বরাতে। তাঁর মেয়ে ছবি বানাচ্ছে, আর আমরা দেখব না, তা হতেই পারে না! পরে একে-একে দেখা দিলেন তাহমিনেহ মিলানি ও আনা লিলি আমানপোর-র মতো ইরানি গোলাপ। প্রত্যেকের ছবির ভাষা ও নির্মাণকৌশল স্বতন্ত্র। বুদ্ধিদীপ্ত ও সংবেদনশীল বয়ান সিনেপর্দায় তুলে ধরতে সুদক্ষ;—এবং প্রত্যেকে তাঁরা শিল্পমেধায় মানবিক। আরব কিংবা ইরানি মেয়েরা সিনেপর্দায় সাবলীল হলেন দেখে আপনার মুখখানা চোখের সামনে ভেসে উঠত বারবার।

রুশ সাহিত্যে এই বিখ্যাত উক্তিটি আমরা পাই,—তাবড় রাশিয়ান লেখক গোগলের ওভারকোট থেকে বেরিয়ে এসেছে। আমার এটা মনে হতো বা এখনো তাই ধারণা করি,—আরব ও ইরানের নারীনির্মাতারা চৌদ্দ বছর বয়সী একটি মেয়ের লংকোট থেকে বেরিয়ে এসেছিল। মেয়েটি অজানা দেশে নামবে বলে প্লেনে উঠেছিল, আর সেদিন থেকে ঘটনাটি অনিবার্য ছিল,—তার কোটের পকেট থেকে একে-একে মেধামনস্ক মেয়েরা বেরিয়ে আসবে।

আমেরিকায় বসে আনা লিলি আমিরপুর ‘A Girl Walks Home Alone at Night’-এর মতো হররঠাসা থ্রিলার বানিয়ে চমকে দেবে দর্শককে। মোল্লারা ইরানে ভূত ছাড়া আর কী! এগুলার জান কবচ করতে ভ্যাম্পায়ার দরকারি। গলায় দাঁত না বসানো অবধি তারা জমি ছাড়বে না। নাদিন লাবাকি ওদিকে কমেডিঠাসা সিনেবয়ানে প্রাণখুলে হাসার মওকা দেবেন সবাইকে। আমরা হাসব এটা দেখে,—বেবাট আহাম্মক আরব মরদগুলাকে বেহুদা মারপিট থেকে বের করার মতলবে ঘরের মেয়েগুলো কীরকম ফন্দি আঁটছে দেখো!

বিচিত্র এই সিনে-অভিজ্ঞতা আরব মেয়েদের চোখ দিয়ে যতবার দেখেছি বা মাঝেমধ্যে এখনো দেখতে বসি,—আমার কেবল ‘পার্সেপোলিস’র তেরো-চৌদ্দ বছরের কার্টুনে আঁকা মেয়েটির মুখ মনে পড়ে! মেয়েটির আড়ালে আত্মগোপন করে আছে এক অগ্নিগোলাপ;—পারস্যের সুগন্ধ বিশ্বে ফেরি করতে যে-একদিন মারজান ইব্রাহিমি থেকে মারজান সাত্রাপি নাম নিয়েছিল। আজ সে-গোলাপ ঝরে গেছে ডিপ্রেশনে! সুগন্ধ তবু উবে যায়নি একটুও! নাকে টের পাচ্ছি গোলাপের সুবাস। মোল্লাদের তৈরি আতর ওটা নয়। এই সুগন্ধ অনেক দিনের পুরোনো হলে কী হবে, তার সুবাস এখনো অমলিন! সুগন্ধের নামটি মারজান সাত্রাপি। সুগন্ধ উৎপাদনে মশহুর ফরাসি দেশে বসে যে-মেয়ে বিলি করেছিল চির অমলিন পারস্য-সুবাস।
. . .

Persepolis Movie Trailer by Marjane Satrapi; Source: Movie Predictor YTC

. . .

… থার্ড লেন স্পেস-এ প্রাসঙ্গিক আরো দেখুন …

নূর-ই পাক ‘আনাহিতা’ ও নির্মল জল ‘সরস্বতী’

‘গ্লোবাল ট্রাম্পিজম’ ও উদীয়মান ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র : মোস্তাফিজুর রহমান জাভেদ

টাওয়ারস অব সাইলেন্স : ‘নীরবতায়’ সংগোপন যে-উত্তর

‘পরম নৈতিক’ আলী লারিজানির ইরান : মোস্তাফিজুর রহমান জাভেদ

“প্রসঙ্গ ইরান” : তাৎক্ষণিক নেটালাপ

প্রসঙ্গ ইরান : আমাদের দ্বিধা ও স্ববিরোধিতা : মোস্তাফিজুর রহমান জাভেদ

মহসেন নামজুর কোরানগান

বেশরিয়ত জামানার গোলাপসুন্দরীগণ

. . .

অবদায়ক : আহমদ মিনহাজ : থার্ড লেন স্পেস.কম

আহমদ মিনহাজ-এর অন্যান্য রচনা ও প্রাসঙ্গিক পাঠের জন্য এখানে চাপুন

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 15

No votes so far! Be the first to rate this post.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *