
কলকাতার বাংলা ছবি ‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’-এর সুবাদে সম্প্রতি ভাইরাল এই গানটির বয়স কত হতে পারে? সিলেট অঞ্চলে বিয়েশাদির মতো উৎসবকে কেন্দ্র করে তৈরি গানের অভাব নেই। সিলেট ও যুক্তরাজ্যে বসে একালের শিল্পীরা গানগুলো যে-যার মতো গাইছেন নিয়মিত। ‘লঞ্চ চলে ধীরে ধীরে’ তেমন একটা গান। ধামাইল সহযোগে পরিবেশিত গানটি অনলাইনে ধামাইল গানের জনপ্রিয় শিল্পী দিতি দাসের কণ্ঠে শ্রোতাপ্রিয়। অন্যান্য ধামাইল দলকেও গানটি প্রায়ই গাইতে ও ভিডিও ছাড়তে দেখে আসছি হয়ে গেল অনেকদিন।
গানটি, ধারণা করি,—জলবেষ্টিত ভাটিবাংলায় কোনো একদিন জন্ম নিয়েছিল। নদী ও হাওরমেখলা সুনামগঞ্জ বিচিত্র লোকগানের সম্ভারে ঠাসা। সামাজিক জীবনাচার থেকে রকমারি বৈচিত্র্যে ভরাট গানের ধারা একটা সময় জন্ম নিয়েছিল। বিয়ের সঙ্গে জোড়া ‘লঞ্চ চলে ধীরে ধীরে’ গানটিও তাই। ভাটিবাংলার জলঘেরাও নিরালায় বসে অজানা গীতিয়াল গানটি বেঁধে থাকতে পারেন। ‘গানের দেহে যে-আভাস গুঞ্জরিত, তা আবার গানবাজনায় ‘সখিন’ কোনো নারী গীতিয়ালকে কল্পনায় নিতে মনকে উতলা করে বেশ!
এরকম গানের আদিঅন্ত তালাশে লিপ্ত সজল কান্তি সরকারকে অবশ্য জিজ্ঞেস করা যায়। আমার ধারণা, উনি এটাকে ‘মহলা’য় ফেলবে। সমাজে একশো আচার-অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে গান বাঁধার রীতি নতুন নয়। ‘লঞ্চ চলে ধীরে ধীরে’ সেই দায় মিটাতে জন্ম নিয়ে থাকতেও পারে। ‘মহলা’ রীতিতে গান বাঁধার সুবিধা হলো স্বত্ব/মালিকানা নিয়ে গ্যাঞ্জামে যাওয়ার ঝামেলা থাকে না। সামাজিক আচার-উৎসবের ধরন ও পরিবেশ বুঝে গান তৈরি হয়। পরিবেশ ভেদে গানের বিষয়বস্তু, আবহ ও কথা বদলেও যায় হামেশা। গানে বহমান সুরকাঠামোও অবিকল থাকে না সবসময়।
গীতিয়ালের আভাস গানে রেখে যেতে ভণিতার চল পুরোনো হতে পারে, তবে লোকগানে এটা কোনো বড়ো বিষয় নয়। মৌখিক পরম্পরায় গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে গমন করার সুবাদে গানের কথা, শব্দ, উচ্চারণ ও সুর থেকে আরম্ভ করে গীতিয়ালের পরিচয় তুলে ধরতে ব্যবহৃত নামধাম বদলে যায় নিমিষে। বিশেষত, গ্রামের অন্তঃপুরে কোনো নারী যখন নিরলে গান বাঁধেন, সামাজিক অনুশাসন ও সংস্কারের চাপে পড়ে নিজের নামখানা সরাসরি নিতে সংকোচ বোধ করেন। রাধারমণ বা এরকম কিংবদন্তিদের আড়ালে নিজ নাম-পরিচয় আড়াল করেন তারা। গানের বাহানায় সমাজ-মনস্তত্ত্ব বুঝে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ এই সূচকটি আমাদের এখানে সামাজিক গবেষণায় একপ্রকার উপেক্ষিত এখনো! বিষয়টি নিয়ে গভীর-সন্ধানী হওয়ার সুযোগ সজলদার রয়েছে মনে করি। জানি না, এটা তাঁকে কতটা ভাবিয়েছে এ-পর্যন্ত।
সজলদার অনুসন্ধান বিবেচনায় নিলে মানতে হবে,—‘মহলা’ রীতি মেনে বাঁধা গানে গীতিয়ালের নাম-পরিচয় বাদ পড়া মাথাব্যথার কারণ হয় না। ‘লঞ্চ চলে ধীরে ধীরে’ গানটি যেমন গীতিয়ালের পরোয়া করেনি। সিলেটি প্রচলিত বিয়ের গীতের বড়ো অংশ তাই বটে। গীত রচয়িতার নামপরিচয় মুখ্য নয় এসব গানে। এখান থেকে যদি ভাবি, তাহলে লঞ্চ চলে ধীরে ধীরে’-কে সজলদার ‘মহলা’ রীতিতে ফেলা যেতে পারে।
আমার এই বিবেচনা আশা করি ভুল নয় বা বড়ো কোনো অপরাধ ঘটছে না অনুমানে। সে যাকগে, গানের গীতিয়াল নিয়ে মাথা ঘামানোর জন্য আজ বসিনি। কেন বসেছি সে-কথায় যাওয়ার আগে বলে রাখি,—শিবপ্রসাদ ও নন্দিতা জুটির ছবিতে গানটির প্রাণবন্ত পরিবেশনা দেখতে ও শুনতে মন্দ লাগেনি। সংগীত আয়োজনে জয় সরকার মোটের ওপর ভালোই সুবিচার করেছেন।
দিতি দাসেরটা অনেকবেশি সিলেটনিষ্ঠ তাতে সন্দেহ নেই, তবে কলকাতায় গমনের পর গানটির শরীর থেকে ভাটির জলহাওয়া ও বিয়াতিকন্যার চাপা মনোবেদনা বেমালুম গায়েব হয়েছে… এরকম বোধ হয়নি। উপরন্তু গানে নেপালি সারেঙ্গির ব্যবহার ছিল সৃজনশীল সংযোজন। সব মিলিয়ে একখানা ‘থ্যাঙ্কু’ জয় সরকার দাবি করতে পারেন।
নতুন পরিবেশনায় ‘লঞ্চ চলে ধীরে ধীরে’ শ্রবণের ক্ষণে আতকা এই ভাবনা উদয় হলো মনে,— আচ্ছা, গানটির বয়স কত হতে পারে? গানে সরাসরি ‘লঞ্চ’ ও ‘মোটরকার’-এর রেফারেন্স এসেছে। তো এই হিসাবে এর বয়স দেড়শো থেকে দুশো বছরের বেশি হওয়ার কথা নয়। সবদিক বিবেচনায় নিলে বয়স আরো কমে আসার সম্ভাবনা থাকছে।
গুগলিং করে জানা গেল, প্রায় দুশো বছর আগে বাংলার জলপথে গোরা সায়েবরা স্টিমার সার্ভিস চালু করে। জেমস জনস্টন নামের গোরা সায়েব ১৮২৯ সনে প্রথম স্টিমার জলে ভাসান। সেকালের বাংলাদেশ ও সুরমা ভ্যালি নামে পরিচিতি সিলেট অঞ্চলে স্টিমার চালু হয় আরো ত্রিশ-বত্রিশ বছর পরে। গুগল মামা জানাচ্ছেন,—১৮৬২ থেকে ১৮৭০ সনের মধ্যে সুরমা ভ্যালিতে যাত্রী ও মালবাহী স্টিমার নাবতে শুরু করেছিল।
গুগল মামার তথ্য যদি সঠিক হয়ে থাকে, তাহলে সিলেট অঞ্চলে স্টিমার সার্ভিসের বয়স দেড়শো বছরের ভিতরেই থাকছে। প্যাডেল স্টিমার থেকে পরে রকেট সার্ভিসে উন্নীত হয় তা। স্টিমার চালুর পেছনে চা-বাগানের পত্তন, চুনাপাথর ও বনজ সম্পদ বাইরে চালান করা ছাড়াও ব্যবসা বাড়িয়ে নেওয়ার একশো মতলব গোরা সায়েবদের মনে গুনগুন করছিল তখন। আসামের ডিব্রুগড় থেকে জলপথের পরিসীমা সুরমা ঘাটের স্টিমার সার্ভিস অবধি তেনারা সম্প্রসারণ করেছিলেন বেশ দ্রুত। ভাটি অঞ্চলেও স্টিমার পরিসেবা চালু হতে সময় নেয়নি খুব একটা।
সবই বোঝা গেল! সমস্যা হলো, গানের কথায় ‘লঞ্চ’ আসায় এর বয়স স্বাভাবিক নিয়মে দেড়শো-দুশো বছর থেকে অর্ধেকে নেমে আসবে। গুগলিং মোতাবেক বাংলাদেশে লঞ্চ সার্ভিস মূলত পাকিস্তান আমলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পাক ওয়াটার নামে একখানা কোম্পানির কথা জানালেন গুগল মহাশয়। এরকম কোম্পানির নাম এই প্রথম শুনছি মনে হলো!
অনলাইনে ছড়ানো-ছিটানো সোর্স ঘেঁটে জানা গেল, ভাটিবাংলায় লঞ্চের সগৌরব চলাচল সাতচল্লিশে দেশভাগের পরপর শুরু হয়। যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে হাওর অঞ্চলে কাঠের বডি দিয়ে তৈরি লঞ্চ চলাচলের বয়স সত্তর-আশি বছরের কম নয়। ‘লঞ্চ চলে ধীরে ধীরে’ গানটির বয়স ধরতে তথ্যটি কাজের বটে। কাঠের বডি দিয়ে তৈরি লঞ্চ আমরাও দেখেছি ছোটবেলায়। আর, পাকিস্তান আমলে এরকম কাঠামোয় তৈরি লঞ্চ হাওর-বাওর দাপিয়ে বেড়ানোর কথা একাধিক সূত্রও নিশ্চিত করছে। ‘বুরহান এক্সপ্রেস’, ‘আজিজ মঞ্জিল’, ‘জালালী’, ‘সুরমা’ ও ‘জামালগঞ্জ এক্সপ্রেস’ নামধারী লঞ্চ নাকি ওই সময়টায় এই রুট ধরে নিয়মিত যাত্রী ও মালামাল বহন করেছে।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নতুন আকৃতির লঞ্চ জলপথে নামানো হয়। এই ইতিহাস আপাতত আমাদের জন্য অপ্রাসঙ্গিক। গানের স্থায়ী চরণ ‘লঞ্চ চলে ধীরে ধীরে’টা আমাকে এখানে ভাবাচ্ছে অধিক। অনুমান করা যেতে পারে,—বিয়াতি কনেকে নিয়ে লঞ্চ যাত্রা করেছেন। বউকে নতুন ঠিকানায় নামিয়ে দিতে বেশ ধীর গতিতে পানি কেটে আগাচ্ছে জলযান। নদীতে ঝড় অথবা হাওরবক্ষে আফালের ঝামেলা যদি না থাকে, লঞ্চের ধীরগতিতে চলবার কথা নয়। কেন তবে ‘ধীরে ধীরে’ চলেছেন তিনি নয়া বউয়ের মতো…!—গানের আবহে এর উত্তর পাওয়া দুরাশার নামান্তর।
হতে পারে, লঞ্চের এই ‘ধীরে চলা’র তথ্যটি গানে রূপক হিসেবে আসছে। বিয়ের কনের ঠিকানা পরিবর্তন অতঃপর স্থায়ী হতে চলেছে। বাপের বাড়ি আর বাপের বাড়ি থেকেও থাকছে না তার জন্য। ধীর গতিতে চলতে থাকা লঞ্চে কন্যাকে বসিয়ে বাপের বাড়ির সঙ্গে শ্বশুর বাড়ির প্রভেদখানা কি ধরিয়ে দিচ্ছে এই গান? আমার কল্পনা প্রসূত অনুমান ভুল হোক এটা মনে-মনে চাইছি। যদি ভুল হয়, তাহলে গানটিকে পেছনে নেওয়া যাবে সহজে। পাকিস্তান আমলের গোড়ায় চলে যেতে পারছি আমরা। কাঠের বডি দিয়ে বানানো ধীরগতির লঞ্চ যে-সময়টায় ভাটি এলাকার জলপথে নেমেছিল। সময়ের হিসাবে ষাট থেকে আশি বছরসীমায় গানটি কেউ বেঁধে থাকতে পারেন বলে আমরা তাহলে ধরে নিতে পারব।
গুগলমামার তথ্য যদি আবারো আমলে নেই, তা বলছে,—দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শক্তিশালী ইঞ্জিন জুড়ে গতিশীল লঞ্চ নৌপথে নামানো হয়। পল্টু-১’, ‘পল্টু-২’, ‘শরিফপুর এক্সপ্রেস’ ইত্যাদি নাকি ভালোই গতি রাখত সেইসময়। ভাটিবাংলায় কবে থেকে গতিশীল লঞ্চ আসে, এই ব্যাপারে ভালো তথ্য গুগল দিতে পারেনি। ধরে নিচ্ছি,—আশি পরবর্তী কালপর্বে দ্রুতগতির লঞ্চ হাওরে নেমে থাকতে পারে। উক্ত হিসাবে গানটির বয়স কমতে থাকবে। চল্লিশ থেকে পঞ্চাশে বছরের মধ্যে ভাটির মহলায় কি গানটি জন্ম নিয়েছিল? প্রশ্নটি আপাতত টুকে রাখি। পরে আরো তালাশ করলে একটা আন্দাজ মিলবে আশা করি।
গানটির বয়স আন্দাজের আরেকখানা সোর্স হলো ‘মোটর’। বুঝতে যদি ভুল না করি, এখানে মোটরগাড়ির কথাই বলছেন গীতিয়াল। ‘মোটর চলে পলকে’ চরণখানার মধ্যেই লঞ্চের তুলনায় মোটরগাড়ির দ্রুতগতি গানে আভাসিত। বিয়ের পর কনেযাত্রার রীতিতে পরিবর্তনের ইশারা আমরা পাচ্ছি এখানে। নৌকা থেকে স্টিমার, স্টিমার থেকে লঞ্চ, লঞ্চ থেকে এখন ইচ্ছে ও সামর্থ্য থাকলে মোটরকারে কন্যাকে বরের বাড়িতে পাঠানো সম্ভব।
ইন্টারনেটের তথ্যসায়রে ডুব দিয়ে এটুকু জানা হলো,—ঢাকায় বিংশ শতাব্দীর গোড়ায় মোটরকার নেমেছিল। জলঘেরাও ভাটিবাংলায় আদ্যিকাল থেকে জনপ্রিয় নৌকার পাশাপাশি স্টিমার ও পরে লঞ্চের সগৌরব দাপট নয়ের দশকেও বহাল থেকেছে। বড়ো গহনা নৌকায় ভাটির সম্পন্ন পরিবারের মেয়েরা হয়তো বরের ঘর করতে গেছেন। বড়ো গহনা নৌকা ও লঞ্চে গেছেন যথারীতি। কিন্তু, মোটরকারে ‘হামাইয়া’ বাপের বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়ি যাত্রার সিনারি দেখার চল হাওর অঞ্চলের উপযোগী রাস্তা ও সেতু নির্মাণের অবকাঠামো তৈরি হওয়ার আগে ঘটার কথা নয়।
ইনফ্যাক্ট, এই একুশ শতকেও শুকনো মওসুম বাদ দিলে হাওরের যাতায়াতের জন্য নৌকা ও লঞ্চের বিকল্প নেই। পর্যটকের জন্য স্পিডবোটকে আমি গোনায় নিচ্ছি না। এভাবে হিসাব নিলে গানটির বয়স কমতে-কমতে ত্রিশ থেকে চল্লিশ বছরের ঘরে এসে থামবে।
যাইহোক, গানটি বর্তমানে যে-কথা ও ভাবে গীত হয়, এটা তার আদি ও অবিকৃত রূপ নাও হতে পারে। লঞ্চ ও মোটরকার ইত্যাদির আগে অন্য বাহনের উল্লেখ ও এর সঙ্গে মানায় এরকম কথা দিয়ে গানখানা গীত হওয়া বিচিত্র নয়। সেক্ষেত্রে এর বয়স পেছনে যেতে থাকবে। আর যদি তা না হয়, তাহলে এটা বেশি হলে ত্রিশ থেকে চল্লিশ বছর সময়সীমায় মহাল-এ জন্ম নিয়ে থাকতে পারে। যেভাবে এর উদয় ঘটুক, গানখানা সিলেট অঞ্চলে লোকগান, বিশেষত ধামাইল সহকারে পরিবেশিত বিয়ের গীতের সমৃদ্ধ ইতিহাসকে ভালোই মনে করিয়ে যায়।
শিবপ্রসাদ ও নন্দিতা জুটি জয় সরকারকে দিয়ে গানখানা নতুন করে পরিবেশনার সময় রিসার্চটা করলে ভালো করতেন। অনলাইনে এই গানের সংস্করণের অভাব নেই। একটু খবরাত্তি করলে এটা-যে সিলেট অঞ্চলে বিবর্তিত বিয়ার গীত, তার হদিস নিজেরাও পেতেন মনে হয়। ইন্টারেস্টিং তথ্যও বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা থাকত মনে করি। গানের ক্রেডিট লাইনে ‘সংগৃহীত’ লেখার পাশাপাশি ‘সিলেট অঞ্চলে প্রচলিত বিয়ের গান’ তথ্যটি সংযোজন করতে পারতেন সহজে। দরকার পড়ত না দর্শকের, যারা মন্তব্য বিভাগে এসে গানটির অঞ্চল ও সীমানা প্রবল উৎসাহে ও গর্বের সঙ্গে উনাদেরকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন।
তারচেয়ে বড়ো কথা, ছবিতে কবি শ্রীজাত মনে হলো গানটান লিখেছেন। কিছু সোর্সে গানটির গীতিকার রূপে উনার নামখানাও ব্যবহৃত হতে দেখছি। নির্মাতা ও বাকিরা এই ব্যাপারে সজাগ হলে ভালো। সামাজিক মহলায় সৃষ্ট অনন্য গানখানার ওপর এছাড়া অবিচারের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি বাড়বে সামনে।
. . .

অবদায়ক : আহমদ মিনহাজ : থার্ড লেন স্পেস.কম
আহমদ মিনহাজ-এর অন্যান্য রচনা ও প্রাসঙ্গিক পাঠের জন্য এখানে চাপুন


