আপনি ইরানদেশের মেধাবী গোলাপ। সৌরভ ছড়াবেন সে জানা কথা। আমার ঋণ অন্যখানে। আপনার চোখ দিয়ে দেখা ‘পার্সেপোলিস’ আমাকে ইরান ও পারস্যের মধ্যে সবসময় জাগ্রত পার্থ্যকটি ধরতে শিখিয়েছিল। চিরঋণী করে গেছেন সেখানেই!...
-
-
‘সনাতন’ ধারণাটি মূলত বহুত্ববাদী, নমনীয় ও দার্শনিক। এখানে নানা পথ, নানা দেবতা, এমনকি নাস্তিকতাও জায়গা পায়। উপনিষদের অদ্বৈতবাদ, বৌদ্ধের অনাত্মবাদ, তন্ত্রের শক্তিচিন্তা, ভক্তির ব্যক্তিগত প্রেম—সব একসঙ্গে সহাবস্থান করতে পারে অনায়াসে। কিন্তু আধুনিক হিন্দুত্ববাদ প্রায়শ এই বহুত্বকে কেন্দ্রীভূত রাজনৈতিক পরিচয়ে রূপ দিতে চায়।
-
কবি যদি সমাজের চালচিত্র পরিবেশক হন, তাহলে পথ দেখিয়ে দেওয়াটাও তাঁর আরেকটা কাজ। কোন পথে মানুষের পরিত্রাণ ঘটবে! কোন দিকে মানুষ যাবে! সময়ের জাঁতাকলে বেঁচে থাকার উপায় কী? এসব জিজ্ঞাসা নিশ্চয় কবিকে ভাবিত করে। সেই তাড়নায় কবিতা নির্দেশের চেহারা নিতেই পারে। প্রায় সব কবিই নির্দেশ দিয়ে থাকেন, কেউ প্রত্যক্ষ কেউ ইশারায়।
-
এখন আর আমরা অপরিহার্য শব্দ আর অর্থের মধ্যে ঘুরপাক না খেয়ে শব্দের-অতীত ‘চেতনা’য় আশ্রয় খুঁজি। অর্থাৎ বস্তু বা শব্দের অর্থদ্যোতনার চেয়ে শব্দাতীত অনুষঙ্গের প্রতি পাঠকের অভিনিবেশ অধিকতর মাত্রায় লক্ষণীয়।
-
...ইতিহাস, রাজনীতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে মোহভঙ্গ নেতিবাচক কোনো ঘটনা নয়। নতুন করে ভেবে দেখা, প্রশ্ন তোলা ও নিজস্ব অবস্থান পুনর্নির্মাণের সুযোগ তৈরি হয় এর ফলে। আমাদের এই মোহগ্রস্ত হওয়া ও মোহভঙ্গের বেদনা এভাবে কতদিন চলবে তা আমার জানা নেই। নতুন চরিত্র ও ভাবধারা এবং আবারো নতুন কোনো মোহের আবির্ভাব ঘটতে থাকবে অন্তহীন;—এই বিষয়ে অন্তত আমার মনে কোনো সংশয় নেই!