কাহিনি ও চরিত্র নির্মাণের অভ্যস্ত প্রথাকে ছেটে ফেলে আখ্যান রচনা দুরূহ কাজ। মোটেও স্বাভাবিক ঘটনা নয়। ওরবিটাল-এ অস্বাভাবিক এই ঘটনাটি সামান্থা ঘটিয়েছেন। তাঁর কল্পআখ্যানের মূল শক্তি সেখানে। অলঙ্কার বাদ দিয়ে এমন এক ভাষাচিত্র তিনি গড়েছেন, যার জোরে প্রচলিত অর্থে আখ্যান না হয়েও অরবিটাল মনে হয় উতরে গেছে। লেখার নতুন ধরন বটে, এবং আমাদের ভাবা উচিত। আগামীর পৃথিবীতে চিন্তাপ্রধান বিবরণ ভাষাচিত্রে…
-
-
আমি ভাই সোজা বুঝি,- বাংলাদেশে আপাতত দুইখান জিনিসের বিকল্প নাই। নাম্বার ওয়ান, যিনি দেশ চালানোর ড্রাইভারি করবেন উনাকে সিচুয়েশন কন্ট্রোলে দক্ষ হইতে হবে। গাড়ি রাস্তায় আছে না খাদে পড়তেছে এই বুঝটা থাকলে কাফি। গাড়ি চালাইতে গিয়া উনার গায়ে যদি লৌহশাসক, একনায়ক, একচ্ছত্রবাদী এবং অদ্য পপুলার লেবেঞ্চুস ফ্যাসিস্ট উপাধিখানা দেশের ছুচিল সমাজের মালপোয়ারা বসাইতে থাকে তো বসাক। হু কেয়ারস! ড্রাইভার সায়েবের…
-
শিকল পাগলা এই চক্কর হইতে মুক্ত। অন্ধ চোখে দিব্যি সব দেখতে আছে সে! চোখের কী ধার! যখন গান করে,- আমাদের সকল জারিজুরি মনে হয় ন্যাংটা করে দিতেছে। জন্মান্ধ এই চক্ষুষ্মানের আঁখিঠারকে ফাঁকি দিবার নাই উপায়।
-
পৃথিবীতে বব মার্লে একবার আসছিল, বারবার আসবে না। অমরত্ব পাইতে আসছিলেন,- অমরত্ব লাভ করছেন। তথাপি মরুর বুকে তিনি নির্বাসিত ছিলেন একপ্রকার। সৌদি যুবরাজ সালমানের কল্যাণে মহামেদ এলবকরির কণ্ঠে ডেজার্টল্যান্ডে অবশেষে গীত হইতেছেন তিনি! বড়ো আনন্দ। হুমায়ূন আহমেদের পাগলাটে কোনো চরিত্রের মতো বলতে ইচ্ছা করতেছে,- বড়োই সৌন্দর্য! চোখে জল আসতেছে। জল কি মুছব? না থাক, মুছব না। এলবকরি গাইতে থাকেন গেট…
-
কাশফুল নয় শুভ্র বা বাদামি। সে এখন মসিবর্ণ। পোড়া কয়লা। কোথায় পালাইতেছে এইসব মসিবর্ণ কাশফুল? মাটির ভিত্রে? শরৎপ্রভায় জ্বলজ্বল আসমানে? বোঝার উপায় নাই। উপায় নাই বোঝার,- জেগে আছি, নাকি ঘুমের ভিত্রে পোড়া কাশবন ধরে হাঁটতে-হাঁটতে সাদা অথবা বাদামি কাশফুল দেখতেছি। ভ্রান্তি ছাড়া কিছু নাই। সাদা কাশবন নাই। আছে নিরোর পোড়া বাঁশি, আর ঠাকুরের একফালি শরৎ অঞ্জলি।