...হিসেবের বাইরে শক্তি জুটিয়ে হাত প্রসারিত করি, আবছায়ারা আমাকে চেনে কিনা বোঝা যায় না। এই আবছায়াদের মধ্যে আমার জীবনের নারী আছে, পুরুষ আছে, আছে চেনা বৃক্ষ, কাণ্ড, পাতা, পাখপাখালী। সেই গুইসাপ, ভয় আর রং ছড়ানো জীবন…পছন্দ হয় তো মাথা উঁচিয়ে হাঁটো, না হয় তো খোলস বদলিয়ে দাও।
-
-
কবি যদি সমাজের চালচিত্র পরিবেশক হন, তাহলে পথ দেখিয়ে দেওয়াটাও তাঁর আরেকটা কাজ। কোন পথে মানুষের পরিত্রাণ ঘটবে! কোন দিকে মানুষ যাবে! সময়ের জাঁতাকলে বেঁচে থাকার উপায় কী? এসব জিজ্ঞাসা নিশ্চয় কবিকে ভাবিত করে। সেই তাড়নায় কবিতা নির্দেশের চেহারা নিতেই পারে। প্রায় সব কবিই নির্দেশ দিয়ে থাকেন, কেউ প্রত্যক্ষ কেউ ইশারায়।
-
এখন আর আমরা অপরিহার্য শব্দ আর অর্থের মধ্যে ঘুরপাক না খেয়ে শব্দের-অতীত ‘চেতনা’য় আশ্রয় খুঁজি। অর্থাৎ বস্তু বা শব্দের অর্থদ্যোতনার চেয়ে শব্দাতীত অনুষঙ্গের প্রতি পাঠকের অভিনিবেশ অধিকতর মাত্রায় লক্ষণীয়।
-
কুয়াশাভোরে— / পৃথিবী যেন স্বপ্নে / খামখেয়াল।
-
এরকম কিছু পঙক্তি আলোর রোশনাই হয়ে বইটিকে দ্যুতি দিয়েছে। নাজমুল হক নাজুর ভাষানির্মাণ জটিল নয়। সরল-সংযত এক ভাষাপৃথিবীতে বসে কবিতাগুলো লিখেছেন কবি। চিত্রকল্পে ভাবালুতার প্রয়োগ চোখে পড়বে। উৎপ্রেক্ষা-রূপক ও উপমারা মিলে ধ্রুপদি এক আমেজ যেন এভাবে পাঠককে উপহার দিতে চেয়েছেন। গতিপথের এই সহজযাত্রা মনের দরজায় কড়া নেড়ে যায়।