কবিতা সিরিজ : ভাঙা সময়ে কবিতা-২
রচনা : ফজলুররহমান বাবুল

১১.
রাতের ভিতরে হঠাৎ দুপুর জেগে ওঠে,
আলো নেমে যায় অন্ধকারের দিকে।
ভাঙা হৃদয়ে আমরা দেখতে থাকি—
ছায়ারা লম্বা হয় মাথার ভিতরে।
১২.
একটি নদী হঠাৎ উজানে নামে,
পাথর ভাসে জলের ওপরে।
আমরা হাত ডুবাই জলে—
স্পর্শ করি ভাঙা সময়ের ঠান্ডা কাচ।
১৩.
মুখগুলো বদলে যায় আয়নার ভিতরে,
কেউ-ই নিজের মতো থাকে না।
আমরা তাকিয়ে থাকি রাতবিরেতে—
সময়ের চোখগুলোকে চেনা যায় না।
১৪.
আমরা শব্দ ছুঁড়ে দিই আকাশে,
ফিরে আসে নীরবতার বৃষ্টি হয়ে।
আমরা ভিজে যাই—
কেউ বোঝে না — কী বলা হয়েছিল।
১৫.
একটি দরজা খুললে আরেকটি বন্ধ হয় না,
ঘরগুলো একে-অন্যের ভিতরে ঢুকে পড়ে।
কংক্রিটের শহরে আমরা পথ হারাই—
দেয়ালগুলো হেঁটে যায় পাশ কাটিয়ে।
১৬.
স্বপ্নগুলো জেগে ওঠে দিনের আলোয়,
বাস্তব ঘুমিয়ে পড়ে বিছানার নিচে।
আমরা খুঁজি — কোনটা ছিল আমাদের,
আমরা স্বপ্ন খুঁজতে খুঁজতে পথ ভুলে যাই।
১৭.
ঘড়ির কাচে জমে ওঠে কুয়াশা,
ভিতর থেকে কেউ মুছে দেয় না।
আমরা সময় দেখতে চাই—
আঙুল ভিজে থাকে, দৃশ্য ঝাপসা।

১৮.
স্মৃতির ছায়ারা হঠাৎ শরীর পায়,
মানুষগুলো হালকা হয় বাতাসে।
যখন নাম ধরে ডাকতে যাই—
স্মৃতিগুলো ঠোঁটেই জমে যায়।
১৯.
শব্দরা জন্ম নিতে নিতে ভেঙে যায়,
অক্ষরগুলো ছড়িয়ে পড়ে মাটিতে।
আমরা কুড়িয়ে নিই—
কোনওটাই আর বাক্য হয় না।
২০.
পথেরা হঠাৎ থেমে যায় মাঝপথে,
গন্তব্য হারিয়ে যায় অদৃশ্য কোণে।
তবু আমরা সামনে এগোই—
পায়ের শব্দই শুধু ফিরে আসে।
২১.
ছায়ারা চিঠি নিয়ে আসে,
শব্দ নেই, তবু কাঁপে অনুভব।
খুলে দেখি খালি কাগজ—
মনে হয়, কিছু লেখা ছিল।
২২.
পুরনো কথারা রাতবিরেতে জেগে ওঠে,
টেবিলের ওপর হাঁটে নিঃশব্দে।
আমরা উপলব্ধি করি—
ভাষারা খোলস বদলায় ঠোঁটের কাছে।

২৩.
ঘুমের ভিতরেই ঘুম খুলে যায়,
স্বপ্নেরা একে-অন্যকে দেখে ভয় পায়।
আমরা জেগে উঠে কিছু দেখতে চাই—
বালিশের নিচে পড়ে থাকে সকাল।
২৪.
যখন বাতাস থেমে যায় হঠাৎ,
পাতাগুলো তবু কাঁপতে থাকে।
আমরা তাকিয়ে বুঝে নিই—
অদৃশ্য কিছু হেঁটে গেছে পাশ দিয়ে।
২৫.
পাখি উড়ে যায় অন্ধকারের দিকে,
ডানায় লেগে থাকে ভাঙা আলো।
আমরা অনুসরণ করি—
ভাঙা সময় আরও গভীরে খুলে যায়।
. . .
লেখক পরিচয় : ফজলুররহমান বাবুল : উপরের ছবি অথবা এখানে চাপুন
. . .

অবদায়ক ফজলুররহমান বাবুল : থার্ড লেন স্পেস
ফজলুররহমান বাবুল-এর অন্যান্য রচনা ও প্রাসঙ্গিক পাঠের জন্য এখানে চাপুন



