পোস্ট শোকেস - বিবিধ ও বিচিত্র

মানব-গুঞ্জনে নিখোঁজ ঝিঁঝিঁ-গুঞ্জন

Reading time 6 minute
5
(5)
Gryllinae of Field Cricket; Image Source & Credit: Britannica.com

কত কিছু অজানা হায়! দিনের তাপমাত্রা মাপার প্রাকৃতিক পদ্ধতি ঝিঁঝিঁ-গুঞ্জন বিষয়ে কোনো ধারণা ছিল না! অনলাইনে এক ভদ্রলোকের ভিডিওয় রাখা বক্তব্যে জানা গেল, ঝিঁঁঝিঁ পোকার ডাক থেকে দিনের তাপমাত্রা নির্ভুল বের করা যায়! তথ্যটি আগ্রহ জাগিয়ে তোলায় গুগল করি কিছুক্ষণ। নাইস টু নো বলতে এটুকুন,—আজ থেকে সোয়াশো বছর আগে মার্কিন বিজ্ঞানী আমোস এমারসন ডলবেয়ার তাপমাত্রা মাপার প্রাকৃতিক উপায় খুঁজতে নেমে ঝিঁঁঝিঁ-গুঞ্জনের মাহাত্ম্য আবিষ্কার করেন। ডলবেয়ার এটা লক্ষ করেন,—তাপমাত্রা বাড়া-কমার সঙ্গে ঝিঁঝিঁর পাখা ঝাপটানো থেকে সৃষ্ট শব্দকম্পনের সম্পর্ক নিবিড়। তাপমাত্রা বাড়লে ঝিঁঝিঁর ডাক পাল্লা দিয়ে বাড়ে। তাপমাত্রা নিচে নামলে ডাক বা গুঞ্জন কমে আসে।

বাড়া-কমার চেয়ে বড়ো বিষয় হলো মোটামুটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ঝিঁঝিঁ পোকারা স্থির মাত্রায় তাদের জাতীয় সংগীতটা গায়। ডলবেয়ার একে কনস্ট্যান্ট বা ধ্রুবক ধরে প্রতি সেকেন্ডে ঝিঁঁঝিঁ কতবার ডাকছে তার হিসাব বের করে ফেলেন। গাণিতিক সূত্রে ফেলার পর দিনের তাপমাত্রা কত তা বেরিয়ে এসেছিল। কিছু সমস্যা ছিল না তা নয়, সেগুলোও সমাধান করেছিলেন ডলবেয়ার সূত্র-র (Dolbear’s Law) জনক এই বিজ্ঞানী।

অনলাইনে অনেকে দেখলাম তাপমাত্রা বের করার পদ্ধতিটি আগে থেকে ভালো জানেন। যেমন, ১৫ সেকেন্ডে ঝিঁঝিঁ পোকা যতবার ডাকবে তা স্টপওয়াচ চালিয়ে আমরা রেকর্ড করতে পারি। এখন এই ডাকের সংখ্যার সঙ্গে ডলবেয়ারের সূত্র অনুসারে ৪০ সংখ্যাটি যোগ করে নিলে দিনের তাপমাত্রা কত ডিগ্রি ফারেনহাইট চলছে সেটা বেরিয়ে আসবে। সেলসিয়াসের ক্ষেত্রে যেমন ৮ সেকেন্ডে ঝিঁঝিঁ পোকা কয়বার ডাকছে, তা স্টপওয়াচ চালিয়ে আমরা গুনে নিতে পারি। ধরা যাক, ৮ সেকেন্ডে ২৫ বার ডেকেছে। ডলবেয়ারের সূত্র এখানে ২৫-এর সঙ্গে ৫ যোগ করতে বলবে। তার মানে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফারেনহাইট ও সেলসিয়ার উভয় ক্ষেত্রেই ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক থেকে দিনের তাপমাত্রার হিসাব প্রায় শতভাগ নির্ভুল বেরিয়ে আসে। আরো আছে এরকম কিছু সূত্র।

সে যাইহোক, ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক গুনে তাপমাত্রা পরিমাপের ঘটনা প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের যুগে বড়ো কোনো ঘটনা নয়। এরকম অনেক প্রাকৃতিক পদ্ধতি অতীতে ছিল কিংবা এখনো থাকার কথা। তথ্যটা বরং এই ঝাঁকুনি দিয়ে গেল,—লাস্ট কবে ঝিঁঝিঁর ধাতব সুরেলা গুঞ্জন শুনেছি, তা অনেক ভেবে মনে পড়ছে না! টিলা, গাছগাছালি ও ঝোপঝাড়ে সিলেটে আগের মতো নয়ন-সুখকর নয়। যেটুকু এখনো টিকে আছে,—ঝিঁঝিঁ পোকার সম্মিলিত জাতীয় সংগীত শুনতে পাওয়ার কথা! কানে তালা লাগানো শব্দ-গোলযোগের কারণে দিন ও সন্ধ্যার কথা বাদ দিচ্ছি। এতো শব্দের মধ্যে কোনো শব্দ আলাদা করে কানে প্রবেশ করে না। এসব নিয়ে কাব্য করার দিন বিগত হয়েছে অনেকদিন। কিন্তু রাতগভীরে শুনতে পাওয়ার কথা! স্মৃতি হাতরে দেখি কমসে-কম কুড়ি বছর হবে ঝিঁঝিঁর ডাক কানে পশে না!

শহরের যে-এলাকায় আমার নিবাস, সেখানে টিলা, চা-বাগান, ছড়া ও ছোটখাটো বনজঙ্গল এখনো টিকে আছে। বাগানের ভিতরে ঝিঁঝিঁ নিশ্চয় ডাকছে, কিন্তু আগের মতো ঘরের চারপাশজুড়ে তার কলরব শোনা যায় না। ভেকের কলরবের মতো ঝিঁঝিঁ-গুঞ্জনও শুনতে পায় না কান! খেয়াল হলো, আট-দশ বছর আগে শেয়ালের ডাক প্রচুর শুনেছি রাতগভীরে। ইদানীং হঠাৎ কানে আসে। কিংবদন্তির শেয়াল পণ্ডিত মনে হচ্ছে বিলীন হতে যাচ্ছেন অমায়! বনকুকুর ও বনমোরগ আগে দেখেছি চা বাগানে, এখন চোখে পড়ে না। বানর আছে, প্রতিদিন হানা দেয় খাবারের তালাশে। এই বানরগুলো কি চা বাগানের?

আমার মনে হয়, চাষনী পীরের মাজারজুড়ে যে-বানরদল রাজত্ব করে বেড়ায়, এলাকার লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে তাড়ানোর চেষ্টা করেছে বহুবার, শহরের নানা এলাকায় তারা একটা গ্যাং হয়ে হানা দেয় নিয়মিত। সেদিন অফিসের জানালার গ্রিল ধরে দেখি তাকিয়ে আছে একজন। চোখের বোবা চাহনিতে দুষ্টুমির মতলব নেই। ভালোই উদাসনয়নে নিরিখ করছিল কম্পিউটার স্ক্রিন। বৃষ্টি দিচ্ছে তখন, সেজন্য বোধহয় এসেছিল ক্ষণিক। মনে হলো,—এনাকে বাসার আশপাশে দেখেছি টহল দিতে। সম্ভবত গ্যাংস্টার হবেন। দলের কেউ সেদিন সঙ্গী ছিল না লিডারের। মোদ্দা কথা,—একই বানর-বাহিনি শহরজুড়ে খাবার ও নিরাপদ অভয়ারণ্য খুঁজছে মরিয়া হয়ে।

মানব ও বানরের অসম যুদ্ধের মূল কারণ সমাধানে কারো মাথাব্যথা নেই। মাথা থাকলে মাথাব্যথা হয় অবশ্য। বাঙালি, সুরসিক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের ‘হেঁটমুণ্ড ঊর্ধ্বপদ’ জাতি। বড়ো ভালো একটা কথা বলেছিলেন কিছুদিন আগে,—‘হাসি হারিয়ে গেছে মানুষের জীবনে। হাসি আসে না, হাসির গল্পও রসেবশ পারি না লিখতে।’

চাষনী পীরের মাজার যেহেতু টিলার ওপরে, আর পুরো তল্লাট গাছগাছালিতে সবুজে সবুজ দেখায় বেশ, গাছ উজাড় হওয়ার তীব্রতা হুট করে বোঝা যায় না। সত্য নির্মম,—দালানকোঠা উঠছে, গাছাগাছালি নিকাশ হচ্ছে, পাখি ও বন্যপ্রাণীরা ফুস মন্তর ‘নাই’ হয়ে যাচ্ছে হঠাৎ! শামসুর রাহমানের ‘দুঃস্বপ্নে একদিন’ কবিতাটা মনে পড়ছে :

আপনারা নতুন পয়ঃপ্রণালী পরিকল্পনা নিয়ে
জল্পনা-কল্পনা করছেন,
কারাগার পরিচালনার পদ্ধতি শোধরাবার
কথা ভাবছেন (তখনো থাকবে কারাগার)
নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে, মাটি কাটছে ট্রাক্টর,
ফ্যাক্টরি ছড়াচ্ছে ধোঁয়া, কাজ হচ্ছে,
কাজ হচ্ছে,
কাজ করছি, খাচ্ছি দাচ্ছি, ঘুমোচ্ছি, কাজ করছি।

কত রিলেভেন্টে পঙক্তি এঁনারা রেখে গেছেন মানুষের জন্য! এখন কে লিখবে এসব কবিতা! লিখে লাভ নেই যদিও! মাজারটা বড়ো আশ্রয় ছিল বানর-বাহিনির। চাষনী পীরের শক্তি নাই কুদরতি খেলায় সব ঠিক করে দেবেন কবরে এবাদতে মগ্ন থেকেই! মানুষের কাছে দরবেশও নতজানু হায়! বানর ও মানুষের অসম সহাবস্থানে বানর-বাহিনি অচিরে হারবে এটা না-বোঝার কিছু নয়। ‘Planet of the Apes’-এর মতো তারা প্রতিশোধ নিতে পারবে না। ওটা সিনেমায় হয়, বাস্তবটা করলার চেয়েও তিতা! তাহলে কি শেষ বানর-বাহিনি দেখছি শহরে? একদিন হঠাৎ মনে পড়বে,—একদল বানরের সঙ্গে শহরে ঘুরেফিরে দেখা হতো প্রতিদিন! তারা এক অমাবস্যা রাতে চাষনী পীরের কবরের মাটি ফুঁড়ে ভিতরে ঢুকে পড়ে। দরবেশ তখন মগ্ন ছিলেন এবাদতে…

Monkey and the survival race; Spot: Saint Chashni Pir Majar Area; Source & Credit: Prothom Alo

ঝিঁঝিঁর কথা হচ্ছিল, সেখানে ফিরি। সন্ধ্যা ঘনালে যেসব স্পটে ঝিঁঝিঁর ডাক আগে পরিষ্কার শোনা যেত, সেগুলো মরে ভূত হয়েছে কবে! সন্ধ্যার পর স্পটগুলোয় মানুষের চলাচল সীমিত হয়ে আসত মনে পড়ছে। ঝিঁঝিঁর টানা গুঞ্জন একলা রাজত্ব করেছে তখন। স্পটগুলোকে ভরাট করে পেল্লাই সাইজের দালানকোঠা তুলেছে মানুষ। ডাক শুনবো ক্যামনে!

মানুষ নামধারী কাফকার পতঙ্গরা সবখানে কিলবিল করছে রাতদিন। তাদের বীভৎস আওয়াজ ছাড়া কানে অন্যকিছু ঢোকা কঠিন। গ্রাম ও শহরতলিতে ঝিঁঝিঁর ডাক শুনতে পাওয়ার কথা! সত্যি শোনা যায় কিনা তা অবশ্য জানা নেই। গ্রাম নিয়ে আমার মধ্যে আলগা দরদ কাজ করে না। শহরের চেয়ে গ্রাম এমন মনোরম কিছু নয়। অজস্র স্বার্থপর সংকীর্ণতায় ভরাট অন্ধকার সেখানেও রাজত্ব করে আসছে যথারীতি। গ্রামের মনোরম নিসর্গ ও কৃষি নির্ভর সরল জীবনধারার পাকে আবিলতা থাকে বটে। শহরে বসে পল্লীজীবনকে যতটা নান্দনিক মনে হয়, বাস্তবতা অতখানি মিথরঞ্জিত মনোরমা নয়। এখানে আমি বরং মানিক বন্দোপাধ্যায় ও শহীদ কাদরীর চ্যালা;—বিভূতিভূষণের নই অতটা! মানবকীটের দাপটে প্রকৃতি মায়ের গর্ভ থেকে বেরিয়ে আসা শব্দরা উবে যায় দ্রুত! আবিদ আজাদকে উৎসর্গে রেখে শহীদ কাদরী লিখেছিলেন তো গ্রাম ঘুরে আসার বিবরণ। বাংলা তখনো গ্রাম দিয়ে ঘেরাও পুরোটা :

রাত কাটালাম গ্রাম-মোড়লের শাদা ঘরে। আজকাল কুটির-ফুটির
উঠে গিয়ে সব হাভাতেদের একচেটিয়া হয়ে গেছে।
আমিও তো আবাল্য হা-ঘরে
‘কুটির’ ‘কানন’ ‘নদীতীর’ এসবই চেয়েছিলাম। তা যাকগে,
মোড়লের বাসার দেয়াল ছিল পাকা।
অবশ্য সি-আই শিটের ওপর শিশিরের টুপটাপ।
এক্কেবারেই ছিল না তা নয়।
তবু মনে হলো কে যেন কার গলায় ছুরি বসিয়ে দিয়েছে, তার শেষ রক্তবিন্দু পড়ছে ফোঁটায় ফোঁটায় ৷

এমন কি গ্রাম-মোড়লের ট্রাঞ্জিসটারের হাত থেকে
পাই নি রেহাই – মরক্কো, স্প্যানিশ সাহারা, সাঁজোয়া বাহিনী এবং
আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি, গাছের মর্মর,
তেপান্তরের মাঠ জুড়ে ভয়ঙ্কর সিগন্যালের মতো
ফসফরাসের নাচ ! এই সব দেখে দেখে দেখে
আমার স্বপ্নের মধ্যে জ’মে উঠেছিল মরা পাখিদের স্তূপ ।
এলোমেলো অসংখ্য পালক!

যাকগে, এককথা থেকে অন্য কথায় যাচ্ছি চলে। এ-তথ্য অবশ্য আগে থেকে জানা ছিল,—সর্বভূক মানবজাতির অনেকে প্রোটিনের উৎস গণ্য করে ঝিঁঝিঁ পোকা মজাসে ভক্ষণ করে। চীনা ও আমাদের এখানকার পাহাড়িদের ওটা বেশ পছন্দের খাবার। চীনারা সম্ভব ঝিঁঝিঁ পোকা চাষ করে খামারে। হারাম-হালালের ব্যাপারে কঠোর ইসলামধর্মে ঝিঁঝিঁর মতো অনেক পতঙ্গ ভক্ষণ জায়েজ আছে। মুমিন ভাইদের অনেকে দেখলাম পোকাটি এরিমধ্যে ভক্ষণ করে ফেলেছেন! তাদের জিহবায় এর টেস্ট রেটিং ভালো মাশাল্লাহ। ফ্রাই করে নাকি খেতে মজা এই পতঙ্গ। সুবহানাল্লাহ!

ঝিঁঝিঁ পোকার দোকান দিল চলবে মনে হচ্ছে। ঝিঁঝিঁ বার্গার, ঝিঁঝিঁ হটডগ… জমবে খেলা! শহরে আজ লম্বা লাইন দেখেছি নতুন খোলা বিরিয়ানির দোকানে। ঝিঁঝিঁটাও বাজার পাবে নির্ঘাত। ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজতে থাকবে ঝিঁঝিঁ সংগীত। বেশ রোমান্টিক হবে ব্যাপারটা। বাঙালি জাত খবিসের মতো রোমান্টিক।

সে যাকগে, জগতে এত কিসিমের খাবার থাকতে কীট-পতঙ্গ ভক্ষণের বাসনা আমার অবশ্য নেই। ঝিঁঝিঁ ভক্ষণের চেয়ে তার ধাতব সুরেলা গুঞ্জনে কান পাততে দোকানে যাবো। নিখুঁত ছন্দে ডানা ঝাপটে আওয়াজ ছাড়ে এই পতঙ্গ! সিমেট্রি ও অ্যাসিমিলেশন দুটোই তুলনাহীন! কয়েক হাজার বা লক্ষ বছরের বিবর্তন আছে নিশ্চয়। এরকম একটা মিউজিক অর্কেস্ট্রেশন আমরা চট করে বাদ্যযন্ত্র দিয়ে তুলতে পারব কি? আমার মনে হয় না তা সম্ভব। সিনেমায় নীরবতা, নিঃসঙ্গতা, বিচ্ছিন্নতা ইত্যাদিকে প্রগাঢ় করতে ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দগুঞ্জন ব্যবহার নতুন কিছু নয়। দেশ-বিদেশের অনেক ছবিতে শুনেছি। সাউন্ড অ্যাফেক্ট বা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হিসেবে কাজে দেয়। আবহকে গভীর করে ঝিঁঝিঁ-গুঞ্জন।

ঝিঁঝিঁ পোকার সমবেত জাতীয় সংগীত অনেকের কানে বিরক্তিকর ঠেকার সম্ভাবনা আছে। অনেককে ভয় পেতে দেখেছি অতীতে। কম্পনের স্কেলটা অবিশ্বাস্য নিখুঁত-যে! টানা শুনতে থাকলে মনে হবে, আর কিছু নেই ধরায়, কেবল ওই কসমিক টেরর বেজে চলেছে অন্তহীন! মানুষের পক্ষে এই লেভেলের কিছু সৃজন করা অসম্ভব হয়তো নয়, তবে ওই ফিল আনা কঠিন। সবটা পারতে নেই মানুষের। প্রকৃতির এক্সলেন্সকে মেনে নেওয়াটা এখানে সংগত।

আমরা বরং পশ্চিমাদের মতো ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল সাউন্ডে ঝিঁঝিঁ অ্যাফেক্ট ঢুকিয়ে দিতে পারি। ধরা যাক, ওটা চলছে, তার মধ্যে রেকর্ড করা অরিজিনাল ঝিঁঝিঁ-গুঞ্জন ঢুকছে ধীরলয়ে… শোনা যাবে কি? মেশিনের ধাতব গুঞ্জনকে গ্রাস করতে পারবে? নাকি দুটো মিলে তৈরি হবে লাভক্র্যাফটের বইয়ে পড়া কসমিক হররের মতো একটা কিছু? হলে ভালো। এই শহরে এটা প্রয়োজন। হরর ও টেরর দুটো ভীষণ দরকারি এখন!

Jeff Russo-র Choir and Crickets-এর কথা মনে পড়ছে। ওটার মতো মিস্টিরিয়াস ফিল মন্দ নয়, তবে গ্রাস করার মতো নয়। মিউজিক থেরাপির জন্য ভালো বলা যেতে পারে। একটা বিষয় অবশ্য আছে সেখানে,—শব্দতরঙ্গটা চেনা ঠেকবে, তবু মনে হতে থাকবে অচেনা! ইউলিসিসকে বিবশ করা কুহকিস্বরের মতো ফিল দিচ্ছে হঠাৎ! যাই দিক, অবশ অচেতন করার মতো নয় এগুলো। ইয়াদ হচ্ছে, ঝিঁঝিঁ ও ভেক নিয়ে কবে কোন প্রদোষকালে লেখা অখাদ্য চরণ :

কাঁপা কাঁপা ঝিল্লিরব
কম্পিত মানবযান ছুটে দিবানিশি
কাঁপা রব, আসে ভাসি ভেকের কলরব-
জীবনের আয়োজন করিতে বিকল!

বিকল করার মতো কিছু একটা ভীষণ প্রয়োজন। হায় ঝিঁঝিঁ, হায় বর্ষার ভেক, তোমাদের ক্ষমতা নেই থামিয়ে দিতে পারো কোলাহল চিরতরে…। টানা ধাতব গুঞ্জন ছাড়া আর কিছু থাকবে না ধরায়! আমরা সেখান মৃত শব। ঝিঁঝিঁ ডেকে যাচ্ছে বিরতিহীন ছন্দে। জীবনানন্দের অজস্র হরিয়ালের বীভৎস ডানা ঝাপটানোর মতো ধাতব গুঞ্জন অযুত-নিযুত বছর ধরে…
. . .

Choir and Crickets; Composition: Jeff Russo; Source: Fortuna YTC

. . .

… থার্ড লেন স্পেস-এ প্রাসঙ্গিক আরো দেখুন…

পারিয়া

“কুত্তা” : কামাল রাহমান

কুুকুর চরিত মানস

গানের শ্রোতা যখন মহান প্রাণীকুল

বৃক্ষনাথ কমল চক্রবর্তী

ওড টু দ্য ক্যাটকিনসফিল্ড

. . .

অবদায়ক : আহমদ মিনহাজ : থার্ড লেন স্পেস.কম

আহমদ মিনহাজ-এর অন্যান্য রচনা ও প্রাসঙ্গিক পাঠের জন্য এখানে চাপুন

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 5

No votes so far! Be the first to rate this post.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *