ওসমানী ভাই বলেন,—বুঝলেন জাভেদ, পৃথিবীটা অদ্ভুত! এই-যে এত হিংসা, হানাহানি, লোভ,—মানুষে মানুষে এই-যে এত বিভক্তি,—জীবন তবু সুন্দর। আর, এই সুন্দরের মূল কারণ হচ্ছে ‘মায়া’। মায়াই জীবনটাকে বেঁধে রেখেছে। যে-লোক এই মায়াকে উপলব্ধি করতে জানে না, সেই লোকটা জীবনের সবচেয়ে বড়ো রহস্য থেকে বঞ্চিত। জীবনকে উপভোগ করা জানতে হয়, বুঝলেন। সকলে তা পারে না।
-
-
‘সনাতন’ ধারণাটি মূলত বহুত্ববাদী, নমনীয় ও দার্শনিক। এখানে নানা পথ, নানা দেবতা, এমনকি নাস্তিকতাও জায়গা পায়। উপনিষদের অদ্বৈতবাদ, বৌদ্ধের অনাত্মবাদ, তন্ত্রের শক্তিচিন্তা, ভক্তির ব্যক্তিগত প্রেম—সব একসঙ্গে সহাবস্থান করতে পারে অনায়াসে। কিন্তু আধুনিক হিন্দুত্ববাদ প্রায়শ এই বহুত্বকে কেন্দ্রীভূত রাজনৈতিক পরিচয়ে রূপ দিতে চায়।
-
অদ্বৈতবাদ এখানে বাকিদের থেকে এগিয়ে থাকছে এ-কারণে-যে, এটি সারাংশটি আগেভাগে বলে দিয়েছে। সোজা কথায়, তুমি নিজেকে যেভাবে দেখো বা অনুভব করো-না-কেন বাছা, মনে রেখো তুমি হচ্ছো সেই সারাংশের অংশ, যাকে বাদ দিলে তুমি বলে কিছু নেই। কিছু নেই মানে তুমি তখন সারাংশ বা ব্রহ্ম স্বয়ং।
-
এ-কারণে একজন ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনা সমর্থক প্রতিপক্ষের সাফল্যকে কেবল একটি খেলার ফল হিসেবে দেখেন না। অনেক সময় সেটি তাঁর কাছে নিজের গোষ্ঠীর প্রতীকী পরাজয়ে পরিণত হয়। আবার নিজের দলের বিজয়ও নিছক একটি ক্রীড়া-সাফল্য থাকে না, তা ব্যক্তিগত গর্বের অংশ হয়ে ওঠে। ফুটবল এখানে বাস্তবের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে, কারণ এটি মানুষের বহু পুরোনো গোষ্ঠীগত প্রবৃত্তিকে জাগিয়ে তোলে।
-
প্রতিটি গোল একটি আবিষ্কার। প্রতিটি গোল প্রতিষ্ঠিত নিয়মের বিরুদ্ধে একধরনের বিদ্রোহ। প্রতিটি গোলের মধ্যে আছে অনিবার্যতা, আকস্মিক আলোর ঝলক, বিস্ময়, এবং এমন এক চূড়ান্ততা, যেখান থেকে আর ফিরে আসা যায় না।