বৈঠাহীন আক্কেল আলী মাঝগোড়ায় বসে অসহায়। কর্ম নেই। যুদ্ধের ময়দানে অস্ত্র ছাড়া সেনাপতি। তাই মাঝেমাঝে এর-তার বৈঠা চাইছে, কিন্তু কেউ দিচ্ছে না। এখানে কর্মই ধর্ম। তাই কেউ বৈঠা ছাড়তে রাজি নয়। সবাই বলছে ‘যে-আক্কলে বৈইডা আনছচ্ না, হেই আক্কলে বৈয়া থাক।’
-
-
গানে গানে রাখালগণ যখন শ্রীকৃষ্ণকে গোষ্ঠে নিতে অনুনয়-বিনুনয় করে কিংবা রোষে বিচলিত হয় তখন আসরে বসে থাকা তুলা মিয়ার বাপ মাথা নাড়িয়ে মিনমিন করে তার ভিতরে লালন করা আসল কথাটি বলে ওঠে : ‘কাম অইত না! কাম অইত না! মা’র কাছে যাও। মাতৃআজ্ঞা নাও।’
-
অদ্ভুত! হাওরকে সুধীজনরা বা টেবিল ওয়ার্কাররা রূপকথার মিথ বানিয়ে ছাড়বেন দেখতেছি! বর্ষাকালে নাকি হাওর মাছে মাছে ভরে যায়! তাহলে হেমন্তকালে মাছেরা কোথায় উধাও হয়ে যায়?
-
ধীরে ধীরে নৌকো পৌঁছে যায় গ্রামের কাছাকাছি। এসব ভাবনা ছাপিয়ে নানির মস্তিষ্কে তখন জটিল অঙ্কের খেলা চলেছে। কত টাকা কুলসীর মায়ের হাতে দিয়ে নিজের জন্য কত বাঁচানো যায়? জীবন মানেই তো অর্থের হিসেব মিলানো : যত দরিদ্রই হোক না সে!
-
বেসুরও সময়ে বন্দি ঢেউ-পবনের সুর/ হাওরের সুরধ্বনি কৃপা করো মোর।/ কৃপামাগে দীনবন্ধু কন্ঠ করো দান / ঢেউপবনের সুরে গাই হাওরপুরাণ।