ভিজুক আজ খরার নদী
আজ শুভ নববর্ষ
চারিদিকে হর্ষ হর্ষ
বোশেখের ঝড়োহাওয়া পাপতাপ নিক উড়িয়ে;
মোটাসোটা আজ তার বৈশাখী বৃষ্টি
ভাসাক নতুন জলে, রুঠারুঠা কৃষ্টি
বাতাসের সত্য অন্যায় অবিচার দিক গুঁড়িয়ে।
নতুনের রোয়া — কর্ষ
শান্তির বারি তুমি বর্ষ
হিংসা বিদ্বেষ, বুক থেকে নিয়ো আজ সরিয়ে;
ভালোবেসে থাকিয়ো
প্রেমে ও ওমে রাখিয়ো
কালিমাখা মনকালো পূতজলে নিয়ো মুছিয়ে।
খরা নয়, জরা নয়
দূর করো সব ভয়
মনোঘর রেখো তুমি বর্ষার বকুলে — সাজিয়ে;
আজ ঘৃণা নয়, দেনা নয়
রেখো না তো মনে সংশয়
প্রাণ ভরে গেয়ে যেয়ো হর্ষের গান — বাজিয়ে।
কেবাপন কেবা ছোটো
কেবা পর কেবা বড়ো
মন থেকে সব হীনভাব নিয়ো তুমি আজ শুষিয়ে;
পাপকাজ ধুয়ে নিয়ো বৃষ্টিতে গোসলে
মরা খালে জল দিয়ো সৃষ্টিতে নিচোলে
কালামন ধুয়ে নিয়ো বোশেখের জলে — শুচিয়ে।
বৃষ্টির জলে ভিজে নিক পৃথিবী, আজ তার খরার নদী
বোইশাখ এসো আজ ভালোবাসা বুকে মেখে নিরবধি।
. . .
অনন্য দিন
এই দিন শুধু-শুধু দিন নয়
নয় শুধু বাঙালির
এই দিন বঙ্গজর এক অনন্য দিন
এই দিন আকবরের নয়
শশাঙ্কের নয়
এই দিন জানি আমি, স্রেফ বঙ্গজর এক অনন্য দিন।
এই দিন রাষ্ট্রনীতির নয়
একক কোনও সমিতির নয়
সংগঠন কি গোষ্ঠীর নয়
নয় কোনও-এক ইজমের
এই দিন জানি আমি, স্রেফ বঙ্গজর এক অনন্য দিন।
এই দিন শোনো, তোমার কোনও সনাতন বন্ধুর নয়
নয়
মুসলিম
বাহাইয়া কি খ্রিষ্টানের;
চাকমা মারমা তঞ্চঙ্গ্যা ত্রিপুরা
রাম রহিম জন কিংবা ডিখারের নয়
এই দিন জানি আমি, স্রেফ বঙ্গজর এক অনন্য দিন।

এই দিন শুধুশুধু পান্তাভাত ইলিশে নয়
নয় রঙবেরঙের ফেস্টুনে
বেলুনে
নয়, শুধু পটকায়
চরকিতে লটকায়
এই দিন মিলামিশা ভাইবোন দিন
হাতে হাত চেয়ে — গলাগলি দিয়ে
তুমি, আমি ও সে
মিলেমিশে
এই দিন ঘাসগালিচায় বন্ধনের দিন
এই দিন জানি আমি, স্রেফ বঙ্গজর এক অনন্য দিন।
এই দিন সৌহার্দ্যমাখা
লাল-হলুদ চিন্তায় বন্ধুর বন্ধনে আঁকা
এই দিন
হিংসা ও দ্বেষ
জলে ফেলে
আপাদমস্তক মানি বঙ্গজর এক অনন্য দিন।
এই দিন
হোক
দিন-দিন প্রতিদিন
এই দিন শুধু দিন নয়
এই দিন তাই, জানি আমি বঙ্গজর এক অনন্য দিন।
. . .

বৈশাখের গান
. . .
পুরাতন ধুলোগুলো
বাতাসে উড়িয়ে দিয়ে
নতুনের বারতা নিয়ে
এসো
বৈশাখ তুমি এসো…
হিংসা-হিংসা ভুলে গিয়ে
প্রেমের ঢালি সাজিয়ে নিয়ে
মৃদুমন্দ হাওয়া গায়ে
মন্দ্রমন্ত্র জলে ভেসে
সতত ভালোবেসে
তুমি এসো
বৈশাখ তুমি এসো…
উঠোনের যত
জরাজীর্ণ শত শত
এক করে নিয়ে তুমি
আজ দূর জলাশয়ে ফেলে
তুমি এসো
শুভ জলে তুমি এসো
শান্তিবারি নিয়ে এসো…
কুসংস্কারের বেড়াজাল
ছিড়ে ফেলে সব জঞ্জাল
ঘাসে ঘাসে জল ছিটিয়ে
শুভ্র জলে বাতাসে বাতাসে
ঘরে ঘরে নতুনে নবীনে
চিবুকে-ঠোঁটে জল মেখে
তুমি এসো
বৈশাখ তুমি এসো…
পুরোনো জরাগুলো
বাতাসে উড়িয়ে দিয়ে
নতুনের ঢালি সেজে
মরাগুলো ফেলে নিয়ে
তরুণের অরুণ আবির
তুমি
প্রবীণের গায়ে মেখে
এসো
বৈশাখ তুমি এসো…
. . .

. . .



