বানভাসি ‘রু’ ও অন্যান্য
হাবিব হেলাল-এর তিনটি কবিতা

ধোঁয়াশার মৎস্য সংসার
ঠোঁটের নদীজুড়ে মদির নিঃশ্বাস
চিবুক ছোঁয়া রোদে তুমি স্নান করো
স্মৃতির হরফে আমি পঙক্তি সাজাই
ধুলোয় আঁকা তোমার রোজকার গ্রাফিতি
খুঁজে পাই
জ্যোৎস্নালোকে
আকুল পাথার
ধোঁয়াশার মৎস্য সংসার, অভিমানে লীন…
স্বতন্ত্র নদী নেই কোনো
হৃত শৈশব—
নাটাই-সুতোয় বন্দি সুরেলা নক্ষত্র
নিরালা দুপুরে ওড়ার তৃষ্ণা খুব;
একমুঠো আকাশ দাও
মেঘমল্লারে ডানা হতে চাই…
. . .
শৈল্পিক অ্যানাটমি
নিঃসঙ্গ প্রজাপতি ডানা ঝাপটায়
কচ্ছব-সমকাল;
ঢেউয়ে ঢেউয়ে উড়ে দগ্ধ পরাগ
ঠোঁটের ভাঁজে স্মৃতির নুন…
আয়নায় হলুদ বিভা
চিনে নিই নিজেরই ভাঙা-মুখ
এখানে কেউ নেই
শুধু আয়ুর খসখসানি
একমুঠো রোদের তৃষ্ণা বুকে
কথারা তরল, গলতে গলতে
সময় শুষে নেয় চেনা আদল
মৃত্যুর যে শৈল্পিক
ব্যবচ্ছেদে
নিজেকেই শান দিই যাপিত দহনে…
. . .
বিকেল বিষণ্ন নদী
মৌন-মুখর শিল্পের গ্রাম
আমি আঁকছি
একজোড়া বিষণ্ন-নদী
আফাল’র জলবৃত্তে প্রোথিত
—তেজস্বী ঢেউ
বাউলের আঙুলে
ধুকপুক করে জ্যোৎস্না’র রিদম
মুঠোয় তুলে বানভাসি ‘রু’
হাওরের প্রান্তরেখায়
বসে একা
ঠোঁটের তৃষ্ণাজুড়ে
গেঁথে যাই পঙক্তির-বেদনা…
. . .

হাওরমেখলা সুনামগঞ্জের সন্তান কবি হাবিব হেলাল দোয়ারাবাজার উপজেলার লামাসানিয়া গ্রামে বেড়ে উঠেছেন। পল্লী মায়ের কোলে বেড়ে ওঠার সময় প্রান্তিক সাংবাদিকতায় সক্রিয় করেন নিজেকে। কবিতায় যাপন প্রথম পছন্দ। ছোটকাগজ বাঁশতলা সম্পাদনা করছেন নিয়মিত। নদী-হাওর মেখলা জনপদে যাপন করলেও প্রযুক্তি সৃষ্ট বায়বীয় বিশ্বের সঙ্গেও রয়েছে সংযোগ। বায়বীয় বিশ্বে বিচরণের সুবাদে মানুষজন যেসব শব্দ ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন, প্রযুক্তি-নিবিড় এরকম শব্দের এক জগৎ তাঁর কবিতায় চোখে পড়বে। মানবিক আবেগ ও সংবেদনের জায়গা থেকে শব্দগুলো ব্যবহারের ঝোঁক তাঁর কবিতাভাষায় লক্ষণীয়। প্রকাশিত বই ৫টি। তার মধ্যে একমাত্র কবিতাবই কুড়ানো সুখ। অন্তর্জালে ছড়ানো সাহিত্য মুখপত্রগুলোয় কবি লিখছেন নিয়মিত।
. . .

অবদায়ক : হাবিব হেলালি : থার্ড লেন স্পেস.কম


