পোস্ট শোকেস - হাওরপুরাণ

বন্দনা গানে হাওরপুরাণ : সজল কান্তি সরকার

Reading time 6 minute
5
(22)
Haor Sunset by Sajal Kanti Sarker; Image Source: Collected; @thirdlanespace.com
আসর বন্দনা

বন্দি গানের দেবী আরও শ্রোতাগণ
কৃপামাগি প্রেমভক্তি পূজিয়া চরণ\

অকাতরে ডাকি আমি সুরের ভিখারি
বেসুর সময়ে এসো সুরের পিয়ারি \

ত্রিশূলে গাঁথি প্রাণ আসন করলাম স্থির
কোন সুরে আসর বান্ধি হইলাম অধীর \

নয়নজলে বনফুলে করি গো বন্দনা
আকাশ পাতাল বন্দি, বন্দি চারকোণা \

বাদ্য বীণা হাতের তালে ভাবেতে মজিয়া
কেমন করে দেব পাড়ি সুরেরও দরিয়া \

হাওরেতে থাকি গো আমি বিদ্যাবুদ্ধি নাই
পবনে বান্ধিয়া সুর ঢেউয়ের তালে গাই \

পাখির কণ্ঠে গান শুনে সুরে মিলাই সুর
গোচারণে বাঁশি শুনে থাকি যে বিভোর \

মাছের ধামালি দেখি নাচি বাহু তুলে
তোমারে বন্দি গো বলো কোন সুর তালে \

এলোমেলো কথায় বান্ধা হাওরপুরাণ
কণ্ঠে এসে করো ‘বর’ গাইতে ভাটির গান\

সুরের মুরারি এসো আসর ঘিরিয়া
দীনবন্ধু ডাকে হায় হাওরে বসিয়া \

দিশা :
বন্দি গানের দেবী আরও শ্রোতাগণ
কৃপামাগি প্রেমভক্তি পূজিয়া চরণ \

. . .

হাওর বন্দনা

প্রথমে বন্দনা করি হাওরের কারিগর
দ্বিতীয়ে বন্দনা করি জন্মেরও উদর।

তারপরে বন্দনা করি ভূমি আঁতুড়ঘর
মরণকালে চরণ মাগি প্রাণেরও হাওর।

পুবেতে পুবালি বন্দি আরও দিবাকর
হাওরের আফাল বন্দি অতি ভয়ঙ্কর।

উত্তরে বন্দনা করি পাহাড় মেঘালয়
যেথায় হতে হাওরে নদী পয়দা হয়।

দক্ষিণে বন্দনা গো করি বঙ্গোপসাগর
জোয়ারেরও নুনা পানি রাখিতে মন্থর।

পশ্চিমে বন্দনা করি আগুন্যিয়া বাতাস
কাঁচাধানে মাঘ-ফাগুনে করে সর্বনাশ।

আকাশ পাতাল বন্দি আর পবন ও অনল
জলপতি বন্দি গো তোমার পাহাড়িয়া ঢল।

দিকবিদিক বন্দিয়া আমি আসন করলাম স্থির
শিব ও পীরের চরণ বন্দি গাজন ও জিকির।

বন্দি হাওর বন্দি বাওর বন্দি তারও ঢেউ
কতজনা ডুবে মরে জানে না তো কেউ।

আরও বন্দি ধানের জমি বন্দি জলের মাছ
পক্ষী হৈয়া বন্দি আমি হিজল করচ গাছ।

আল্যুয়া হৈয়া হাল বন্দি শাইল বোরো ধান
জাল্যুয়া হৈয়া জাল বন্দি মাছের সন্ধান।

মাঝি হৈয়া নৌকা বন্দি সুরমা আর মনাই
চৈতের নিদানে বন্দি শস্য বুট-কালাই।

ঝড় তুফানে বন্দি আমি বিনয়ও করিয়া
শারফিন, মা-ভবানী নামে দোহাই দিয়া।

জঙ্গলার বাঘ বন্দি পীরের শিন্নি দিয়া
সাপান্ত শিলান্ত বন্দি ওঝা হিরাল লৈয়া।

বেসুরও সময়ে বন্দি ঢেউ-পবনের সুর
হাওরের সুরধ্বনি কৃপা করো মোর।

কৃপামাগে দীনবন্ধু কন্ঠ করো দান
ঢেউ-পবনের সুরে গাই হাওরপুরাণ।


সংযুক্তি : ‘আসর ও হাওর বন্দনায়’ বন্দনার আঞ্চলিক রূপ হিসেবে ‘বন্দি’ শব্দটি পাঠের অনুরোধ থাকবে।
. . .

Alagghar Book Cover by Sajal Kanti Sarker; Image Source: Collected; @thirdlanespace.com
সংযুক্তি : বন্দনা ও আসর গান নিয়ে কিছু কথা

‘আল্লার নাম লইলাম না রে দিলে গুমান করে’ গিরস্তবাড়ির উঠোনে গাজীর আসরে শোনা এই বন্দনাটি আজও আমার অন্তরের ভিতরে-বাহিরে সুরের জানালা খুলে প্রায়শ ডাকে। আমি সাড়া দিতে না পারার বেদনায় তখন স্মৃতি হাতড়ে স্মরণ করি সেই ফেলে আসা দিনগুলোর কথা। মনে পড়ে তখন আমার ‘ঠাম্মার’ কথা। রাতের খাওয়া-দাওয়ার পর আলগঘরে লুটকীর্তন শুরু হলে হীরেন্দ্র জ্যাঠা যখন মৃদঙ্গে তাল ঠুকে আসর বন্দনা গাইতে শুরু করতেন : ‘গউর (*গৌর) এসো দয়া করিয়া আনতে কি পারি তোমায় ডাকিয়া…।’ ঠাম্মা তখন বন্দনার সুর শুনে আমাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলতে তুলতে বলতেন : ‘ভাইয়ু উঠ উঠ, বন্দনা শুরু অইয়া গেছে।’ তখন শুধু আমিই নই, আশেপাশে বাড়ির শ্রোতা-গাওইয়া সকলে আসরে চলে যেতো। জেঠুর কণ্ঠে গাওয়া বন্দনার ডাকে সাড়া দিয়ে আসরে ‘গউর’ আসত কিনা জানি না, তবে দলে-দলে শ্রোতা-গায়করা আসরে যোগ দিত। তাতেই যেন বন্দনা গাওয়া সফল হতো। আর এজন্যই বোধহয় কীর্তন আসরের শেষে গাইতে শুনি : ‘হরির লুট পইরাছে আয়, মানব রূপে প্রাণের গৌর গড়াগড়ি যায়…’।

ঠাম্মা মারা যাওয়ার পর তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় বাড়িতে রামায়ণ পালার আয়োজন করা হয়। আসরের শুরুতেই যখন পালাকার বিনোদ গাইন বন্দনা গাইতে শুরু করেন : ‘ও এসো হে গৌরাঙ্গ, ও এসো অদ্বৈত নিত্যানন্দ…’, তখন ঠাম্মার কথা খুব মনে পড়ে। পরবর্তীতে আসরে যাওয়ার জন্য ঠাম্মার অদৃশ্য তাগাদা আমি মায়ের মুখেও শুনি। সেই একই কথার টান, দরদ, তাগাদা। শুধু একটি শব্দের পরিবর্তন : ‘বাবা উঠ উঠ, বন্দনা শুরু অইয়া গেছে।’

ধামাইল আসরে মায়ের কণ্ঠে গাওয়া একটি বন্দনা আজও কানে বাজে : ‘প্রথম বন্দনা যে করি, এ গো জয় জয় কিশোরীর জয় শ্যামচাঁন বিহারি…।’ তবে বিবাহ অনুষ্ঠানের ধামাইল গানের বন্দনা একটু ভিন্ন হয়, যেমন : ‘আগে বন্দি প্রজাপতি সাবিত্রী তান সাথে, বিবাহেতে প্রজাপতি লেখা আছে শাস্ত্রেতে।’

পুরাণ-পুথির রচনাশৈলীতে বন্দনা যুক্ত থাকে। যেমন পদ্মপুরাণে আছে : ‘প্রণমহ গণপতি, বিঘ্নহন্তা মহাপতি, স্মরণে বিপদ দূরে যায়। তাল যন্ত্র ল’য়ে হাতে, সবার মঙ্গল গে’তে, তাতে প্রভু হইবে সহায়।’ পুথি-বন্দনায় মৈমনসিংহ গীতিকায় পাই :

আসমানে জমিনে বন্দলাম চান্দে আর সুরুয।
আলাম-কালাম বন্দুম কিতাব আর কুরাণ।
কীবা গান গাইবাম আমি বন্দনা করলাম ইতি।

Mohua Pala: Maimansingha Gitika on Stage: Naye Natua, Director: Goutam Halder; Source: Uzzal Academy of Fine Art YTC

‘ওস্তাদের চরণ বন্দি গুরুর চরণ ধরি।’ তাই পুথি-পুরান আসরে গায়কের ইচ্ছামত আলাদা করে বন্দনা গাইতে হয় না। বন্দনা যুক্ত থাকে। ভাট কবিতাতেও অনুরূপ। তবে বাউল আসরে আলাদাভাবে গায়ক ইচ্ছামতো শুরুতে বন্দনা গাইতে পারে। এ-প্রসঙ্গে খুব মনে পড়ে আমাদের কৃষিকাজের সহযোগী নিখিল দাস প্রায়ই কাজের শেষে রাতের বেলা আলগঘরে বাউল গানের আসর জমাতো। যদ্দুর মনে পরে : ‘…এসো মাগো সরস্বতী কণ্ঠে এসে করো বর, তিলেক মাত্র থেকে যাও মা বসিয়া জিহ্বার উপর…।’ এই বন্দনাটি খুব দরদ দিয়ে গাইতো। আমরা মুগ্ধ হয়ে শুনতাম। নিখিলের গানের গলা খুবই দরদি ছিল। সুযোগ পেলেই গান গাইত। বোরো জমি রোপণ করতে গিয়ে তার কণ্ঠে সারিগানের বন্দনার সুর আজও ভুলতে পারিনি। বিশাল হাওরের খোলা আকাশের নিচে সে চড়া গলায় গাইত : ‘বন্দনা সরস্বতী দেবনারায়ণ, আজ কেন ক্ষীরনদী হরিদ্রা বরণ…।’

বন্দনা শুধু সৃষ্টিকর্তাকে নিয়েই গাওয়া হয় না, সৃষ্টিকে নিয়েও গাওয়া হয়, যেমন : ‘পুবেতে বন্দনা করি পুবে ভানুশ্বর, একদিকে উদয় গো ভানু চৌদিকে পসর।’ লোকগানের আসরে সৃষ্টিকর্তা বন্দনা (আল্লাহ, হরি), রসুল, নবি, দেব, দেবী, সৃষ্টি বন্দনা, গুরু বন্দনা, বাদ্যযন্ত্র বন্দনা, আসর বন্দনা কিংবা আসরে শ্রোতা বন্দনা গাওয়ার রেওয়াজ আজও চালু আছে। তবে আসর বন্দনা এতটা স্তব-স্তুতি নির্ভর নয়। এক্ষেত্রে যাত্রা-পালায় বন্দনা গাওয়ার রীতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। যাত্রা-পালার শুরুতে মহিলা শিল্পীরা মঞ্চে উঠে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে বন্দনা শুরু করে। একে আহবান সংগীত বা উদ্বোধনী সংগীতও বলা হয়। নানারকম বাঁশির সুরে বাদ্যযন্ত্রে তাল মিলিয়ে সম্মিলিত কণ্ঠে গায় : ‘সালাম সালাম হাজার সালাম সকল শহীদ স্মরণে…।’ অথবা ‘এই পদ্মা, এই মেঘনা, এই যমুনা সুরমা নদী তটে…’ কিংবা ‘তারা এ দেশের সবুজ ধানের শীষে/ চিরদিন আছে মিশে…’ ইত্যাদি। কবিগানেও এরূপ বন্দনা গাওয়ার রীতি আছে। যতদূর মনে পড়ে, যেমন :

ছল ছল নয়নে হাসি মাখা বদনে
আনন্দে কাননে মন,
আনন্দে কাননে মন চলো অনিবার..
হরি বলো হরি বলো মন রে আমার,

Chalo Nayane Hasi Makha Badane: Bhaba Pagla; Artist: Juwli Biswas; Source: Malik Bharosa YTC

লোকগানে ‘বন্দনা’, বাদ্যযন্ত্র বন্দনা বা ‘আসর বন্দনা’ একরকম হয়না। বন্দনায় শুধু সুরের জন্য আরাধনা করা হয়। তারপর বাদ্যযন্ত্রের জন্যও আলাদাভাবে কৃপা লাভের জন্য কাতর কন্ঠে বন্দনা গাইতে শোনা যায়। লোকআসরে বন্দনা শুরুর আগে বিশেষ করে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে মহড়া দেওয়া হয়, যা মূলত গায়ক ও বাদকদের মনযোগ স্থির করে। বিষয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জাগ্রত করে ও ভাব জগৎকে প্রসারিত করে। আসরে শ্রোতাদের ভাবজগৎ ধরে রাখতে কিংবা পরিবর্তন করতে বাদ্যযন্ত্রের ভূমিকা অপরিসীম। তাই লোকগানে বাদ্যযন্ত্র বন্দনার রেওয়াজও চালু আছে। আমি আমার কাকার কণ্ঠে বাদ্যযন্ত্র বন্দনা অনেক শুনেছি। যেমন :

যন্ত্র যদি পড়ে থাকে লক্ষজনার মাঝে,
যন্ত্রিকও বিহনে যন্ত্র কেমন করে বাজে।
একবার বাজাও হে এসে,
তোমার যন্ত্র প্রভু একবার বাজাও হে এসে।

আবার আসর বন্দনায় আসর কেন্দ্রিক শ্রোতাদের সহযোগিতা, তাদের গুণকীর্তন ও আসরে শৃঙ্খলা রক্ষায় সাহায্য চাওয়া হয়ে থাকে। যেমন : ‘আসরেতে বসলেন যত হিন্দু-মুসলমান, মুসলমানদের সালাম জানাই হিন্দুদের প্রণাম।’ তবে পাঁচালী ও ব্রতকথার বন্দনাগুলো অনেকটা আহবান করার মতো হয়ে থাকে, কখনো-বা তা গণেশের বন্দনা দিয়েও শুরু হয়। যেমন : ‘এসো মা গো লক্ষ্মী বসো মম ঘরে, ধান দূর্বা গুয়াপানে পুজিব তোমারে।’ গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে যার আধুনিক রূপটি ঘরে-ঘরে শ্রুত হয়ে আসছে। মিল্টু ঘোষ রচিত এই লক্ষ্মী-বন্দনায় নতুন করে সুর দিয়েছিলেন অমল মুখোপাধ্যায় :

আল্পনা এঁকে তোমার সাজিয়ে দিলাম পট
আমের পল্লব দিলাম জল ভরা ঘট
আল্পনা এঁকে তোমার সাজিয়ে দিলাম পট
আমের পল্লব দিলাম জল ভরা ঘট
পান-সুপারি, সিঁদুর দিলাম দু’হাত ভরে
ধনধান্যে ভরো আমার এ ঘরে

পান-সুপারি, সিঁদুর দিলাম দু’হাত ভরে
ধনধান্যে ভরো আমার এ ঘরে
এসো মা লক্ষ্মী, বসো ঘরে
আমার এ ঘরে থাকো আলো করে
এসো মা লক্ষ্মী, বসো ঘরে
আমার এ ঘরে থাকো আলো করে

Sri Guru Charan Padma by Norottom Das; Guru Bhajan; Artist: Nittyananda Dasa Goswami; Source: Vrajanatha Das YTC

বন্দনা অথবা ‘বন্দিলাম গণপতি গৌরীর তনয়, ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর তবতুল্য নয়।’ বৈষ্ণব গুরু বন্দনার আবার অন্য একটি ধারা। যেমন নরোত্তম দাস ঠাকুর বিরচিত পদ :

শ্রী গুরু চরণ পদ্ম, কেবল ভকতি সদ্ম
বন্দোঁ মুঞি সাবধান মতে
যাহার প্রসাদে ভাই, এই ভব তরিয়া যায়
কৃষ্ণ প্রাপ্তি হোয় যাহা হৈতে

লোকগানের আসরে কিচ্ছা পালায় বন্দনা গাওয়ার তাল, লয় ও সুরের মজাই আলাদা। বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার, গায়কের অঙ্গভঙ্গি ও চড়াগলায় দোহার রীতি শ্রোতাদের বেশ আকর্ষণ করে। লোকভাষায় এ-বন্দনার রচনাশৈলীতেও কিছুটা ভিন্নতা আছে। যেমন :

পরথমে বন্দনা করি আল্লাহ মালিক সাঁই’
দ্বিতীয় বন্দনায় নবীজী মদিনায় যাই।
তৃতীয় বন্দনায় আমি গুরুকে ধরাই,
গুরু ছাড়া কিচ্ছা কাহিনি আমি বলতে না পাই।

Bhandhana by Kari Amir Uddin; Source: Amiri Jalsha YTC

লোকগানে বন্দনা সামাজিক চর্চার প্রতিফলন। যা লোকশিল্পীদের নিজস্ব দার্শনিক বিশ্বাস, প্রেম ও বিশ্বাসের বার্তা দেয়। যেখানে গুণস্মরণ ও বন্দনার মাধ্যমে মানুষের মনের কালিমা দূর হয় এবং অজানার প্রতি শ্রদ্ধা জাগ্রত হয়। তবে লোকগানের এসব বন্দনাগুলো রাজসভার গায়ক কিংবা পদকর্তাদের মতো রাজস্তুতি বন্দনা নয়। যদিও কিছু কিছু পুথিতে রাজস্তুতি আছে। তবে পুরাণে এমনটি নেই। পুরাণে সাধারণত বন্দনা যুক্ত থাকে।

লোকগানের আসরে ‘আসর বন্দনা’ গানের যেমন রেওয়াজ আছে তেমনি ‘আসর ভঙ্গ’ গানেরও রেওয়াজ আছে। যেখানে আসর ভঙ্গ গানের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে ওঠে আসর বন্দনার সফলতার বার্তা। বন্দনাগায়কের বিশ্বাস ও প্রাপ্তি। তাই হয়তো আসর ভঙ্গে একই গায়কের কন্ঠে গাইতে শুনি :

স্থলী ভাঙ্গি যায়রে বাজার ভাঙ্গি যায়।
নবরঙ্গ বাঁশিটি বাজায় শ্যাম-রায়।
ব্রহ্মা-বিষ্ণু মহেশ্বর হইলা বিদায়।
ধন দিলা গৃহস্থের কল্যাণে সদায়।
ইন্দ্র চন্দ্র দিবাকর হইলা বিদায়।
আরোগ্য থাকিতে বর সবে দিয়া যায়।
ব্রতী ঘরে যায়রে নৈবদ্য ঘরে যায়।
তালযন্ত্র লইয়া গায়ক ঘরে যায়।
মধু বলে আজি কীর্তন হৈল সমাধায়।
হরি বলে প্রেমানন্দে নাচে গোপীকায়।

ভাটির পুরানে উল্লেখিত ‘হাওর বন্দনা’ কিংবা ‘আসর বন্দনা’য় সরাসরি আল্লা-হরির স্তুতি না থাকলেও হাওরের কারিগর এবং জন্মদাতা ও হাওর-প্রকৃতি আলাদা-আলাদাভাবে বন্দনা করা হয়েছে। যা হাওর-পুরাণ, গিরস্ত-পুরাণ, নাইয়র- পুরাণ, বান্দিপুরাণ, কৈবর্ত-পুরাণ রচনার সময় যুক্ত করিনি। বন্দনা ছাড়াও আলাদা-আলাদা প্রতিটি পুরাণ গাওয়া যায় বলে যুক্ত করার তাগিদ বোধ করিনি তখন। পুরাণের মান্যতার স্বার্থে তবু দুটি বন্দনা রচনার তাগিদ অনুভব করেছি, যা আমার বিগত দিনের লোক-আসরের অভিজ্ঞতা ও ঠাম্মার তাগাদার ফসল।
. . .

Asar Bhndhhana: Allat Naam Lilam Nare; Artist: Shirai Ujar Silki; Source: Ganer Shur YTC

. . .

… হাওরপুরাণ আরো পাঠ যাইতে দেখুন …

বান্দিপুরাণ : সজল কান্তি সরকার

. . .

লেখক পরিচয় : ছবি অথবা এই লিংক চাপুন

. . .

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 22

No votes so far! Be the first to rate this post.

Contributor@thirdlanespace.com কর্তৃক স্বত্ব সংরক্ষিত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *