পোস্ট শোকেস - বিবিধ ও বিচিত্র

ভিভা এল দিয়েগো : ‘স্মরণে মারাদোনা’

Reading time 7 minute
5
(7)

I am Maradona, who makes goals, who makes mistakes. I can take it all, I have shoulders big enough to fight with everybody. —Diego Maradona

Maradona and his daughter Dalma before a training session in Napoli (1989); Image Source & Credit: Collected; Google Images

দ্য গ্রেট দিয়েগো মারাদোনার জন্মদিন স্মরণে

মারাদোনার জন্মদিন গেল গতকাল। তাঁকে স্মরণ করা আনন্দের। আরো আনন্দের ফুটবল ছাপিয়ে যাওয়া কিংবদন্তিকে নিয়ে কিছু লিখতে পারাটা। এই এক চরিত্র, যাঁকে নিয়ে লিখতে বিরক্ত হয় না আঙুল।

ক্রীড়া সাংবাদিক, ফুটবল এক্সপার্ট ও লেখকদের চিরায়ত গণ্ডি ছাড়িয়ে কবি-লেখক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সংগীতাকারদের হৃদয়ে তাঁর আবেদন অমলিন। বাংলা ভাষায় যেমন কমল চক্রবর্তী ‘মারাদোনা’ নামে লিখেছিলেন আস্ত একখানা উপন্যাস। ভাষা ও বয়ন-নৈপুণ্যে আখ্যানটি উপভোগ্য ছিল। সার্বিয়ান চলচ্চিত্রকার এমির কুস্তুরিৎসার কথা মনে পড়বেই। মারাদোনাকে নিয়ে তথ্যচিত্র তৈরি করেছিলেন গুণী নির্মাতা, যেটা পরে চর্চিত হয়েছিল ব্যাপক।

ইতালিয়ান সিনেমায় যেমন দিয়েগোকে ফিরে-ফিরে ‘হোমেজ’ দিয়েছেন আরেক গুণী নির্মাতা পাওলো সোরেন্তিনো। ফুটবল ঈশ্বরের বিতর্কিত কালো অধ্যায় নিয়ে তৈরি তথ্যচিত্রটা আসিফ কাপাডিয়া যেমন নেটফ্লিক্সে ছেড়েছিলেন, তাও আবার মারাদোনা মারা যাওয়ার আগের বছরটায়। ফুটবল যতদিন বেঁচে থাকবে ধরায়, চরিত্রটি সম্ভবত এভাবে চর্চিত হতে থাকবেন! এমনকি ফুটবলের কদর যদি কখনো কমে যায়, মারাদোনাকে ভুলে থাকা সহজ হবে না।

জন্মদিন উপলক্ষ্যে সমাজমাধ্যম মারাদোনা বন্দনায় ভরে গেল দেখে যে-কারণে বেশ লেগেছে। এই প্রজন্মের ফুটবলখোর অনেকে তাঁকে নিয়ে লিখেছে। খেলাটা তারা বেশ ভালো বোঝে। নতুন প্রজন্মের চোখ দিয়ে এর অন্ধিসন্ধি বুঝতে চেষ্টার কমতি নেই কারো। গোটা ফুটবল দুনিয়াটা পারলে যেন গিলে খাবে তারা! স্ট্যাট ঠোঁটস্থ। খেলার খুঁটিনাটি দিক ব্যাখ্যা করছে সাবলীল। সদ্য ব্যালন ডি’অর জয়ী ইংলিশবয় হ্যারি কেইন আর দেশ-বিদেশের লিগ নিয়ে চর্চায় মেতে থাকার ফাঁকে প্রজন্মটির অনেকে বার্থ ডে বয় মারাদোনাকে স্মরণ করেছে অনুরাগে।

যতটুকু জানি, এরা কেউ মারাদোনাভক্ত নয়। তাঁকে দেখে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তাঁদের হয়নি। এমনকি, পেলে পরবর্তী ব্রাজিলকেও তারা দেখেনি। রোনালদো, রোনালদিনহো, রোমারিও, রিভালদো, রবার্তো কার্লোসরা কী ছিল, সেটা স্বচক্ষে দেখার রোমাঞ্চটা রক্তে ধরেনি। তাদের বেড়ে ওঠা কিংবা ফুটবল-যাপনের সবটুকু জুড়ে কেবল মেসি ও রোনালদো রাজত্ব করেছেন। এল ক্লাসিকোয় দুই ফুটবল কিংবদিন্তর ব্যাক টু ব্যাক ফাইট নয়নভরে তারা উপভোগ করেছে ও খেলাটাকে ভালোবেসেছে প্রবল। এক মেসি তাদের ফুটবল দেখার অভিজ্ঞতা বদলে দিয়েছেন আমূল!

ফুটবলের সকল অর্জন ছাপিয়ে লিওনেল মেসির অনন্য শিখরে ওঠার শিহরন তারা রক্তে বহন করছে। কেউ পাড় মেসি অথবা রোনালদো ভক্তও হয়েছে সেখান থেকে। এভাবে অনেকে ফুটবল ম্যানেজারদের বানিয়ে নিয়েছে নিজের ফ্যাসিনেশন। পেপ গার্দিওলা, হোসে মরিনহো, হান্সি ফ্লিক নিয়ে চর্চায় মেতে থাকে সারাক্ষণ। সেই তাদের অনেকে মারাদোনাকে নিয়ে লিখল দেখে ভালো লেগেছে ব্যাপারটা।

এটা সম্ভব হয়েছে মারাদোনার বৈপরীত্য ও বৈচিত্র্যে ভরপুর চরিত্রের জন্য। মারাদোনা হচ্ছে সেই মিথ, যাঁকে কেবল ফুটবল পরিসংখ্যান দিয়ে কেউ আর দেখে না। ফুটবলে তাঁর কীর্তি অনন্য তো নিশ্চয়। সর্বকালের সেরাদের সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে ছাটাই করা সম্ভব নয়। আছে এমন সব অর্জন, যা অন্য কারো সঙ্গে মিল খাবে না। এটা কেবল দ্য গ্রেট দিয়েগোর জন্য। যে-কারণে হয়তো খোদ মেসি একথা বলেছিলেন ইংল্যান্ড ম্যাচের পরপরই :

দিয়েগোর সঙ্গে আমি কখনো নিজের তুলনা করি না। দিয়েগো আলাদা।

অনেকে এটাকে মেসির সহজাত বিনয় ভাবতে পারেন। সেটা হতে পারে, সেইসঙ্গে এটাও সত্য-যে, মেসির এভাবে বলার পেছনে নিজ দেশে মারাদোনাকে যে-চোখ দিয়ে দেখা হয়, তার একটা আলাদা প্রভাব ও সম্মোহনের ভূমিকাও রয়েছে। আর্জেন্টাইনদের কাছে মেসি মানিকরতন। বড়ো আদরের ধন। তাদের সব চাওয়া কড়ায়-গণ্ডায় মিটিয়েছেন নিখাদ ডেডিকেশন ও প্রতিভার জোরে। মারাদোনা তাহলে কী? এককথায় এর উত্তর,—দিয়েগো হচ্ছেন মানবিক দোষগুণের ব্যতিক্রম অনন্যতায় ঠাসা আবেগ। আর্জেন্টাইনরা এই আবেগের মধ্যে নিজেকে প্রতিফলিত দেখতে পায়, এবং এর জোরে মারাদোনা সেখানে ‘ঈশ্বর’।

ইতালির নেপলস শহরে তিনি আবার দ্বিতীয় যিশু। নাপোলির লোকজন আজো বিশ্বাস করে,—মারাদোনা আর্জেন্টিনায় জন্ম নিয়েছে ঠিকই, খেলেছে সেখানে, তবু এবং তবু সে হলো নাপোলির সন্তান। তার নাড়ি নাপোলির মাটিতে পোঁতা। মারাদোনার আদি বংশধর নাকি এই নাপোলি থেকে আর্জেন্টিনায় যায় কপাল ফেরানোর আশায়। নাপোলি ক্লাবের শতবর্ষ এই তো হয়ে গেল কিছুদিন আগে। বছরজুড়ে ওটা চলবে নানা মাত্রায়, যার পুরোটাই মারাদোনায় রঙিন।

Some Maradona Moments; Collage; Image Source & Credit: Collected; Google Images

একটা চরিত্র, যে তার বাহুতে চে-গেভারার ট্যাটু নিয়ে সদর্পে চুরুট টানত। যাকে নিয়ে পূর্ব ইউরোপ, বিশেষত বলকান অঞ্চলে আকাশচুম্বী ক্রেজ ছিল দীর্ঘদিন। মাঠে এবং মাঠের বাইরে এই মারাদোনা এক খ্যাপাটে বিদ্রোহী। কোপা ও বিশ্বকাপের বছর ছাড়া আর্জেন্টাইনরা ক্লাব ফুটবল নিয়ে বুঁদ হয়ে থাকে। জাতীয় দল নিয়ে বড়ো একটা মাথা ঘামায় না। পাঁচ-ছটা ক্লাবের সমর্থক শ্রেষ্ঠত্বের জন্য সারা বছর লড়াই করে ধুন্ধুমার। তো, সেই ক্লাব ফুটবলে রিভার প্লেট হচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদের মতো এলিট গর্বে দেমাগি ক্লাব। আর, প্রতিদ্বন্দ্বী বোকা জুনিয়ার্স মূলত খেটে খাওয়া প্রান্তিক মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেছে দীর্ঘদিন। মারাদোনা এই বোকা জুনিয়ার্সের হয়ে খেলেছেন কেবল এটা প্রমাণের জন্য,—এলিটদের দম্ভ ভাঙতে বোকা জুনিয়ার্সের রয়েছে মারাদোনা।

তাঁর মতো আবেগ দিয়ে ফুটবলটা এভাবে কেউ খেলেনি কখনো। না শাসন করেছে একটা গোট দশক। এই মারাদোনা দস্তয়েভস্কির পাপী সন্ত চিরকাল। সে বোদলেয়ারের ক্লেদজ কুসুম। একটা সময় কোকেনে আসক্ত। স্থূলতারোগে আক্রান্ত কিংবা রিয়ালিটি শোয়ের সঞ্চালক হয়ে দ্য গ্রেট পেলেকে দিয়ে গিটারে গান করানোর কারিগর। ফুটবলের সকল শৃঙ্খলা পায়ে দলে মাঠে নেমেছেন নিয়মিত। যেখানে তাঁকে আটকানোর সাধ্যি কারো জন্যই সহজ থাকেনি।

এবং এটা সেই মারাদোনা, যে-লোক ফিফার সঙ্গে পায়ে পা বাঁধিয়ে ঝগড়া করতে কভু পিছু হটার বান্দা না। ফিফার সঙ্গে অম্লমধুর সম্পর্ক তাঁর ক্যারিয়ারে এক বিশেষ অধ্যায় বটে! যেমন পশ্চিম ইউরোপ, যেখানে ইতালির ওই নেপলস শহর ছাড়া বাকিরা তাঁকে সুনজরে দেখেনি। ব্যাড বয়ের তকমা গায়ে চড়িয়ে বারবার মাঠে নামতে হয়েছে। খেলার মাঠে মারাদোনা হেরেছেন, জিতেছেন, সমীহ কুড়িয়েছেন, আবার নব্বইয়ের ফাইনালে দ্বিতীয়বারের মতো দেশকে বিশ্বকাপ এনে দিতে না পারার যন্ত্রণায় মাঠে শিশুর মতো তাঁকে কাঁদতে দেখেছে গোটা বিশ্ব। এরকম একটা চরিত্রকে ভুলে থাকা কঠিন… বড্ডো কঠিন!

সময়ে সব ক্ষত মুছে যায়। বেঁচে থাকলে মারাদোনা ছেষট্টিতে পা রাখতেন। দমভরে জিও-র উদাহরণ হয়তো আরো দীর্ঘ হতো কিছুটা। তাতে কী, মারাদোনা-যে মরে গিয়েও ‘দমভরে জিও’র নজির হয়ে আছেন। অনেককিছু ভোলা যায়… দিয়েগোকে কভু নয়।

একটা বিশ্বকাপ যথেষ্ট হতে পারে অমরত্ব লাভের জন্য। মারাদোনা তাই করে দেখিয়েছেন। ছিয়াশি বিশ্বকাপে ইংরেজদের সঙ্গে ম্যাচে একলাফে উঁচুতে ওঠে তার থেকে আট ইঞ্চি লম্বা পিটার শিলটনকে টপকে হাত দিয়ে গোল করে বসলেন এই লোক! এবং পরে সেটা নিয়ে তাঁকে কেউ বিব্রত দেখেনি। কারণ, তাঁর মনে তখন জ্বলজ্বল করছিল ফকল্যান্ড দ্বীপটা। তিন হাজার আর্জেন্টাইন সৈন্যর লাশ, যারা দেশের ভূখণ্ড রক্ষায় ইংরেজদের সঙ্গে লড়াইয়ে প্রাণ দিয়েছিল,—তাদেরকে মগজে পুরে ইংরেজবধে মাঠে নেমেছিলেন দিয়েগো। যেখানে আবার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলটির পর পুরো ইংলিশ টিমকে কাটিয়ে করা দ্বিতীয় গোলটি ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’। মেসিরও আছে এরকম একটা গোল, ক্লাবের বিপক্ষে। তবে, ছিয়াশির ওই বিশ্বকাপ আর ক্লাব ফুটবল এক নয়। টেন্সড ও ‘অরা’য় পার্থক্য আসমান-জমিনের।

খেলাটা কেবল নিষ্পাপ কুসুম থাকে না সবসময়। নোংরা অনেককিছু মাঠে ও মাঠের বাইরে অতীতে ঘটেছে। এখন কিংবা ভবিষ্যতেও ঘটবে। এসব অতিক্রম করে খেলতে হয়, চাপটা নিতে হয় দেশের জন্য। সেই চাপ এই তো দুইহাজার ছাব্বিশ বিশ্বকাপে মেসিরা ইংল্যান্ডের সঙ্গে মাঠের লড়াইয়ে নেমে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন। স্নায়ু-বিধ্বংসী ম্যাচটায় মারাদোনা প্রেত হয়ে তাড়া করেছে গোটা দলকে।

ইংল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচটি জিততেই হতো মেসিবাহিনির। কেননা, আর্জেন্টাইনদের কাছে ওটা সোনালি কাপ জয়ের চেয়ে বেশি গুরুত্ব রাখে। মারাদোনা জিতেছিলেন। মেসিকেও পারতে হতো তা;—এবং তাঁরা তা পেরেছেন। মেসি পরে বলেছেন :

এই একটা ম্যাচ তাঁদের সকল প্রাণশক্তি যেন কেড়ে নিয়েছিল! ফাইনালে ওঠার পর টের পেলেন, পা আর চলতে চাইছে না কিছুতেই!

মানধরায় চামড়ার গোলকে জাদু অনেকে দেখিয়েছেন। কীর্তির পর কীর্তি গড়ে অমরতা পেয়েছেন। লিওনেল মেসি এরিমধ্যে পেলে, মারাদোনা থেকে শুরু করে সকলকে ছাপিয়ে উঠে গেছেন শিখরে। এমন এক শিখরে, এখন অথবা দূর অগামীতে একক কারো পক্ষে এলএম টেনের কীর্তি ছাপিয়ে যাওয়া প্রায় দুঃসাধ্য থাকবে।

মারাদোনার ক্ষেত্রে ঘটনা ভিন্ন। বিশৃঙ্খল পাগলামোয় ভরা ক্যারিয়ারে মারাদোনা জাত ফাইটার। আর্জেন্টাইনদের গভীরে সক্রিয় বুনো উন্মাদনাকে সর্বতোভাবে ভাষা দিতে কার্পণ্য করেননি। সময়টাও ছিল ভীষণ প্রতিকূল। প্রাইম মারাদোনা তাঁর পায়ের জাদু আর অনন্য ড্রিবলের সঙ্গে ক্যারিশম্যাটিক কাজকারবার দিয়ে একটা ভাঙাচোরা দলকে পরপর দুবার বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলেছিলেন। মেসি যেটা পরে তিনবার রিপিট করেছেন, কিন্তু তাঁর সময় খেলার চরিত্র অনেক অনেক সুশৃঙ্খল হয়েছে ততদিনে। মারাদোনাকে যেসব ট্যাকল করত খুনে ডিফেন্ডার, মেসির পক্ষে এটা হজম করে ফিট থাকা কতটা সম্ভব হতো কে জানে! জিনেদান জিদান একবার বলেছিলেন :

Statue of Maradoan: Napoli’s Tribute to the Football God; Image Source & Credit: Collected; Google Images

আমার কাছে সবচেয়ে আশ্চর্য লাগে দিয়েগোর ট্রেনিং সেশনের ভিডিওগুলো। এককথায় অবিশ্বাস্য সব কেরামতি এই লোক যাচ্ছেতাই ফুটবল পিচে করে দেখাতেন! কী করে কে জানে!

আর, বার্সেলোনা ছেড়ে রেলিগেশনের খাড়ায় পড়া নাপোলিকে উদ্ধারিতে পরপর দুবার সিরি এ লিগ চ্যাম্পিয়ন, উয়েফা কাপ ও সুপারকোপ্পা ইতালিয়ানা জেতানো ইতিহাস হয়ে আছে। মারাদোনা সেখানে আজো ঈশ্বর।

মারাদোনা নেই সংবাদটি ‘দ্য গড ইজ রাউন্ড’ বইয়ের লেখক মেক্সিকান হুয়ান ভিলারোকে বিরক্ত করেছিল। তাঁর মনে হচ্ছিল, এরপর থেকে পৃথিবীটা নিরস ঘটনাশূন্য হয়ে উঠবে। ঘটনা সকলেই কমবেশি ঘটায়, কিন্তু মেরিলিন মনরো, এলভিস প্রেসলি, মাইকেল জ্যাকসন, মোহাম্মদ আলী বা মারাদোনার মতো ঘটানোর এলেম সবার থাকে না। সময় যত গড়ায় তাঁদের হাতে সৃষ্ট ঘটনায় বিচিত্র রং লাগতে থাকে। মিনিং পয়দা হয় অবিরত। খ্যাপাটে মারাদোনাকে নিয়ে ভিলারো তাই লিখছেন :

তিনটি ঘটনা পৃথিবীর গতিপথ বদলানোর হ্যাডম রাখে। চীনের প্রাচীরকে ব্যক্তিমালিকানায় জিম্মা করা হয়েছে, ভূমিকম্পে মেক্সিকো শহরটা দেবে গেছে; —আর, মারাদোনা ধরায় বেঁচে নেই! বেঁচে থাকার জন্য যারা লড়াই করছে তাদের অনুতাপ ও বেদনায় শরিক থেকে কথাগুলো লিখছি। চাঁদ থেকে নিঃসঙ্গ যে-ভবনকে দেখা যায়, ওটা থিম পার্কে পালটে গেছে, যে-শহরে আমি জন্ম নিয়েছিলাম, ওটা এখন গোলকধাঁধা, রাস্তার কুকুরগুলো সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আর সর্বকালের সেরা ফুটবল খেলোয়াড়টি বলে শেষবার লাথি মারছেন।

মরণ এই লোকের জন্য নিছক নাম্বার ছিল। ক্যারিয়ারের চূড়ায় ওঠার ক্ষণ থেকে পতন অবধি বহুবার মরণকে দোড়গোড়ায় দেখেছেন এবং ফিনিক্স পাখির মতো জীবনে ফেরত যাওয়ার উল্লাসে মেতে উঠতে থেকেছেন দ্বিধাহীন। এরকম একটা চরিত্রকে জীবন, মরণ ও পুনরুজ্জীবনের গোলকধাঁধায় ঘুরতে থাকা পাখি ছাড়া অন্য কিছু ভাবা কঠিন। ভিলারো তাঁর বইয়ে মারাদোনাকে নিয়ে লেখা চ্যাপ্টারটির শিরোনামমে টলস্টয়ের ‘রেজারেকশন’ উপন্যাসকেই বেছে নিয়েছিলেন।

কথা মিথ্যে নয়,—মারাদোনা সশরীরে বেঁচে নেই কিন্তু তবু জীবিত। নেপলসের অলিগলিতে জীবিত। জীবিত সেইসব মানুষের কাছে, যারা তাঁকে এই ধরণিতে গাট্টাগোট্টা শরীর দুলিয়ে ঘোড়ার বেগে মাঠে ছুটতে দেখেছেন। জোসেফ ক্যাম্পবেলের কথার সারার্থ সত্য প্রমাণ করতে তিনি জীবিত :

মিথ শেষ হয় না, যতক্ষণ মারাদোনার মতো চরিত্ররা ধরণিতে জটলা পাকায়।
. . .

Diego Maradona in Street Art: Buenos Aires: Villa General Mitre; Image Source & Credit: Collected; Google Images

. . .

… থার্ড লেন স্পেস ও অন্য সাইটে প্রাসঙ্গিক আরো দেখুন …

‘ওয়ান লাস্ট ডান্স’ : বিশেষ আয়োজন : ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

মারাদোনা আনবাউন্ড : জাহেদ আহমদ : গানপার

নেপোলির মারাদোনা : আহমদ মিনহাজ : গানপার

মারাদোনা আনবাউন্ড : যে কাহিনির ইতি নেই : আহমদ মিনহাজ : গানপার

. . .

আহমদ মিনহাজ : অবদায়ক : থার্ড লেন স্পেস.কম

আহমদ মিনহাজ-এর অন্যান্য রচনা ও প্রাসঙ্গিক পাঠের জন্য এখানে চাপুন

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 7

No votes so far! Be the first to rate this post.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *