...জেন এমন এক বিশ্বদৃষ্টি, যেখানে কোনোকিছু তার নিজেকে কেন্দ্র করে তুলছে না। কোনোকিছু নিজের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতেও অধীর নয়। চূড়ান্ত ক্ষমতা হয়ে চেপে বসার বাতিকও তার নেই। এই জেন হলো ঈশ্বরবিহীন, উদ্দেশ্যবিহীন ও ক্ষমতাবিহীন, তবে এটা কিন্তু নৈরাশ্যবাদী নয় কোনোভাবে। এই জেন একধরনের খোলা, নির্ভার, নীরব উপস্থিতির পথ দেখায় আমাদের।
-
-
প্রতিকার মানে ‘আরও দক্ষতা’ নয়, প্রতিকার হলো ‘থামার ক্ষমতা’, ‘শোনার ক্ষমতা’ ও ‘ঘটতে দেওয়ার’ ক্ষমতা। ধ্যান, নীরবতা, অপেক্ষা, খেলা, উৎসব, অলঙ্কার ইত্যাদিরা হচ্ছে সেই বিশেষ ‘বিলাস’। মানুষের জীবনে এগুলো কোনো ঘাটতি নয়। এগুলো হলো সংস্কৃতির উৎস, সেইসঙ্গে সত্যের দরজা ও নতুনের জন্মভূমি।
-
ফ্যাক্ট চেকিং তথ্যকে ঠিক করতে পারে, কিন্তু ‘সত্য’ তৈরি করতে পারে না। কেননা, সত্য নিছক সঠিক তথ্য নয়, তা হলো একধরনের প্রতিশ্রুতি এবং বয়ানগত অর্থ ও স্থায়িত্ব।
-
রোজেনবার্গের দৃষ্টিতে, এটি ‘অ্যাকশন’ নয়; বরং ‘অ্যাকশন’-র অনুকরণ;—একধরনের ছদ্মকর্ম। কারণ, এখানে শিল্পী নিজে আর ঝুঁকিতে নেই। সংগতকারণে রোজেনবার্গ প্রশ্ন তুলছেন : যে-শিল্পী নিজে বিপন্ন নয়, সে কি আদৌ ‘কর্ম’ করছে?
-
আধুনিক যুগে কাজ ধীরে ধীরে জীবনের কেন্দ্র দখল করে নিয়েছে। ধর্মীয় শৃঙ্খলা, পুঁজিবাদের উত্থান ও শিল্পযুগের যান্ত্রিক সময় মিলিয়ে মানুষকে এমন এক কর্মজীবনে ঠেলে দিয়েছে, যেখানে অবসর আর স্বাধীনতায় রঙিন নয়; এক বরং অপরাধ বলে ভাবে মানুষ। সময় যেন সঞ্চয়ের বস্তু! শ্রম কেবল মুক্তির প্রতিশ্রুতি! আর জীবন অবিরাম কাজ করে চলার প্রবাহ! এই প্রবাহ মানুষকে ধ্যান থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।…