ক্যানভাসে ছবি অনেকভাবে আঁকা যায়। সবটাই ক্লোদ মনে বা সালভাদর দালির মতো হওয়া জরুরি নয়। একটা ‘মান’ এভাবে চাপানোর মধ্যে বরং ‘পুনরাবৃত্তি’র বিপদ লুকিয়ে থাকে। যারা ‘সুন্দর শৈল্পিক ফুটবল’ বলে হামেশা চিল্লান, তারা হয়তো ‘জোগো বনিতা’য় এমনভাবে আটকা পড়েছেন,—আজো সেই খোঁয়ারি কাটছে না তাদের!
-
-
ষড়যন্ত্র তত্ত্বটাকে তিনি নিয়েছেন এটা প্রতিষ্ঠার জন্য,—৪৩২ হচ্ছে সেক্রেড বা পবিত্র। এখন এ-নিয়ে একশো মুনির একশো মত আছে ভাই। সুরের টেস্ট শ্রোতাভেদে ভিন্ন হবে। যুগভেদে তা এক থাকবে না কখনো। যে-কারণে ৪৪০ হার্টজ দিয়ে সুরকে প্রাকৃতিক সুরসংগতি বা হারমোনি থেকে ভিন্নদিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে;—মতটি আমার কাছে যথার্থ মনে হয় না।
-
এরকম পরিবেশে বসে মুস্তাফা মনোয়ারের মতো সৃষ্টিশীল শিল্পমন বৈচিত্র্য ও বিনোদনে গোছানো অনুষ্ঠান জাতিকে উপহার দিতে চেষ্টা করেছেন। আকাশ সংস্কৃতির যুগে প্রবেশের পর টিভি অনুষ্ঠানের মান ঈর্ষণীয় উচ্চতায় পৌঁছানোর কথা ছিল, তা যদিও আমরা ঘটতে দেখিনি। ‘সিসিমপুর’-এর মতো কিছু অনুষ্ঠান ছাড়া মধ্য নব্বই পরবর্তী সময়ে বিকশিত টিভি চ্যানেলের সৃজনশীল মান নিম্নগামী থেকেছে।
-
হ্যারল্ড রশীদের ছবি স্পিরিচুয়াল ক্যাথারসিসে গমন করতে অভ্যস্ত। দুই-একটি বাদ দিলে সবগুলো ছবি যে-কারণে পরস্পরের প্রতিধ্বনি। একটা লোকের মনোজগৎকে প্রতিভাসিত করছে তারা। আঁকার গুণে যা আবার কেবল তার নিজের থাকেনি। দর্শককে ওই জগতে ঢুকিয়ে নিচ্ছেন হ্যারল্ড। তাঁর আঁকা জগৎ-ফাঁদে দর্শক বন্দি বটে! আমাদের শিরদাঁড়ায় একটা স্পাজম টের পাইয়ে দিচ্ছে এই লোক!
-
ক্রীড়া গবেষণার ভিত সবল না-হলে ক্রীড়াসাহিত্য একটা দেশে কখনো মজবুত হয় না। আমাদের এখানে ফুটবল, ক্রিকেট থেকে আরম্ভ করে অন্য খেলায় যেসব ঘটনা ও চরিত্রদের এ-পর্যন্ত পাচ্ছি, এসব নিয়ে মনে রাখার মতো রচনায় তাই ঘাটতি অনেক। খেলাকে ঘিরে আবর্তিত সমাজ-মনস্তত্ত্ব অনুসন্ধানের তাগিদ গড়ে ওঠেনি। রসেবশে সরস রচনার খামতি যে-কারণে আফসোসের তালিকা দীর্ঘ করে যায়।