...ইতিহাস, রাজনীতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে মোহভঙ্গ নেতিবাচক কোনো ঘটনা নয়। নতুন করে ভেবে দেখা, প্রশ্ন তোলা ও নিজস্ব অবস্থান পুনর্নির্মাণের সুযোগ তৈরি হয় এর ফলে। আমাদের এই মোহগ্রস্ত হওয়া ও মোহভঙ্গের বেদনা এভাবে কতদিন চলবে তা আমার জানা নেই। নতুন চরিত্র ও ভাবধারা এবং আবারো নতুন কোনো মোহের আবির্ভাব ঘটতে থাকবে অন্তহীন;—এই বিষয়ে অন্তত আমার মনে কোনো সংশয় নেই!
-
-
অদ্বৈতবাদ এখানে বাকিদের থেকে এগিয়ে থাকছে এ-কারণে-যে, এটি সারাংশটি আগেভাগে বলে দিয়েছে। সোজা কথায়, তুমি নিজেকে যেভাবে দেখো বা অনুভব করো-না-কেন বাছা, মনে রেখো তুমি হচ্ছো সেই সারাংশের অংশ, যাকে বাদ দিলে তুমি বলে কিছু নেই। কিছু নেই মানে তুমি তখন সারাংশ বা ব্রহ্ম স্বয়ং।
-
সোহেল হাশমি মনে করেন, ভারতবর্ষের সমাজ বিন্যাসে ইংরেজের আগমন গুরুত্বপূর্ণ কালান্তর নিয়ে আসে। ভ্রান্ত ইতিহাসবোধে ভারতবাসীকে নিমজ্জিত রাখবার কৌশলে তারা সফল হয়। স্কলারগণ এর মধ্যে পড়ে আজো খাবি খাচ্ছেন! ক্ষতিকর জাতীয়তার ধারণা এভাবে সবল করে তোলা হয়েছে। যেটি এখন উপমহাদেশে কারা ‘আদি’ ও কারা ‘বহিরাগত’ প্রমাণের হাতিয়ারে মোড় নিচ্ছে ক্রমশ!
-
এ-কারণে একজন ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনা সমর্থক প্রতিপক্ষের সাফল্যকে কেবল একটি খেলার ফল হিসেবে দেখেন না। অনেক সময় সেটি তাঁর কাছে নিজের গোষ্ঠীর প্রতীকী পরাজয়ে পরিণত হয়। আবার নিজের দলের বিজয়ও নিছক একটি ক্রীড়া-সাফল্য থাকে না, তা ব্যক্তিগত গর্বের অংশ হয়ে ওঠে। ফুটবল এখানে বাস্তবের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে, কারণ এটি মানুষের বহু পুরোনো গোষ্ঠীগত প্রবৃত্তিকে জাগিয়ে তোলে।
-
প্রতিটি গোল একটি আবিষ্কার। প্রতিটি গোল প্রতিষ্ঠিত নিয়মের বিরুদ্ধে একধরনের বিদ্রোহ। প্রতিটি গোলের মধ্যে আছে অনিবার্যতা, আকস্মিক আলোর ঝলক, বিস্ময়, এবং এমন এক চূড়ান্ততা, যেখান থেকে আর ফিরে আসা যায় না।