প্রতিকূল সমাজবিশ্বে নিজেকে অবরুদ্ধ দেখার আতঙ্ক থেকে আত্মরক্ষার উপায় হলো অসীম অনন্ত কিছুতে অবগাহন। আমির উদ্দিন কাজেই তাঁর ওপর ভরসা করে আত্মরক্ষার পথ খুঁজছেন। দেহতত্ত্ব আর বিচ্ছেদী গানের বুলিতে গুম রাখার মধ্য দিয়ে নিজের পাওয়া-না-পাওয়ার সকল জ্বালা জুড়াচ্ছেন ক্বারী সায়েব। সুতরাং ভারতবর্ষে জন্ম নেওয়া ভাববাদের লোকায়ত স্বরূপের সবটাই অবরুদ্ধতাভীতি ওরফে ক্লাস্ট্রোফোবিয়াকে চিনিয়ে দিয়ে যায়।
-
-
হাক্সলি ও অরওয়েল যে-দুটি পথ তাঁদের আখ্যানে তুলে ধরেছেন, দুটিই কিন্তু মারাত্মক! সমাজকে চিন্তাশূন্য স্থবির শৃঙ্খলায় বেঁধে বিমানবিক করতে ভয়ানক কার্যকর। উভয় সমাজে মানব প্রজাতি প্রকৃতপক্ষে একসময় নিজের ওপর সেন্সর আরোপ করে বসে ও অবোধ অভ্যাসের দাসে পরিণত হয়।
-
কোন সময়? আমরা বলতে পারি, বলা বোধহয় যায় এখন,—পাতাবাহার রচনার নেপথ্যে সক্রিয় সময় আমরা যাপন করছি অদ্য। একপাল হায়েনা মিলে চেটেপুটে খাচ্ছে দেশ ও মানচিত্র। পাতাবাহার সুতরাং প্রাকৃতিক জীবনচক্রে জন্ম নেওয়া উদ্ভিদ থেকে আরম্ভ করে কবি ও স্বদেশে রূপান্তরিত হয়েছে। আবছা হ্যালুসিনেশন বা স্বপ্নবিভ্রম কি আছে টানা গদ্যতালে লিখিত এ-বয়ানের ভিতর? হয়তো আছে। জওয়াহের হোসেন নাতিদীর্ঘ কবিতাগুচ্ছে যেমন হ্যালুসিনেশন গোপন…
-
বিদ্বেষ ছড়াতে-ছড়াতে শেষতক নদীর বুকে ছুরি চালালে! জানো-না, জল কাটলে দু’ভাগ হয় না
-
তার এই আজব ভাবালুতার কারণ কিন্তু কুন্দেরা স্বয়ং। তাঁর বিখ্যাত দার্শনিকতা এখানে তাকে কাঁপাচ্ছে। যেখানে তিনি বলেছিলেন,—মানবসত্তা স্মৃতি ও বিস্মরণের মধ্যে বাঁচেমরে। স্মৃতিকে ভুলতে পারা সম্ভব হচ্ছে না বুঝে ডুয়া লিপা যেন-বা কল্পনায় থমাসের মতো পুরুষকে নিজের দিকে ফেরত আনার হাস্যকর মহড়া দিচ্ছে গানে। নিজের গানে ডুয়া লিপা এভাবে কুন্দেরাকে টানছে;—যদিও তা বোঝার কোনো জায়গা রাখেনি সে! যতক্ষণ না তার…