সংক্ষুব্ধ বাংলাদেশ টু নামক কিমাকার সময়ে এরূপ স্বচ্ছতার সঙ্গে, কাণ্ডজ্ঞানে জারি থেকে জানা কথাগুলো পুনরায় স্মরণ করতে বলা লোকজন সংখ্যায় কমতে-কমতে নেই হওয়ার পথে আছেন। জানি না, আশি-ঊর্ধ্ব বয়সে সফিউদ্দিন আহমদ এসব কতটা কী ভাবতে সক্ষম! তবে তাঁর মতো লোক, যাঁদেরকে আমরা একসময় ভক্তি অথবা ভীষণ ক্লিশে ভেবে পাত্তা দিতে নারাজ থেকেছি,— তাঁরা মনে হচ্ছে কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন ও মানবিক ছিলেন!
-
-
আনিসুজ্জামান ও সিকান্দার আবু জাফরকে এই-যে মোহাম্মদ আজম বেছে নিতে আগ্রহী, এর পেছনে কাজ করেছে পঁচাত্তর পরবর্তী ঘাত-প্রতিঘাত থেকে জন্ম নেওয়া উগ্র প্রগতিশীলতা ও একে প্রত্যাখ্যানের বাসনা। যদিও, এই প্রগতিশীলতা তার নিজস্ব ভ্রান্তিসহ কেন ওইসময় জন্ম নিয়েছিল,—সেটি সুচতুরভাবে পাশ কাটিয়ে গেছেন মোহাম্মদ আজম।
-
হোসনে আরা কামালীর কবিতা কখনও যেন শূন্যে আলো ফেলার মতো—নিঃশব্দ অথচ দীপ্তিমান। তিনি নির্মাণ করেন এক গভীর সংবেদনশীল প্রতীকময় কবিতাভুবন।... নিকট থাকো বৃক্ষ এক আত্মগভীর যাত্রাপথের পথিকসঙ্গী। জীবনের পরতে-পরতে জমাটবাঁধা স্মৃতি-বিস্মৃতি, আনন্দ-বেদনা, প্রেম-বিরহ কামালীর কবিতায় ফুটে ওঠে শরত-প্রভাতে শাপলাবিলের মতোই। একজন সমাজচিন্তকের ভাবনারাশিও তাঁর কবিতা-অক্ষরে জ্বলজ্বল করে। পাঠক-হৃদয়ে তারা বুনে দেয় নিকটতার বৃক্ষ। এই বৃক্ষ ছায়া দেয়, বাতাস দেয়, কখনও-বা…
-
তাঁর কবিতায় নিশ্চয় এমন কোনো দ্রবগুণ রয়েছে, যে-কারণে বিশ্বের শতাধিক ভাষায় দ্য প্রফেট অনূদিত ও পঠিত হয়ে চলেছে! পাশ্চাত্যে মাওলানা রুমির পরে তিনি সম্ভবত সর্বাধিক পঠিত কবি। রুমির চেয়ে বেশিও হতে পারেন। এতো মানুষ যাঁর কবিতা পড়ছেন, সে তো এমনি-এমনি নয়;—নিগূঢ় ব্যঞ্জনা ও বোধির সাক্ষাৎ মিলছে দেখে পাঠ করছেন তাঁকে। এমন কোনো সান্ত্বনা হয়তো কাহলিল জিবরান মানুষকে দিতে পেরেছেন, যেটি…
-
কুমার চক্রবর্তী প্রশ্ন তুলেছেন। ভাববার মতো প্রশ্ন, তবে এর মধ্যে উঁকি দিচ্ছে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের পুরোনো বিরোধ;—যেখানে এরা আজো একজন আরেকজনকে বোঝা ও বিনিময়ের জায়গায় সবল দাঁড়িয়ে নেই। পাশ্চাত্য এখনো মোটাদাগে প্রাচ্যকে রোমান্টিসাইজ করে। নয়তো প্রাচ্যের ভাষা ও বয়নরীতির আগামাথা কিছু তারা ধরতে ও বুঝতে পারে না। ট্রাশ ভেবে বাতিলও করে হামেশা! প্রাচ্য আবার অনেকসময় অন্ধের মতো পাশ্চাত্য ন্যারেটিভকে নিজের…