পোস্ট শোকেস - সাহিত্যবাসর

ক্ষণিকাগুচ্ছ-১ : ‘চাঁদের শবযাত্রায় সমুদ্রের দরজা খুলে’ : মেকদাদ মেঘ

Reading time 3 minute
5
(7)

ক্ষণিকাগুচ্ছ
চাঁদের শবযাত্রায় সমুদ্রের দরজা খুলে
রচনা : মেকদাদ মেঘ

Conceptual Artwork-I in collaboration wih Gemini; @thirdlanespace.com

‎১
‎ঘড়ির কঙ্কাল—
‎চাঁদের পকেটে লুকায়
‎অন্ধ নদী।

‎২
‎আয়নার বনে
‎পাখিরা পরে থাকে
‎জলের মুখোশ।

‎৩
‎শূন্য ডাকবাক্স,
‎নক্ষত্রের হাতছানি—
‎বৃষ্টি নির্বাসিত।

‎৪
‎নীল ছাতার
‎তলে মৃত প্রজাপতি
‎স্বপ্নও উড়ে ।

‎৫
‎জংধরা চাবি,
‎ঘুমন্ত সমুদ্র খোলে
‎কুয়াশার দরজা।

‎৬
‎বালির শরীরে
‎লিখে যায় অদৃশ্য ঘোড়া—
‎সময় হাঁটে।

‎৭
‎দ্বিগুণ চাঁদে
‎হারানো মাছের চোখ
‎জ্বলে নীরবে।

‎৮
‎রক্তিম মেঘে
‎কাকের ছায়া বোনে
‎কাচের বন।

‎৯
‎ভাঙা কম্পাস—
‎উত্তর মেরুর বদলে
খোঁজে শৈশব।

‎১০
‎‎জলরঙ রাতে
‎নিঃসঙ্গ রজনীগন্ধা
গোনে নক্ষত্র।

‎১১
‎কঙ্কাল বৃক্ষের
ডালে ঝুলে থাকে
‎সবুজ নিস্তব্ধতা।

‎১২
‎আকাশে জুতো
পরে হাঁটে চিলেরা—
‎নদী আয়না।

Conceptual Artwork-II in collaboration wih Gemini; @thirdlanespace.com

‎১৩
মেঘের কামে
‎ঝুমঝুম বৃষ্টি নামে—
‎ভিজে হৃদয়।

‎১৪
‎নদীর বুকেতে
ছোট্ট একটি নাও,
‎ভাসছে নিরলে।

‎১৫
তোমার চোখে
প্রেম চিলতে আলো,
‎সুখের রেশ।

‎১৬
‎শিমুল বনে
‎বসন্তের হাওয়া,
‎আবির ওড়ে।

‎১৭
‎পাখি ফিরছে
‎নীড়ের ঠিকানায়,
‎ঘুমন্ত আলো।

‎১৮
‎শিশিরস্নাত
ঘাসে রোদের চুমু—
‎সবুজ বন।

‎১৯
‎‎কাচের আয়নায়,
‎উড়ছে সূর্যঘড়ি;
রোদে বৃষ্টির কান্না।

‎২০
‎প্লাস্টিকে মেঘে,
‎ছায়ার নীড়ে ছায়া;
‎খুঁজে ঠিকানা।

‎২১
‎মৃত্যুবন্দর
রোদ চশমা পরে
‎ঘুমায় নদী।

‎২২
‎কাচআঙিনায়,
‎ডানাভরা আগুন;
‎উড়ে নিভৃতে।

‎২৩
‎ঝুলছে লাল
‎আপেল শহরের
‎ট্রাফিক সিগন্যালে।

‎২৪
‎ঘুমের মধ্যে
‎হাঁটে বিবর্ণ ট্রেন;
শূন্য শূন্যতা।

Conceptual Artwork-III in collaboration wih Gemini; @thirdlanespace.com

‎২৫
‎শব্দের ঘ্রাণে,
‎অচেনা ঘড়ি উড়ে;
‎ডানা ঝাপটে।

‎২৬
‎ভাঙা আয়নায়
‎আকাশ দেখে
‎একটি চড়ুই।

‎২৭
‎পুরোনো ঘড়ি—
‎সময়ের বদলে
‎ধুলোর শব্দ।

‎২৮
‎নদীর খাতা
‎জলের স্বাক্ষর রেখে
‎ফিরে যায় মেঘ।

‎২৯
‎খালি জানালা,
‎বিকেলের রোদ এসে
‎লিখে কবিতা।

‎৩০
‎জংধরা সেতু—
‎দুই তীরের মধ্যে
‎নীরবঘর।

‎৩১
‎বটের ছায়া
‎পাতাহীন ঋতুর
গোপন ডাক।

‎৩২
‎শূন্য কূপে
‎ঝুঁকে দেখে আকাশ
‎নিজের মুখ।

‎৩৩
‎মাটির প্রদীপ—
‎অন্ধকারের ভেতরে
‎আলোর বীজ।

‎৩৪
কুয়াশা নামে,
‎পথ হারিয়ে ফেলে
যেতে পদচিহ্ন।

‎৩৫
‎বন্ধ দরজা
‎চাঁদের রূপালি চিঠি—
‎উঠোন কোণে।

‎৩৬
ছেঁড়া মানচিত্র,
দেশের মতো বড়ো
‎ঐতিহ্যস্মৃতি।

‎৩৭
‎নিঃসঙ্গ পাতা
‎শীতে বাতাসে লেখে
‎বৃক্ষের নাম।

‎৩৮
‎মৎসকঙ্কাল
‎চাঁদের গায়ে আঁকে
‎জলের মানচিত্র।

‎৩৯
‎ঘুমন্ত ঘড়ি—
‎কাঁটায় বাসা বাঁধে
‎নীল প্রজাপতি।

Conceptual Artwork-IV in collaboration wih Gemini; @thirdlanespace.com

‎৪০
‎মহাকাশ
থেকে ঝরে পড়ে এক
‎অদৃশ্য নদী।

‎৪১
‎আয়নাবনে
‎নিজের ছায়া খুঁজে
‎মৃত্তিকা-মেঘ।

‎৪২
‎কাচের ঘোড়া
দৌড়ে পেরোয় রাত
‎রজনীগন্ধা।

‎৪৩
‎বৃষ্টির মধ্যে
‎একটি মৃত তারকা
ফোটায় পদ্ম।

‎৪৪
‎উল্টো সমুদ্র—
‎তিমির উড়ে যায়
‎পক্ষীডানায়।

‎৪৫
‎শূন্য সিঁড়িতে
জ্যোৎস্নার জুতো জোড়া
‎অপেক্ষা করে।

‎৪৬
‎নক্ষত্রখেকো
‎একটি কালো হরিণ
‎চরে কুয়াশায়।

‎৪৭
‎বালুর চোখে
জেগে ওঠে প্রাচীন
‎নীল ডলফিন।

‎৪৮
মোমের বৃক্ষ
‎পাতার বদলে ধরে
জোনাকি হাড়।

‎৪৯
‎দ্বিগুণ চাঁদে
‎অন্ধ নদীও খোঁজে
‎উৎসের স্থল।

‎৫০
‎মায়া হরিণ
‎বনে দৌড়ায় যেন
‎প্রাণের অঙ্কে।
. . .

লেখক পরিচয় মেকদাদ মেঘ : এখানে অথবা ওপরে ছবিতে চাপুন

. . .

অবদায়ক : মেকদাদ মেঘ : থার্ড লেন স্পেস.কম

মেকদাদ মেঘ-এর অন্যান্য রচনা পাঠের জন্য এখানে চাপুন

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 7

No votes so far! Be the first to rate this post.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *