ক্ষণিকাগুচ্ছ
চাঁদের শবযাত্রায় সমুদ্রের দরজা খুলে
রচনা : মেকদাদ মেঘ

১
ঘড়ির কঙ্কাল—
চাঁদের পকেটে লুকায়
অন্ধ নদী।
২
আয়নার বনে
পাখিরা পরে থাকে
জলের মুখোশ।
৩
শূন্য ডাকবাক্স,
নক্ষত্রের হাতছানি—
বৃষ্টি নির্বাসিত।
৪
নীল ছাতার
তলে মৃত প্রজাপতি
স্বপ্নও উড়ে ।
৫
জংধরা চাবি,
ঘুমন্ত সমুদ্র খোলে
কুয়াশার দরজা।
৬
বালির শরীরে
লিখে যায় অদৃশ্য ঘোড়া—
সময় হাঁটে।
৭
দ্বিগুণ চাঁদে
হারানো মাছের চোখ
জ্বলে নীরবে।
৮
রক্তিম মেঘে
কাকের ছায়া বোনে
কাচের বন।
৯
ভাঙা কম্পাস—
উত্তর মেরুর বদলে
খোঁজে শৈশব।
১০
জলরঙ রাতে
নিঃসঙ্গ রজনীগন্ধা
গোনে নক্ষত্র।
১১
কঙ্কাল বৃক্ষের
ডালে ঝুলে থাকে
সবুজ নিস্তব্ধতা।
১২
আকাশে জুতো
পরে হাঁটে চিলেরা—
নদী আয়না।

১৩
মেঘের কামে
ঝুমঝুম বৃষ্টি নামে—
ভিজে হৃদয়।
১৪
নদীর বুকেতে
ছোট্ট একটি নাও,
ভাসছে নিরলে।
১৫
তোমার চোখে
প্রেম চিলতে আলো,
সুখের রেশ।
১৬
শিমুল বনে
বসন্তের হাওয়া,
আবির ওড়ে।
১৭
পাখি ফিরছে
নীড়ের ঠিকানায়,
ঘুমন্ত আলো।
১৮
শিশিরস্নাত
ঘাসে রোদের চুমু—
সবুজ বন।
১৯
কাচের আয়নায়,
উড়ছে সূর্যঘড়ি;
রোদে বৃষ্টির কান্না।
২০
প্লাস্টিকে মেঘে,
ছায়ার নীড়ে ছায়া;
খুঁজে ঠিকানা।
২১
মৃত্যুবন্দর
রোদ চশমা পরে
ঘুমায় নদী।
২২
কাচআঙিনায়,
ডানাভরা আগুন;
উড়ে নিভৃতে।
২৩
ঝুলছে লাল
আপেল শহরের
ট্রাফিক সিগন্যালে।
২৪
ঘুমের মধ্যে
হাঁটে বিবর্ণ ট্রেন;
শূন্য শূন্যতা।

২৫
শব্দের ঘ্রাণে,
অচেনা ঘড়ি উড়ে;
ডানা ঝাপটে।
২৬
ভাঙা আয়নায়
আকাশ দেখে
একটি চড়ুই।
২৭
পুরোনো ঘড়ি—
সময়ের বদলে
ধুলোর শব্দ।
২৮
নদীর খাতা
জলের স্বাক্ষর রেখে
ফিরে যায় মেঘ।
২৯
খালি জানালা,
বিকেলের রোদ এসে
লিখে কবিতা।
৩০
জংধরা সেতু—
দুই তীরের মধ্যে
নীরবঘর।
৩১
বটের ছায়া
পাতাহীন ঋতুর
গোপন ডাক।
৩২
শূন্য কূপে
ঝুঁকে দেখে আকাশ
নিজের মুখ।
৩৩
মাটির প্রদীপ—
অন্ধকারের ভেতরে
আলোর বীজ।
৩৪
কুয়াশা নামে,
পথ হারিয়ে ফেলে
যেতে পদচিহ্ন।
৩৫
বন্ধ দরজা
চাঁদের রূপালি চিঠি—
উঠোন কোণে।
৩৬
ছেঁড়া মানচিত্র,
দেশের মতো বড়ো
ঐতিহ্যস্মৃতি।
৩৭
নিঃসঙ্গ পাতা
শীতে বাতাসে লেখে
বৃক্ষের নাম।
৩৮
মৎসকঙ্কাল
চাঁদের গায়ে আঁকে
জলের মানচিত্র।
৩৯
ঘুমন্ত ঘড়ি—
কাঁটায় বাসা বাঁধে
নীল প্রজাপতি।

৪০
মহাকাশ
থেকে ঝরে পড়ে এক
অদৃশ্য নদী।
৪১
আয়নাবনে
নিজের ছায়া খুঁজে
মৃত্তিকা-মেঘ।
৪২
কাচের ঘোড়া
দৌড়ে পেরোয় রাত
রজনীগন্ধা।
৪৩
বৃষ্টির মধ্যে
একটি মৃত তারকা
ফোটায় পদ্ম।
৪৪
উল্টো সমুদ্র—
তিমির উড়ে যায়
পক্ষীডানায়।
৪৫
শূন্য সিঁড়িতে
জ্যোৎস্নার জুতো জোড়া
অপেক্ষা করে।
৪৬
নক্ষত্রখেকো
একটি কালো হরিণ
চরে কুয়াশায়।
৪৭
বালুর চোখে
জেগে ওঠে প্রাচীন
নীল ডলফিন।
৪৮
মোমের বৃক্ষ
পাতার বদলে ধরে
জোনাকি হাড়।
৪৯
দ্বিগুণ চাঁদে
অন্ধ নদীও খোঁজে
উৎসের স্থল।
৫০
মায়া হরিণ
বনে দৌড়ায় যেন
প্রাণের অঙ্কে।
. . .
লেখক পরিচয় মেকদাদ মেঘ : এখানে অথবা ওপরে ছবিতে চাপুন
. . .

অবদায়ক : মেকদাদ মেঘ : থার্ড লেন স্পেস.কম



