পোস্ট শোকেস - সাহিত্যবাসর

‘স্মৃতির আয়ুষ্কাল’-এ প্রেম নামক ব্যাধির জন্য প্রার্থনা : পারভেজ রশীদ মঙ্গল

Reading time 6 minute
5
(15)
Book Cover, Written by Mohammad Jayed Ali; Image Source & Credit: Author;

‎মানুষ এই ধরাধামে আসে, স্বপ্ন দেখে, সম্পর্ক গড়ে, ভালোবাসে, অভিমান করে, কতরকম বায়না জমায়;—তারপর একদিন সবকিছু পেছনে ফেলে চলে যায়। থেকে যায় কিছু মুখ, কিছু মুহূর্ত, কিছু দীর্ঘশ্বাস—আর স্মৃতি। সেই স্মৃতিরও যেন একটি নিজস্ব আয়ু আছে। কখনো তা ক্ষয়ে যায়, কখনো সময়ের ধুলোয় চাপা পড়ে, আবার কখনো বিস্মৃতির অতল থেকেও হঠাৎ জেগে ওঠে। কবি মোহাম্মদ জায়েদ আলীর কাব্যগ্রন্থ ‘স্মৃতির আয়ুষ্কাল’ মূলত সেই স্মৃতি, প্রেম, বিরহ, শূন্যতা, জীবন ও মৃত্যুচেতনার এক বহুমাত্রিক কাব্যিক অনুসন্ধান।

‎২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে সিলেটের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান নাগরী থেকে প্রকাশিত এই গ্রন্থে রয়েছে ৬৪টি কবিতা। প্রচ্ছদ করেছেন আল নোমান। গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে মোস্তাক আহমাদ দীন ও ফজলুররহমান বাবুলকে। সূচিপত্রের দিকে তাকালেই বোঝা যায়, কবির ভাবনার পরিসর কেবল প্রেম-বিরহে সীমাবদ্ধ নয়; ব্যক্তি থেকে সমাজ, প্রেম থেকে মৃত্যু, লোকজ সংস্কৃতি থেকে সুফিজগৎ—বহু বিচিত্র অনুষঙ্গ তাঁর কবিতার বিষয় হয়ে উঠেছে।

‎‘স্মৃতির আয়ুষ্কাল’ নামটিই গ্রন্থটির ভাবজগতের চাবিকাঠি। মানুষ যতই বর্তমানকে নিয়ে ব্যস্ত থাকুক, স্মৃতি তাকে বারবার অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। প্রেমের স্মৃতি, হারানোর স্মৃতি, স্বজনের স্মৃতি, জীবনের অপূর্ণতার স্মৃতি—সব মিলিয়ে মানুষ যেন শেষ পর্যন্ত নিজের স্মৃতির কাছেই ফিরে আসে। ‎এই জীবন-দর্শনের একটি চমৎকার প্রকাশ পাওয়া যায় ‘প্রেম নামক ব্যাধির জন্য প্রার্থনা’ কবিতায় :

‎মানুষ তো এই ধরাধামে হরেকরকম বায়না জমায়,
‎পরিশেষে আগাগোড়াই স্মৃতির ধুলোয় গভীর ঘুমায়।

‎এই দুটি পঙ্‌ক্তিতে কবি জীবনের দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষা ও তার অনিবার্য পরিণতিকে পাশাপাশি দাঁড় করিয়েছেন। ‘হরেকরকম বায়না’ যেন মানুষের সমস্ত চাওয়া-পাওয়া, আকাঙ্ক্ষা, অভিমান ও অর্জনের প্রতীক; আর ‘স্মৃতির ধুলোয় গভীর ঘুম’ হয়ে ওঠে জীবনের শেষ পরিণতির এক মর্মস্পর্শী রূপক। এখানে প্রেমের কবিতা অতিক্রম করে কবিতা পৌঁছে যায় জীবন-দর্শনের জায়গা।

‎গ্রন্থের অন্যতম আকর্ষণীয় নাম ‘প্রেম নামক ব্যাধির জন্য প্রার্থনা’। প্রেমকে ‘ব্যাধি’ বলা এবং সেই ব্যাধির জন্য ‘প্রার্থনা’ করার মধ্যে রয়েছে একধরনের কাব্যিক বৈপরীত্য। যে প্রেম মানুষকে ব্যথিত করে, অস্থির করে, স্মৃতির কাছে বন্দি করে, মানুষ আবার সেই প্রেম থেকেই মুক্তি চায় না। বরং সেই ব্যথাকেই সে নিজের জীবনের মূল্যবান অভিজ্ঞতা হিসেবে ধারণ করে।

‎এই দৃষ্টিকোণ থেকে কবির প্রেমের কবিতাগুলোকে নিছক রোমান্টিক কবিতা হিসেবে দেখলে তার পরিসর ছোট হয়ে যায়। ‘জাগতিক প্রেম’, ‘মহাপৃথিবীর ভালোবাসা’, ‘প্রেম ও নারী’, ‘ভালোবাসার শহর’, ‘ভালোবাসার অগ্নি’, ‘মরমে পরমে’—এসব শিরোনাম জানিয়ে দেয়, কবির কাছে প্রেম কখনো ব্যক্তিগত, কখনো সামাজিক, কখনো আধ্যাত্মিক।

প্রেম যেখানে আছে, সেখানে বিরহও অনিবার্য। ‘বিরহের অভিষেক’, ‘বিরহবিলাস’, ‘দূর-পরবাস’, ‘যদি হারিয়ে যাও’, ‘একাকী একা’, ‘ফিকে সন্ধ্যার মতো’—এসব কবিতার নামেই এক ধরনের নিঃসঙ্গতার আবহ তৈরি হয়। ‎‘বিরহবিলাস’ কবিতার একটি প্রশ্ন বিশেষভাবে পাঠকের মনে দাগ কাটে :

পুরাতন আসবাবের মতো
‎অনর্থক হয়ে গেছি আমি?

‎এখানে ‘পুরাতন আসবাব’ শুধু একটি উপমা নয়; এটি অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ার এক গভীর মানসিক অনুভূতির প্রতীক। সময়ের সঙ্গে মানুষের গুরুত্ব কমে যাওয়া, সম্পর্কের ভেতর নিজের প্রয়োজন ফুরিয়ে আসা কিংবা নিজেকেই নিজের কাছে অচেনা মনে হওয়া—সবকিছুই এই সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের মধ্যে এসে যায়। ‎কবিতার শক্তি অনেকসময় তার দীর্ঘ বর্ণনায় নয়, একটি যথাযথ প্রশ্নে। এই প্রশ্নটি তেমনই—পাঠককে কবির সঙ্গে নিজের অস্তিত্ব নিয়েও ভাবতে বাধ্য করে। ‎‘স্বজন’ কবিতায় কবি লিখেছেন :

শূন্যতা তুমিও পূর্ণতার প্রতিবেশী
‎আরেক স্বজন

‎এই পঙ্‌ক্তিদ্বয় গ্রন্থের জীবনদর্শনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উন্মোচন করে। সাধারণত শূন্যতাকে আমরা পূর্ণতার বিপরীত হিসেবে দেখি। কিন্তু কবির দৃষ্টিতে শূন্যতা পূর্ণতার ‘প্রতিবেশী’। অর্থাৎ শূন্যতা ও পূর্ণতা পরস্পরের সম্পূর্ণ বিপরীত নয়; তারা পাশাপাশি বসবাস করে। ‎এই উপলব্ধি কবির কবিতাকে নিছক আবেগের জায়গা থেকে দার্শনিকতার দিকে নিয়ে যায়। হারানোর মধ্যেও প্রাপ্তি আছে, একাকিত্বের মধ্যেও আত্মআবিষ্কার আছে, শূন্যতার মধ্যেও অন্য এক পূর্ণতার সম্ভাবনা আছে—এই বোধটি কবির কবিতায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

নক্ষত্রগুলোও বিদীর্ণ হয়,
অসহ্য একঘেয়ে দীর্ঘায়ু মানতে না পেরে
অন্ধকার ভাগ্য রচনা করে,
নিজেরাই সৃষ্টি করে একদা মৃত্যুর পরিচয়।

‎গ্রন্থে জীবন ও মৃত্যুচিন্তার একটি গভীর প্রবাহও রয়েছে। ‘মৃত্যু’, ‘আমার হোক মহাযাত্রা’, ‘নিষ্ফল জীবন’, ‘জীবনের পোতাশ্রয়’ প্রভৃতি কবিতার নাম থেকেই তা স্পষ্ট। ‎‘জীবনের পোতাশ্রয়’ কবিতার পঙ্‌ক্তি :

‎অশীতিপর আমি যখন ভাবুক আলোয় দেখি
‎বীর্যজাত ওয়ারিশদের জীবন চক্র একই

‎এখানে বয়সের অভিজ্ঞতা থেকে জীবনের দিকে ফিরে তাকানোর একটি দার্শনিক দৃষ্টি পাওয়া যায়। প্রজন্ম বদলায়, মানুষ বদলায়, কিন্তু জীবনের মৌলিক চক্র কি বদলায়? জন্ম, বেড়ে ওঠা, আকাঙ্ক্ষা, সংসার, উত্তরাধিকার এবং শেষপর্যন্ত প্রস্থান—এই চক্রের মধ্যেই কি মানুষের অস্তিত্ব আবর্তিত? ‎এই প্রশ্ন কবির কাব্যচিন্তাকে ব্যক্তিগত প্রেমের গণ্ডি থেকে বৃহত্তর জীবন-দর্শনের দিকে প্রসারিত করে।

‎‘স্মৃতির আয়ুষ্কাল’-এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো ব্যক্তিগত অনুভূতির পাশাপাশি সামাজিক বাস্তবতার উপস্থিতি। ‘গাজায় মৃত শিশুর ভর্ৎসনা’, ‘মেহনতি মানুষের জেগে ওঠার গান’, ‘বৈষম্যের চক্র’—এসব কবিতার শিরোনাম কবির সামাজিক সচেতনতার পরিচয় দেয়। ‎বিশেষ করে যুদ্ধ ও শিশুমৃত্যুর মতো মানবিক বিপর্যয় একজন কবিকে বিচলিত করেছে—এটি তাঁর মানবিক দায়বোধের পরিচায়ক। একইভাবে শ্রমজীবী মানুষের জেগে ওঠা এবং সমাজের বৈষম্যের চক্র নিয়ে ভাবনা কবির দৃষ্টিকে ব্যক্তিগত আবেগের বাইরে নিয়ে গেছে।

‎কবির কাব্যভুবনে সিলেটের লোকজ ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যেরও একটি সম্ভাবনাময় উপস্থিতি রয়েছে। ‘শাহ ইব্রাহীম মস্তানের সুফিজগৎ’, ‘গাঁয়ের বধূর শাড়ি’, ‘মরমে পরমে’ প্রভৃতি কবিতার শিরোনাম তারই ইঙ্গিত দেয়। ‎সিলেটের মরমি সংস্কৃতি, সুফি-ঐতিহ্য, লোকজ জীবন ও আঞ্চলিক অভিজ্ঞতা কবির জন্য একটি অনন্য কাব্যিক সম্পদ। এই উপাদানগুলোকে আরও গভীরভাবে ধারণ করতে পারলে তাঁর কবিতায় একটি স্বতন্ত্র ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় গড়ে উঠতে পারে। ‎

মোহাম্মদ জায়েদ আলীর কবিতার অন্যতম শক্তি তাঁর অনুভূতির আন্তরিকতা। তিনি যে-বিষয় নিয়ে লিখছেন, তার সঙ্গে তাঁর আবেগগত সম্পৃক্ততা আছে। তাঁর কবিতায় ব্যক্তিগত অনুভবের পাশাপাশি মানুষের প্রতি মমতা এবং জীবনকে বোঝার চেষ্টা রয়েছে। ‎তাঁর আরেকটি শক্তি বিষয়বৈচিত্র্য। প্রেম-বিরহের সঙ্গে যুদ্ধ, বৈষম্য, শ্রমজীবী মানুষ, মৃত্যু, সুফিবাদ ও লোকজ সংস্কৃতিকে একই কাব্যভুবনে স্থান দিয়েছেন। এই বিস্তৃতির মধ্যে ভবিষ্যতের আরও পরিণত কবিতার সম্ভাবনা নিহিত।

‎তবে একজন কবির সাহিত্যিক যাত্রাকে কেবল প্রশংসার মধ্য দিয়ে মূল্যায়ন করলে তা পূর্ণাঙ্গ হয় না। একজন কবির প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা হলো তাঁর সম্ভাবনার জায়গাগুলোও চিহ্নিত করা। ‎‘স্মৃতির আয়ুষ্কাল’-এর বিষয়বৈচিত্র্য থাকা সত্ত্বেও প্রেম, বিরহ, স্মৃতি, একাকিত্ব ও বেদনার আবর্তন কোথাও কোথাও পুনরাবৃত্তির অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে। ভবিষ্যতে একই অনুভূতিকে আরও নতুন প্রতীক, চিত্রকল্প ও দৃষ্টিকোণ দিয়ে প্রকাশ করলে কবিতাগুলো আরও স্বাতন্ত্র্য লাভ করবে।

‎তাঁর ভাষার সরলতা পাঠকের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ তৈরি করে। কিন্তু কবিতার এই সরলতা যেন কখনো অতিরিক্ত সরল বক্তব্যে পরিণত না হয়—সেদিকেও সচেতন থাকা প্রয়োজন। ইঙ্গিত, প্রতীক, ব্যঞ্জনা ও বহুস্তরীয় অর্থের ব্যবহার বাড়ালে তাঁর কবিতা আরও গভীর ও শিল্পিত হয়ে উঠতে পারে। ‎সামাজিক ও প্রতিবাদী কবিতার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কবির অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু সরাসরি বক্তব্যের পাশাপাশি যদি দৃশ্য, প্রতীক ও মানবিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে প্রতিবাদকে প্রকাশ করা যায়, তবে কবিতা শুধু বক্তব্য বহন করবে না, পাঠকের ভেতর দীর্ঘস্থায়ী অনুরণনও সৃষ্টি করবে।

‎সবচেয়ে বড়ো কথা, নিজস্ব কাব্যভাষা নির্মাণ কবির সামনে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। প্রেম-বিরহ বাংলা কবিতার বহুল চর্চিত বিষয়। তাই নিজের ভূগোল, নিজের সময়, নিজের মানুষ, নিজের অভিজ্ঞতা ও সিলেটের লোকজ-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য থেকে নতুন চিত্রকল্প ও উপমা আহরণ করতে পারলে তাঁর কবিতার স্বর আরও স্বতন্ত্র হয়ে উঠবে। ‎এখানে নির্মোহ সম্পাদনাও জরুরি। প্রথম আবেগে লেখা কবিতা এবং সময় নিয়ে সম্পাদিত কবিতার মধ্যে পার্থক্য থাকে। পুনরুক্তি বাদ দেওয়া, অপ্রয়োজনীয় শব্দ ছেটে ফেলা, চিত্রকল্পকে আরও সংহত করা এবং কবিতার শেষ পঙ্‌ক্তিকে যথাসম্ভব শক্তিশালী করে তোলার দিকে মনোযোগ দিলে তাঁর কবিতার শিল্পমূল্য আরও বাড়তে পারে।

‎‘স্মৃতির আয়ুষ্কাল’ শেষপর্যন্ত স্মৃতির বই, কিন্তু শুধু স্মৃতির বই নয়। এটি প্রেমের বই, কিন্তু শুধু প্রেমের বইও নয়। এটি বিরহের, শূন্যতার, সামাজিক দায়বোধের, জীবন ও মৃত্যুর এবং মানুষকে ভালোবাসার বই। ‎এই গ্রন্থের কয়েকটি পঙ্‌ক্তি পড়েই বোঝা যায়, কবির মধ্যে শুধু অনুভূতি প্রকাশের আকাঙ্ক্ষা নেই; আছে জীবনকে বুঝতে চাওয়ারও চেষ্টা। ‘হরেকরকম বায়না’ জমিয়ে শেষ পর্যন্ত ‘স্মৃতির ধুলোয়’ ঘুমিয়ে পড়া মানুষটির পাশে দাঁড়ান কবি। ‘পুরাতন আসবাব’-এর মতো অনর্থক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তাঁকে তাড়িয়ে বেড়ায়। আবার সেই তিনিই ঘোষণা করেন—শূন্যতাও পূর্ণতার প্রতিবেশী। অশীতিপর চোখে তিনি প্রজন্মের জীবনচক্র দেখেন এবং নিজের মহাযাত্রার কথা ভাবেন। ‎এই পরস্পরবিরোধী অনুভূতিগুলোর মধ্যেই কবিতার জীবন।

মোহাম্মদ জায়েদ আলীর কাব্যযাত্রা তাই এখনো একটি চলমান যাত্রা। তাঁর হাতে অনুভূতির উপাদান আছে, জীবন দেখার চোখ আছে, মানুষের প্রতি মমতা আছে এবং বলার মতো নিজস্ব কিছু কথাও আছে। প্রয়োজন সেই অনুভূতিকে আরও শৈল্পিক সংযম, গভীর জীবনবোধ, নতুন চিত্রকল্প এবং নিজস্ব কাব্যভাষার মধ্য দিয়ে পরিণত করে তোলা। ‎শেষপর্যন্ত মানুষ কত বায়নাই না জমায়! অথচ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে হয়তো বুঝতে পারে—অর্জনের চেয়ে স্মৃতিই দীর্ঘস্থায়ী। আর সেই স্মৃতিকে যদি কবিতায় ধরে রাখা যায়, তবে কবিতাই হয়ে ওঠে স্মৃতির দ্বিতীয় জীবন। ‎‘স্মৃতির আয়ুষ্কাল’ সেই দ্বিতীয় জীবনেরই এক আন্তরিক প্রয়াস।

. . .

লেখক পরিচয় : পারভেজ রশীদ মঙ্গল

কবি ও গদ্যকার পারভেজ রশীদ মঙ্গল সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার সন্তান। হাসন রাজার গানের অমর রাশপাশার চকরামগ্রামে জন্ম ও বেড়ে ওঠা। বিদ্যাশিক্ষা শেষে শিক্ষকতাকে পেশা করেছেন। উত্তর বিশ্বনাথ আমজদ উল্লাহ ডিগ্রি কলেজে ইংরেজি পড়ান। লেখালেখিতে সক্রিয়তা তিন দশক ছাড়িয়েছে। কবিতা তাঁর প্রিয় প্রকাশ-মাধ্যম, তবে গদ্য, ছড়া এবং গানও বাঁধেন।

এখন পর্যন্ত তিনটি কবিতার বই বেরিয়েছে। ২০১০ সনে ‘অন্তরাকে বলে দিও’ কবিতাবইয়ের প্রথম খণ্ডটি প্রকাশিত হয়। পাঠ-সমাদৃত বইয়ের দ্বিতীয় খণ্ড সম্প্রতি বেরিয়েছে। ‘প্রবাদের পদ্যরূপ’ ও ‘আমি তো যাবোই না’ নামে আরো দুটি কবিতাবই রয়েছে।

Books, written by Parbhej Rasheed Mongol; Collage; Source & Credit: Author; @thirdlanespace.com

কবিতার পাশাপাশি ছড়াগ্রন্থ ‘প্রজন্ম এক দুই তিন’ ও ‘ছড়াকুঞ্জ’-এ স্বকীয়তার স্বাক্ষর রেখেছেন। গান বাঁধতে ভালোবাসেন। ‘বাউলিয়ানা ও প্রাসঙ্গিকতা’ এবং ‘বাউল ও সহজাত’ নামে দুটি গানের বইয়ে বাউলসঙ্গ ও এর প্রতি অনুরাগ তুলে ধরেছেন। ছোটকাগজ ও অনলাইন মুখপত্রে লিখছেন নিরলস।

. . .

পারভেজ রশীদ মঙ্গল : অবদায়ক : থার্ড লেন স্পেস.কম

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 5 / 5. Vote count: 15

No votes so far! Be the first to rate this post.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *