সেতু ভাই, আপনার আলোচনায় মিশেল ফুকোর অবতারণা যেমন অনিবার্য মানতে হবে, অন্যদিকে এর ফলে ঝুঁকি ও ভুল বোঝার সম্ভাবনা তা তৈরি করে। নাগরী লিপিকে ভিত্তি ধরে সিলেটি ভাষাকে বাংলা থেকে স্বতন্ত্র ভাষারূপ দাবি করাটা তার মধ্যে অন্যতম। আপনি যদিও এর যৌক্তিকতা ও অযৌক্তিকতা দুটোই আলোচনায় ভালোই টেনেছেন।
-
-
ফ্যাক্ট চেকিং তথ্যকে ঠিক করতে পারে, কিন্তু ‘সত্য’ তৈরি করতে পারে না। কেননা, সত্য নিছক সঠিক তথ্য নয়, তা হলো একধরনের প্রতিশ্রুতি এবং বয়ানগত অর্থ ও স্থায়িত্ব।
-
ফুকো এখানে এসে ফের বাগাড়া দিচ্ছেন। তিনি দেখাচ্ছেন,—সত্যজ্ঞান ততক্ষণ সত্যজ্ঞান হয়ে থাকে, যতক্ষণ ক্ষমতা-কাঠামোয় উৎপাদিত প্রাতিষ্ঠানিকতার বাইরে সে সক্রিয় থাকছে। প্রাতিষ্ঠানিক বলয়ের ভিতরে গমনের আগে পর্যন্ত তাকে আমরা নিষ্কলুষ ও সত্যভাষীর ভূমিকায় মনোরম দেখতে পাই। কোনো একভাবে ওই কাঠামোয় যদি তার প্রবেশ ঘটে যায়,—একই সত্যজ্ঞান তাৎক্ষণিক দূষিত বর্জ্য হয়ে ওঠে।
-
অন্ধ এই Growth Compulsion—এর উৎস কী? হান বলছেন,—প্রবৃদ্ধির এই অন্ধপ্রেরণা আসে গভীর Ontological ভয় থেকে। আর তা হলো মরণের ভয়। পুঁজিবাদে মানুষ ধ্বংস হতে চায় না। ক্ষয়প্রাপ্ত হতে চায় না। হারিয়ে যেতে চায় না। অস্তিত্বকে সে তাই সঞ্চয়, উন্নয়ন ও অর্জনের মতো ন্যারেটিভে অবিনাশী রাখতে মরিয়া হয়। Capital is accumulated as a defence against death, against absolute loss.—পুঁজির মধ্যে মানুষ…
-
হাক্সলি ও অরওয়েল যে-দুটি পথ তাঁদের আখ্যানে তুলে ধরেছেন, দুটিই কিন্তু মারাত্মক! সমাজকে চিন্তাশূন্য স্থবির শৃঙ্খলায় বেঁধে বিমানবিক করতে ভয়ানক কার্যকর। উভয় সমাজে মানব প্রজাতি প্রকৃতপক্ষে একসময় নিজের ওপর সেন্সর আরোপ করে বসে ও অবোধ অভ্যাসের দাসে পরিণত হয়।