‘না না, আসলে হাসপাতাল না, আমি একটু নদীর ধারে, পানির কাছে যেতে চাই’—বিড়বিড় করে বলা কণ্ঠস্বরও সবাই কীভাবে-যে শুনতে পায়! তারপর সবগুলি মুখ কেমন চুপসে যায়। কেউ একজন থমথমে গলায় বলে—‘এখানে নদী কোথায়? দেখছো না কেমন কালো আর কংক্রিট।’
-
-
‘আমারে সবাই লাফ দেওয়া শিখাতে চাইছ, দড়ি লাফ, সিঁড়ি লাফ। তুমি দেখাইছ কেমনে এক ছাদ থেইকা আরেক ছাদে লম্বা লাফ। কিন্তু কেউ আমারে মাপ দেওয়া শিখায় নাই। ঠিক মতো মাপতে শিখলে কি ওই চিপার মইধ্যে পইড়া যাইতাম!’
-
এরকম শ্বাসরুদ্ধকর দুপুরে দূরের টেলিগ্রাফের খাম্বাকেও অপরিচিত লাগছে তার। একটু দূরে উড়ে বেড়ানো কালো ফিঙে পাখি, এর মত্ত, তিরতির, মসৃণ পালকে বলক তোলা দেখে আগে কত উচ্ছসিত হয়েছে! কি স্বাধীন এইসব পাখি! বছর পাঁচেক আগে সে নিজেও ঢাকায় ইডেন কলেজ প্রাঙ্গনে এমন করেই ঘুরেফিরে বেরিয়েছে। শিরিন আলতো হাত বুলিয়ে আদর করে নিজের পেট।