অন্ধ এই Growth Compulsion—এর উৎস কী? হান বলছেন,—প্রবৃদ্ধির এই অন্ধপ্রেরণা আসে গভীর Ontological ভয় থেকে। আর তা হলো মরণের ভয়। পুঁজিবাদে মানুষ ধ্বংস হতে চায় না। ক্ষয়প্রাপ্ত হতে চায় না। হারিয়ে যেতে চায় না। অস্তিত্বকে সে তাই সঞ্চয়, উন্নয়ন ও অর্জনের মতো ন্যারেটিভে অবিনাশী রাখতে মরিয়া হয়। Capital is accumulated as a defence against death, against absolute loss.—পুঁজির মধ্যে মানুষ…
-
-
কোনো জাতিকে স্মৃতিহীন করার পয়লা কদম হচ্ছে স্মৃতি মুছে ফেলা। বইগুলো ধ্বংস করো, তার সংস্কৃতি ও ইতিহাস গুঁড়িয়ে দাও। তারপর নতুন কেউ নতুন বই লিখবে। নতুন সংস্কৃতি পয়দা করবে, নয়া ইতিহাস লিখবে। জাতি ভুলে যেতে বসবে সে কে ছিল বা অতীতে কী ছিল পরিচয়। ক্ষমতার বিরুদ্ধে মানুষের সংগ্রামের অর্থই হচ্ছে বিস্মৃত হওয়ার বিরুদ্ধে সংগ্রাম।
-
হাক্সলি ও অরওয়েল যে-দুটি পথ তাঁদের আখ্যানে তুলে ধরেছেন, দুটিই কিন্তু মারাত্মক! সমাজকে চিন্তাশূন্য স্থবির শৃঙ্খলায় বেঁধে বিমানবিক করতে ভয়ানক কার্যকর। উভয় সমাজে মানব প্রজাতি প্রকৃতপক্ষে একসময় নিজের ওপর সেন্সর আরোপ করে বসে ও অবোধ অভ্যাসের দাসে পরিণত হয়।
-
বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি মানুষের প্রতিটি পদক্ষেপকে পর্যবেক্ষণে রাখে। স্মার্টফোন, ইন্টারনেট, ক্যামেরা,—সবকিছু তার গতিবিধি অনুসরণ ও লিপিবদ্ধ রাখায় নিয়োজিত। মানুষ এখন ‘ডিজিটাল প্যানোপটিকন’ (digital panopticon)-এ বসবাস করে। নিজেও জানে না,—তাকে সেখানে কারা, কখন ও কীভাবে নজরে রাখছে। নজরদারির ভয় তাকে তাড়া করে বেড়ায়! ওই ভয় থেকে স্বেচ্ছায় তার আচরণ পালটে নিচ্ছে সে। নিজেকে নিয়ন্ত্রিত রাখার অভ্যাস তার মধ্যে তীব্র হতে দেখছি…
-
আধুনিক পুঁজিবাদ এমনভাবে গঠিত, জীবনের ওপর মৃত্যুকে চাপিয়ে দিয়ে সে লাভ তুলে আনতে চায়। দশকের-পর-দশক ধরে এই-যে এতোসব যুদ্ধবিগ্রহ বিশ্ব দেখেছে, যার সিংহভাগ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তির মদদ ও ইন্ধনে সৃষ্ট, এর নেপথ্য কারণ শুভব্রতের বাক্যে ধরা পড়েছে। কথা একটাই সেখানে,—মুনাফাচক্রে যে-জীবন নিজের ভূমিকা নেভাতে পারবে না, তাকে ছেটে ফেলো।