পাঠক টের পান—যা লেখা হয়নি, তার মাঝেই নিহিত থাকে পাঠের সবচেয়ে গভীর অর্থ। অলিখিতই হয়ে ওঠে জাগ্রত বাক্য। অবশেষে আসে এক নীরব উচ্চতা—যেখানে শব্দ ফুরিয়ে যায়, অর্থ ঝরে পড়ে, কেবল অনুভবের আলো জেগে থাকে। পাঠক বুঝে নেন—পাঠের চূড়ান্ত অর্থ কোনও উত্তর পাওয়া নয়, বরং উত্তরহীনতার সঙ্গে মৈত্রী স্থাপন করা। টের পান, প্রতিটি বই আসলে একটিই বই; মহাকালের প্রান্তরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা…
-
-
ফুকো এখানে এসে ফের বাগাড়া দিচ্ছেন। তিনি দেখাচ্ছেন,—সত্যজ্ঞান ততক্ষণ সত্যজ্ঞান হয়ে থাকে, যতক্ষণ ক্ষমতা-কাঠামোয় উৎপাদিত প্রাতিষ্ঠানিকতার বাইরে সে সক্রিয় থাকছে। প্রাতিষ্ঠানিক বলয়ের ভিতরে গমনের আগে পর্যন্ত তাকে আমরা নিষ্কলুষ ও সত্যভাষীর ভূমিকায় মনোরম দেখতে পাই। কোনো একভাবে ওই কাঠামোয় যদি তার প্রবেশ ঘটে যায়,—একই সত্যজ্ঞান তাৎক্ষণিক দূষিত বর্জ্য হয়ে ওঠে।
-
মহাবিশ্বের পরিণতি ও ভূত-ভবিষৎ নিয়ে গুরুতর কিংবা বোকাসোকা প্রশ্নের জবাব বালকটি এভাবে জিভ বের করে দিতে জানে। আমার মনে পড়ছিল গণিতে আবারো ডাহা ফেল বালক আইনস্টাইনের কান পাকড়ে জানতে চাইছি.—মহাবিশ্বের সূত্র সে মিলাতে পেরেছে কি-না! তার কাছে একে কী মনে হয় দেখে। মহাবিশ্ব আসলেই দেখতে কেমন! বালক তার দুষ্টুমিভরা চোখ বড়ো করে তুলেছিল, আর জিভ বের করে বুঝিয়ে দিয়েছিল,—মহাবিশ্ব আসলেই…
-
যেখানেই থাকুন কবি, কবিতায় আর গানের টানে বোনা এই গানালেখ্যটি আপনার কাছে পৌঁছে যাবেই যাবে। জানবেন, আমরা আপনাকে আজো ভুলিনি। আপনি আছেন মনের তারায় অভিশাপ হয়ে। থাকবেন, যতদিন আমাদের আয়ু রয়েছে ধরায়। যতদিন, আমরা শিকার হইনি বিস্মরণের!
-
অমিয় চক্রবর্তীর ‘সংগতি’র একখানা সারমর্ম আমরা পেলাম এখন। শহীদ কাদরী অ্যানকাউন্টার টানলেন,—মেলানোর আশা সহজ প্রাকৃতিক হলেও কোনো অঙ্কই অদ্য আর মিলবে না। নাতিদীর্ঘও নয় কবিতাটি;—যদি অমিয় চক্রবর্তীর পাশাপাশি তাকে রাখি। তার মধ্যেই ধরা পড়েছে মানব-ইতিহাসের লক্ষ বছরের আবর্তন। ধরা পড়েছে তার অবিরত গড়িয়ে পড়ার হাস্যকর পরিহাস।