• নেটালাপ - পোস্ট শোকেস

    বই পড়া ও না-পড়ার ফজিলত-২

    বইপ্রেমীরা কি আসলেও বই পাঠ করে? আমার মনে হয়, জরিপ করলে ভিমড়ি খাওয়ার মতো তথ্য পাওয়া যাবে। দেখা যাবে,—আকাটের দল বই জমায়, কিন্তু পড়ে না। পড়া ও পড়ার ভান করা পৃথক ঘটনা। তবে এই-যে তারা পড়ে না, তাতে আমি আনন্দিত। সভ্যতা এতো-এতো বেশি বইয়ে বোঝাই হয়ে আছে, মানুষের হয়তো প্রয়োজন আছে পুনরায় মূর্খ হওয়ার। মূর্খতা নিয়ে আসতে পারে অজ্ঞতা ও…

  • পোস্ট শোকেস - সাহিত্যবাসর

    লেখা কি মনোরঞ্জন?

    সুনীল-শীর্ষেন্দু-সমরেশরা যদি পরপর পাঁচটা লেখেন, তার চারটা দায় পূরণের খাতিরে তাঁদেরকে লিখতে হয়েছে, একটা-যে এর মধ্য দিয়েও বেরিয়ে আসেনি তা কিন্তু নয়। কমলকুমারের সঙ্গে পার্থক্য,—তিনি এই চাপ বুঝেশুনেই ঘাড়ে নেননি। মর্জিমতো লিখছেন। ছাপানো দরকার মনে হলে ছোটকাগজে ছেড়ে দিয়েছেন। লেখনক্রিয়াকে এভাবে উপভোগ করছেন কমলকুমার। সুনীলরা ওই কাজটা বড়ো পাঠকবৃত্তের খোরাক মিটাতে লাগাতার লেখা সরবরাহ করার মধ্য দিয়া সারছিলেন। প্রেক্ষাপট সুতরাং…

  • দেখা-শোনা-পাঠ - পোস্ট শোকেস

    লেডি গাগা : “দ্য মাদার মনস্টার”

    সমাজের সঙ্গে গাগার সংলাপ সরাসরি। মুখাবরণ-এ (Aura) মর্মরিত ভাষায় তাঁকে কি আমরা বলতে শুনিনি : Do you wanna see the girl who lives behind the aura? বোরখার আড়ালে যে-নারীদেহ রয়েছে, তাকে দেখতে চাও তুমি? গাগা এখানে বন্দুক হাতে বোরখায় নিজের মুখ আড়াল করছেন। পিছনে সক্রিয় যৌনহিংসার ইঙ্গিত। গানটিকে জেন্ডার প্যারোডি না-বলে উপায় থাকে না। বোরখা সেখানে পবিত্র শালীনতার চিহ্ন হওয়ার…

  • নেটালাপ - পোস্ট শোকেস

    বই পড়া ও না-পড়ার ফজিলত-১

    পাঠক টের পান—যা লেখা হয়নি, তার মাঝেই নিহিত থাকে পাঠের সবচেয়ে গভীর অর্থ। অলিখিতই হয়ে ওঠে জাগ্রত বাক্য। অবশেষে আসে এক নীরব উচ্চতা—যেখানে শব্দ ফুরিয়ে যায়, অর্থ ঝরে পড়ে, কেবল অনুভবের আলো জেগে থাকে। পাঠক বুঝে নেন—পাঠের চূড়ান্ত অর্থ কোনও উত্তর পাওয়া নয়, বরং উত্তরহীনতার সঙ্গে মৈত্রী স্থাপন করা। টের পান, প্রতিটি বই আসলে একটিই বই; মহাকালের প্রান্তরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা…

  • আসুন ভাবি - পোস্ট শোকেস

    জ্ঞান বনাম ক্ষমতা : ফুকো-চমস্কি বিতর্ক

    ফুকো এখানে এসে ফের বাগাড়া দিচ্ছেন। তিনি দেখাচ্ছেন,—সত্যজ্ঞান ততক্ষণ সত্যজ্ঞান হয়ে থাকে, যতক্ষণ ক্ষমতা-কাঠামোয় উৎপাদিত প্রাতিষ্ঠানিকতার বাইরে সে সক্রিয় থাকছে। প্রাতিষ্ঠানিক বলয়ের ভিতরে গমনের আগে পর্যন্ত তাকে আমরা নিষ্কলুষ ও সত্যভাষীর ভূমিকায় মনোরম দেখতে পাই। কোনো একভাবে ওই কাঠামোয় যদি তার প্রবেশ ঘটে যায়,—একই সত্যজ্ঞান তাৎক্ষণিক দূষিত বর্জ্য হয়ে ওঠে।