এই ভাষাগত কাঠামো নাগরিক প্রতিরোধকেও দুর্বল করে। প্রতিরোধের জন্য তো প্রথম প্রয়োজন সঠিক নামকরণ। আসলে যে-সহিংসতাকে ‘বিক্ষোভ’ বলা হয়, তার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো কঠিন; যে-আক্রমণকে ‘ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ’ বলা হয়, তাকে অপরাধ হিশেবে চিহ্নিত করাই যেন অমানবিক মনে হয়। ফলে নাগরিক প্রতিবাদ বিভ্রান্ত হয়। কাকে প্রতিহত করা হবে, কীসের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে, সেই প্রশ্নেই বিষয়টি থমকে যায়।
-
-
কুকুর আগলে রাখে ছানা, গন্ধ শুঁকে বের করে আনে পাপ— তোমাদের যত অপরাধ! কুকুর শিশু বোঝে, তোমরা কি শিশু বোঝো হে মানুষ?
-
ভূমির প্রশ্ন—এখনও সভ্যতার যুদ্ধক্ষেত্র। কিন্তু এসবের বাইরেও খেতের একটি অন্যরকম ভূমিকা আছে। মানুষ মৃত্তিকাকে মা বলে—কারণ মৃত্তিকা সন্তানকে ধারণ করে, প্রতিপালন করে, আর শস্যের রূপে ফিরিয়ে দেয় ভালোবাসা—জীবন। মানুষ যখন একটি শস্যভরা খেতের দিকে তাকায়—সে দেখে নিজেরই প্রতিচ্ছবি—মৃত্তিকার সন্তান হয়ে আকাশপানে ওঠার সংগ্রাম।
-
হোসনে আরা কামালীর কবিতা কখনও যেন শূন্যে আলো ফেলার মতো—নিঃশব্দ অথচ দীপ্তিমান। তিনি নির্মাণ করেন এক গভীর সংবেদনশীল প্রতীকময় কবিতাভুবন।... নিকট থাকো বৃক্ষ এক আত্মগভীর যাত্রাপথের পথিকসঙ্গী। জীবনের পরতে-পরতে জমাটবাঁধা স্মৃতি-বিস্মৃতি, আনন্দ-বেদনা, প্রেম-বিরহ কামালীর কবিতায় ফুটে ওঠে শরত-প্রভাতে শাপলাবিলের মতোই। একজন সমাজচিন্তকের ভাবনারাশিও তাঁর কবিতা-অক্ষরে জ্বলজ্বল করে। পাঠক-হৃদয়ে তারা বুনে দেয় নিকটতার বৃক্ষ। এই বৃক্ষ ছায়া দেয়, বাতাস দেয়, কখনও-বা…
-
কবি ফজলুররহমান বাবুলের তুমি তেমনই বৃক্ষ জ্বর ও জ্বরবিহীন… দুরকম পরিস্থিতিতে বসে পড়া যায়। পড়তে-পড়তে এর সহজতাকে আলিঙ্গন করতে ইচ্ছা করে। কোনো কবিই সম্ভবত ইচ্ছে করে কঠিন লিখতে চায় না। লেখেও না। সে কেবল তার সত্তার মর্মরধ্বনি শব্দজালে ধরতে উতলা বোধ করে। অজান্তে তা কখনো-কখনো জটিল ও দুরারোহ হয়ে পড়ে!